জেলা

ইকবাল আহমেদ প্রয়াত কলকাতায় ভোটের আগেই, বিতর্কের মধ্যেই রাতে শোকবার্তা মমতার

২০১১ ও ২০১৬ সালে ইকবাল আহমেদ হুগলির খানাকুল বিধানসভা থেকে নির্বাচিত বিধায়ক হন। যদিও ২০২১ সালে তাঁকে তৃণমূল আর প্রার্থী করেনি। সেবার তৃণমূলের মুন্সি নাজিবুল করিম হেরে যান বিজেপির সুশান্ত ঘোষের কাছে। কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়র হওয়ার পর অসুস্থতার কারণে সেই পদও খুইয়েছিলেন ইকবাল।

ইকবাল আহমেদ প্রয়াত। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৬৮। পরিবার সূত্রে খবর, ডায়াবেটিস আক্রান্ত ইকবাল বছর চারেক সেভাবে বাড়ির বাইরে বের হতেন না।

অন্যান্য রোগও জাঁকিয়ে বসেছিল। হারাচ্ছিলেন স্মৃতিশক্তি। অবশেষে আজ দুপুরে রিপন স্ট্রিটের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ওয়ানইন্ডিয়া বাংলার প্রতিবেদন লেখা অবধি তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা কিংবা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শোকবার্তা আসেনি।

ইকবাল আহমেদের প্রয়াণে লেগেছে রাজনৈতিক রং। বিরোধীদের কটাক্ষ, কলকাতা নাইট রাইডার্স যেখানে আইপিএল জেতার কয়েক মিনিটের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে টুইট করেন কিংবা বিশিষ্ট কারও প্রয়াণের খবর পেলেই তিনি এক্স, ফেসবুক, এমনকী নবান্নে সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সরকারিভাবে শোকবার্তা জানান সেখানে দলেরই প্রাক্তন বিধায়কের মৃত্যুতে মমতা কেন রাত অবধি নীরব? শোকবার্তা প্রকাশ করেননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কলকাতায় কাল ভোট। যেহেতু ইকবালের নাম জড়িয়েছিল নারদ কাণ্ডে, সেই অস্বস্তি ঢাকতেই কি নির্বাচনের আগের দিন ইকবালের মৃত্যুর পরেও উদাসীন তৃণমূল?

ইকবাল আহমেদ হলেন প্রাক্তন সাংসদ সুলতান আহমেদের ভাই। সুলতানের স্ত্রী সাজদা আহমেদ উলুবেড়িয়া লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ, এবারেও তাঁকেও সেই আসনে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। ইকবালের কন্যা সানা কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর। জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা বলেছেন ইকবালের পরিবারের সঙ্গে।

২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের বেশ কয়েকজন সাংসদ, মন্ত্রীর নাম জড়িয়েছিল নারদ স্টিং অপারেশনে। নারদ ফুটেজে দেখা গিয়েছিল সুলতানকেও। তাঁকে বেশ কয়েকবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। সুলতানের মৃত্যুর খবর পেয়েই ছুটে গিয়েছিলেন মমতা।

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যেভাবে মানসিক চাপ তৈরি করেছিল তাকেও সুলতানের মৃত্যুর অন্যতম কারণ বলে তুলে ধরেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। এই নারদ কাণ্ডের তদন্তেই ইকবালকেও তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে। অভিযোগ, নারদ স্টিং অপারেশনের সময় ম্যাথু স্যামুয়েলকে দলের বিভিন্ন নেতাদের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন ইকবালই

এই বিতর্কের মধ্যেই রাত ১০টা ২১ মিনিটে এক্স হ্যান্ডলে টুইট করে শোকপ্রকাশ করে ইকবালের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দেন মমতা।

Related Articles

Back to top button