রাজ্য

ভোট পরবর্তী হিংসা হাইকোর্টের বড় বার্তা।

ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দ ও বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের গ্রীস্মাবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ রাষ্ট্রবাদী আইনজীবী সংগঠন। দুপুর দুটোর পর থেকে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি শুরু হয়।

শুনানিতে বিচারপতি কৌশিক চন্দ বলেন, এরাজ্যের ক্ষেত্রে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস কোন অপরিচিত শব্দ নয়। বিধানসভা ভোটের পুনঃরাবৃত্তি লোকসভাতেও, তা নিয়েও কড়া পর্যবেক্ষণ করে কলকাতা হাইকোর্ট। এরপরেই বিচারপতি কৌশিক চন্দ ও বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের নির্দেশ, হিংসার ঘটনা ঘটলে সরাসরি রাজ্যের ডিজিকে ই-মেল মারফত অভিযোগ জানানো যাবে।

নির্বাচন মিটতেই হিংসা বাংলা জুড়ে। কলকাতা সহ একের পর এক জেলায় আক্রান্ত হতে হচ্ছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। বাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন বহু নেতা। শুধু বিজেপি নয়, কলকাতায় আক্রান্ত বাম কর্মীরাও। একের পর এক জায়গায় সিপিএমের পার্টি অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে।

এই অবস্থায় কড়া পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাইকোর্টের। শুধু তাই নয়, লোকসভা ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটলে সরাসরি রাজ্যের ডিজিকে ই-মেল মারফত অভিযোগ জানাতে পারবেন আক্রান্ত ব্যক্তি। এমনটাই নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের।

ধর্তব্যযোগ্য বা আদালতগ্রাহ্য অপরাধ হলে সঙ্গে সঙ্গে ডিজি স্থানীয় থানাকে উপযুক্ত ধারায় FIR দায়ের করার নির্দেশ দেবেন। FIR দায়ের করার পর উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে পুলিশ। নির্দেশ বিচারপতি কৌশিক চন্দের ডিভিশন বেঞ্চের।

আদালতের এহেন রায়ের পরেও কার্যত হিংসা অব্যাহত। বিজেপি’কে ভোট দেওয়ার অপরাধে বিজেপির এক বুথ সভাপতির দাদার দোকানে ভাঙচুর। দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর নিউমার্কেট এলাকায় দোকান ঘর ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে।

শুধু তাই নয়, রাজ্যে কয়টি ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের অভিযোগ এসেছে এবং কয়টি ক্ষেত্রে FIR দায়ের হয়েছে তা নিয়ে পুলিশ কি পদক্ষেপ নিয়েছে সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট রাজ্যের ডিজিকে জমা দিতে হবে। নির্দেশ আদালতের।

পাশাপাশি FIR দায়েরের সঙ্গে সঙ্গে সেটা রাজ্য পুলিশের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে। FIR হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন পড়লে রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী পদক্ষেপ করবে বলেও এদিন নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের।এই প্রসঙ্গে বিচারপতি চন্দের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, আমরা রাজ্যের সমস্ত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। সরকার যদি রাজ্যবাসীর জীবনরক্ষায় ব্যর্থ হয় তাহলে আদালত উপযুক্ত নির্দেশ দেবে। এমনকি পাঁচ বছর রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী রেখে দেওয়া নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ডিভিশন বেঞ্চের।

Related Articles

Back to top button