রাজ্য

দিলীপ এর হার এ পিছনে গভীর চক্রান্ত?

বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা আসনে এবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কীর্তি আজাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী দিলীপ ঘোষের সঙ্গে। ৪ জুন ফলাফল ঘোষণা হলে দেখা যায় দিলীপ ঘোষ লক্ষাধিক ভোটে কীর্তি আজাদের কাছে হেরে গিয়েছেন। দিলীপ ঘোষের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীর এমন বিপুল ভোটে পরাজয় হতবাক করে দেয় বিজেপি কর্মীদের। আর পরাজিত হয়ে দিলীপ ঘোষ ইঙ্গিতপূর্ণভাবে নিজের দলের বিরুদ্ধেই ‘চক্রান্ত’ ও ‘কাঠিবাজি’র অভিযোগ তোলেন। এর পর কয়েক দিন যেতে না যেতে ১৫ জুন দেবাশিস সরকার ও পিন্টু সাহা নামে দুই ব্যক্তি চমকে দেওয়ার মতো একটা ছবি সামাজিক মাধ্যমে (ফেসবুকে) পোস্ট করেন এবং নানা প্রশ্ন তোলেন । আর ওই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে জেলা বিজেপি শিবিরে।

লোকসভা ভোটে পরাজিত হয়েই ‘চক্রান্ত’ ও ‘কাঠিবাজি’ তত্ত্ব খাড়া করেছিলেন দিলীপ ঘোষ। বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থীর আনা এই অভিযোগ বঙ্গ বিজেপি শিবিরেও তোলপাড় ফেলে দেয়। আর এবার সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি ভাইরাল করে দিলীপ ঘোষের আনা অভিযোগকে উসকে দিয়েছেন

বিজেপিরই লোকজন। যে ছবিতে ধরা পড়েছে দিলীপ ঘোষের প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল প্রার্থী কীর্তি আজাদের সঙ্গে বিজেপির হয়ে স্ট্রংরুম পাহারার দায়িত্বে থাকা যুবক মিঠুন মণ্ডলের ঘনিষ্ঠতা।

এখানেই শেষ নয়, মিঠুন মণ্ডল তাঁর ব্যাখ্যায় এও জানান, তৃণমূল ও সিপিএমের অনেকেও দিলীপ ঘোষের সঙ্গে ছবি তুলেছে। তাহলে সেটা কি দিলীপ ঘোষের অপরাধ? যদি তা না হয় ,তাহলে তিনি ক্রিকেটকে ভালবেসে একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে ছবি তুলে কি করে অপরাধী হয়ে গেলেন? মিঠুন বলেন, ‘আসলে আমি সংখ্যালঘু পরিবারের ছেলে হয়েও আন্তরিকভাবে বিজেপি পার্টিটা করে যাচ্ছি। বর্ধমান উত্তর বিধানসভার ২ নম্বর মণ্ডলে বিজেপির হয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছি। এটা লবিবাজরা মেনে নিতে পারছে না। তাই একটা ছবিকে সামনে রেখে লবিবাজরা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমার বদনাম করছে। ওদের জন্যেই আমি দিলীপ ঘোষের কাছে এখন মুখ দেখাতে পারছি না।’

এদিকে যাঁকে নিয়ে এত হইচই সেই মিঠুন মণ্ডল অবশ্য সদর্পেই কীর্তি আজাদের সঙ্গে তাঁর ছবি তোলার কথা স্বীকার করেছেন। এমনকী এ নিয়ে কোনও রাখঢাক না রেখে তিনি তৃণমূল প্রার্থী কীর্তি আজাদের সঙ্গে ছবি তোলার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। মিঠুন তাঁর ব্যাখ্যায় বলেন, ‘আমি ক্রিকেট খেলা ভালোবাসি। তাই বিজেপির হয়ে স্ট্রং রুম পাহারায় থাকার সময়ে আমি ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার কীর্তি আজাদের সঙ্গে ‘সেলফি’ তুলেছিলাম। এছাড়া এর মধ্যে আর কোনও ব্যাপার ছিল না।’ সেই ছবি তাহলে অন্যরা পেল কী করে? এর উত্তরে মিঠুন বলেন, ‘আমার ফোন থেকে কোনওভাবে ওই ছবিটা হাতিয়ে নেয় আমার দলের-ই লবিবাজরা। তারাই ভোটের ফল প্রকাশের পর ওই ছবির সাথে আমার সম্পর্কে নানা মিথ্যা কথা লিখে পোস্ট করেছে। তৃণমূলের সঙ্গে আমার নাকি ‘সেটিং’ হয়েছে বলেও তারা বদনাম দিচ্ছে।’

একই ছবি একই দিনে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করার কথা স্বীাকার করেন মেমারির দেবীপুরের বাসিন্দা পিন্টু সাহাও। তিনি বলেন, ‘একদা আমি মেমারির একটি মণ্ডলের বিজেপির সহ-সভাপতি এবং সম্পাদকের পদ সামলেছি। দলীয় কোন্দলের কারণে বর্তমানে আমি পদহীন। এহেন পিন্টু ঘোষ কীর্তি আজাদের সঙ্গে মিঠুন মণ্ডলের ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন। তিনি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘তৃণমূল প্রার্থীর সঙ্গে ভাইরাল হওয়া ব্যক্তিটি বর্ধমান উত্তর বিধানসভার অন্তর্গত ২ মণ্ডলের মিঠুন মণ্ডল। ইনি গত ১৩ মে ২০২৪ থেকে বর্ধমান ইউআইটিতে বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষের হয়ে স্ট্রং রুমে ইভিএম পাহারার দায়িত্বে ছিলেন। ওঁকে এতবড় গুরু দায়িত্ব কোন জাদু বলে দেওয়া হল, কে দিল?’ পিন্টু সাহা এও বলেন,দিলীপ ঘোষের মতো বলিষ্ঠ নেতার আনা চক্রান্তের অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ হচ্ছে তাঁর পোস্ট করা ছবি।

বিজেপির কিষাণ মোর্চার প্রাক্তন পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতি দেবাশিস সরকার বর্তমানে একই সংগঠনের রাজ্য কমিটির সদস্য। তাঁকে ফোন করা হলে তিনি ওই ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করার কথা স্বীকার করেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দলের অনেকেরই হোয়াটসঅ্যাপে এখন ওই ছবি ঘুরছে। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড
প্রমাণ করে দিচ্ছে ভোট গননার আগে বর্ধমানের ইউআইটি স্ট্রং রুমের সামনে ওই ছবিটি তোলা হয়েছে। যে ছবিতে তৃণমূল প্রার্থী কীর্তি আজাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে ধরা পড়েছে বিজেপির হয়ে বর্ধমানের ইউআইটিতে স্ট্রং রুমে ইভিএম পাহারার দায়িত্বে থাকা মিঠুন মণ্ডলের। এই ঘনিষ্ঠতা চক্রান্তের তত্ত্বকেই উসকে দিচ্ছে।’ ওই বিজেপি নেতার কথায়, ‘কে এই মিঠুন মণ্ডল, কি তার আসল রূপ? কারা কোন উদ্দেশ্যে তাঁকে স্ট্রং রুম পাহারার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ করেছিল তার তদন্ত হওয়া দরকার’।

Related Articles

Back to top button