প্রযুক্তি

কার্ড আটকে গিয়েছে এটিএম থেকে টাকা তুলতে গিয়ে? খোয়া যাবে সর্বস্ব সতর্ক না হলে

নিজস্ব সংবাদদাতা: এটিএম  থেকে টাকা তুলতে গিয়ে মেশিনে কার্ড  আটকে গিয়েছে? তবে খুব সাবধান। বড় আর্থিক প্রতারণার শিকার হতে পারেন আপনি। সম্প্রতিই সাইবার সেল আন্তঃরাজ্য প্রতারণা চক্রের হদিশ পেয়েছে, যেখানে এটিএম থেকে টাকা তোলার সময় প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। পুলিশ ইতিমধ্যেই ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে একাধিক সিমকার্ড, এটিএম কার্ড, নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর প্রদেশের মইনপুরীর।

উত্তর প্রদেশ পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এটিএম থেকে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে ক্রাইম ব্রাঞ্চ শাখা ছয় ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্তরা হলেন সুমিত কুমার, গজেন্দ্র সিং, অনুপ, মবৃহম্মদ মান্টু সহ আরও দুইজন। প্রতারণা চক্রের প্রধানের খোঁজে চলছে তল্লাশি অভিযান।

জানা গিয়েছে, সম্প্রতিই উত্তর প্রদেশের মইনপুরীর গোপালনগরে দুই ব্যক্তি এটিএম প্রতারণার শিকার হন। পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট কমলেশ দীক্ষিত জানিয়েছেন, এই প্রতারকরা শহরের বিভিন্ন প্রান্তের রক্ষীবিহীন এটিএমগুলিকে আগে বেছে নিত, তারপর এটিএমের কার্ড স্লটে আঠা লাগিয়ে দিত। যখনই কোনও ব্যক্তি এটিএম থেকে টাকা তোলার জন্য কার্ড ঢোকাতেন, তখনই কার্ড আটকে যেত। সেই সময়ই পিছন থেকে সাহায্য়ের জন্য এগিয়ে আসতেন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি।

তিনি একটি হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করতে বলতেন। সেখানে ফোন ধরে জানতে চাওয়া হত ব্যাঙ্ক ও এটিএম কার্ডের যাবতীয় ডিটেইলস। এরপর বলা হত কার্ডটি ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। ঘণ্টা খানেক বাদেই গ্রাহক দেখতে পেতেন তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, প্রতারকরা দূর থেকে দাঁড়িয়ে তাদের নিশানাকে বেছে নিত। তারপর একজন ওই ব্যক্তির পিছনে লাইনে দাঁড়াতেন, আরেকজন ভুয়ো হেল্পলাইনের কর্মী হিসাবে কথা বলতেন। তিনিই গ্রাহকের কাছ থেকে যাবতীয় তথ্য হাতিয়ে নিয়ে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নিতেন।

জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের কাছ থেকে নগদ ৭৫ হাজার টাকা, ৪৮টি এটিএম কার্ড, ৬৫ সিমকার্ড, ২টি বেআইনি পিস্তল, ৬টি মোবাইল ফোন ও একটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ তদন্তে নামে। দেখা যায়, সকলেরই এটিএম কার্ড মেশিনে আটকে যাওয়ার পর টাকা খোয়া গিয়েছে। সাইবার সেলের বিশেষজ্ঞরাই রহস্যের উদঘাটন করেন।

Related Articles

Back to top button