জেলা

লকডাউন এর ফলে কলকাতা থেকে সুন্দরবনের চিত্র টা একটু অন্যরকম।

সুন্দরবনের ক্যানিং মহাকুমার হাতেগোনা কয়েকটি ব্লকের সপ্তাহে দুদিন হাট বসে,তার উপরে নির্ভর করে চলে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা রুটি-রোজগারের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস। সারা ভারতবর্ষে লকডাউন এর ফলে প্রত্যান্ত সুন্দরবন বাসিরা অসহায় অবস্থায় পড়ে গিয়েছে, জীবন-জীবিকা চলা অসম্ভব। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিভাবে তারা জোগাড় করবে, গ্রাম গঞ্জের ছোট ছোট দোকান ও রাস্তাঘাটে মানুষের আবাদে দেখা যাচ্ছে।লকডাউনকে অনেকে তোয়াক্কাই করছেন না। সেইসঙ্গে রাজ্যগুলির উদ্দেশে বলেছিলেন, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। ঘরে থাকার আর্জি জানিয়ে আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রীও। পশ্চিমবঙ্গ সরকার জানিয়েছে, লকডাউনের নির্দেশিকা না মানলে আইন মোতাবেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। নির্দেশ অমান্য করলেই হাজার টাকা জরিমানা বা ৬ মাসের কারাবাসের শাস্তি হবে, এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্র। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৮৮ নম্বর ধারায় এই শাস্তি বলবৎ হবে। তবে, একাংশের তাতেও হুঁশ ফিরছে না।
লকডাউন ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পরও মঙ্গলবার সকালে প্রাতঃভ্রমণ করেও অনেককে ফিরতে দেখা যায়। রাস্তায় অনেকেই বেরিয়েছেন। সোমবার রাতে কলকাতার অলিতেগলিতে চলছিল আড্ডা, জটলা। পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে। সকালে একই চিত্র ধরা পড়ে পার্ক সাকাসে। কয়েকজনকে উদ্দেশহীনভাবে ঘুড়ে বেড়াতে দেখা যায়। একই চিত্র ধরা পড়েছে জেলাগুলিতেও। সিউড়িতে লকডাউন অমান্য করায় আটক করা হয় ৪ জনকে। সরকারি নির্দেশকে অমান্য করে ময়নাগুড়ির নতুন বাজারে বসল হাট। অন্যদিকে বাসন্তী হাইওয়ে গায়ে বাজারে মঙ্গলবার হাট বসেছিল হাতেগোনা কয়েকজন সবজি বিক্রেতা রা এসেছিলো। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বাজারের সমস্ত সবজি প্রায় শেষ, বেশকিছু মানুষ ঘুরে চলে গেছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এদের নিত্যপ্রয়োজনীয় আসবে কিভাবে সবজি আর অন্যান্য জিনিস। অন্যদিকে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী একসাথে চারজন আরো বেশি দেখা মিলবে না। গ্রাম বাংলার ছবি তো সেটা করলে মানুষের অন্য টুকু আর জুটবে না।একদিকে করোনা ভাইরাস নিয়ে মহামারী অন্যদিকে পেটের দায়, কি করবে সাধারণ ঘরের মানুষ ভেবে পাচ্ছেনা ক্যানিং বাসিরা।

অন্যদিকে করোনাভাইরাস কে নিয়ে তেমন তারা সজাগ নয়।দুবেলা-দুমুঠো খাবার জন্য তো গ্রাম গঞ্জের মানুষ রাস্তাঘাটে বের হতে বাধ্য হচ্ছে,এদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস গুলো কিভাবে পাবে সে নিয়ে দিশেহারা অনেকেই। এদিকে কলকাতা শহরতলি ছবিটা ঠিক অন্যরকম,এই সময়ে কালোবাজারির সম্ভাবনা থাকে। তবে কয়েকটি জায়গা ছাড়া শহরের বেশিরভাগ বাজারে সবজি মাছের দাম এখনও স্বাভাবিক রয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে।সবজি : খোলা বাজারে জ্যোতি আলু ১৮-২২টাকা প্রতিকিলো, চন্দ্রমুখী আলু ২৬ টাকা কিলো , পেঁয়াজ ৩০ টাকা প্রতিকিলো, আদা ১২০ টাকা প্রতিকিলো, কুমড়ো ২৫-৩০ টাকা প্রতিকিলো, ফুলকপি প্রতি পিস ৩০ টাকা। উচ্ছে ১০০ টাকা প্রতিকিলো, পটল – ৮০ টাকা প্রতিকিলো, এঁচর – ৫০ টাকা প্রতিকিলো। বেগুন – ৩০-৪০ টাকা প্রতিকিলো, টমেটো ২০ টাকা প্রতি কিলো, লঙ্কা ১০০ টাকা প্রতিকিলো, গাজর ৪০ টাকা প্রতিকিলো, বাধা কপি – ১৫ টাকা কিলো।মাছ: প্রতিকেজি রুই (গোটা) ১৬০-২২০ টাকা।রুই (কাটা) ২০০-২৫০ টাকা, কাতলা (গোটা) ২৫০-২৮০টাকা, কাতলা (কাটা) ৩৫০-৪০০টাকা, বাটা-১৮০টাকা, ভেটকি ৩৫০-৫০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৫০০-৭০০ টাকা, বাগদা ৬০০-৮০০ টাকা, তোপসে ৬০০-৮০০ টাকা, পমফ্রেট ৫০০- ৬০০ টাকা, চিতল ৭০০-৮০০ টাকা, পাবদা -৫০০-৬০০ টাকা, ট্যাংরা ৫০০-৭০০ টাকা, পার্শে ৩০০-৫০০টাকা।মাংস: মুরগি – ৮০ টাকা কিলো, পাঁঠা ৬৮০ টাকা কিলো।

Related Articles

Back to top button