শর্টফিল্মের পরিচালক সায়ন ভট্টাচার্য বলেন,আমরা একটা অভিভাবককে হারালাম
রানা বৈদ্য, সাঁইথিয়া :না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলা চলচিত্র জগতের কিংবদন্তী নায়ক সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।মৃত্যুকালে উনার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
সৌমিত্র বাবুর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলি হল অপুর সংসার, চারুলতা, অভিযান, অরণ্যের দিনরাত্রি, অশনি সংকেত, সোনার কেল্লা, জয় বাবা ফেলুনাথ, হীরক রাজার দেশে, ঘরে বাইরে, গণশত্রু, গণদেবতা, ঝিন্দের বন্দী, তিন ভুবনের পারে, ক্ষুধিত পাষাণ, কোনি ইত্যাদি।
এছাড়াও বহু শর্টফিল্মে উনি অভিনয় করেছেন।তেমনই সাঁইথিয়ার শনি-রবি নামক একটি শর্টফিল্মে উনি অভিনয় করেছিলেন।ওই শর্টফিল্মে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পাশাপাশি অভিনয় করেছিলেন রনি দত্ত সহ আরো অনেকে।
ওই শর্টফিল্মের পরিচালক সায়ন ভট্টাচার্য বলেন,আমরা একটা অভিভাবককে হারালাম।উনার সাথে কাটানো সময় আজো আমার চোখের সামনে ভেসে উঠে।অভিনয় জগতের একজন ভগবানকে আমরা হারালাম।
অভিনেতা রনি দত্ত বলেন, আমরা কয়েকজন মিলে একটা শর্টফিল্ম করবো বলে ঠিক করি।আমার বন্ধু তথা পরিচালক সায়ন ভট্টাচার্যকে বিষয়টা জানাই।সায়ন একটা স্ক্রিপ্ট তৈরী করে।
এবং আমাদের ওই শর্টফিল্মে একজন দাদু এবং নাতির গল্প ছিল।সেই দাদূর চরিত্রে সৌমিত্র বাবু ছাড়া আর কাউকে মানাবেনা বলে আমাদের মনে হয়।আমরা তখন আমাদের স্যার তথা অভিনেতা অতুনু বর্মনের সাথে যোগাযোগ করি।উনি আমাদের সাথে সৌমিত্র বাবুর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।এর পর আমরা গল্প নিয়ে উনার সাথে দেখা করি।
উনি সব দেখে শুনে রাজি হয়ে যান।উনার শরীর ঠিক মতো না থাকার জন্য আমরা শোভাবাজারের একটি জায়গায় শুটিং করেছিলাম।এছাড়াও বীরভূম জেলার কোটাসুর এবং সাঁইথিয়ার বিভিন্ন জায়গায় শুটিং হয়েছিল।আমাদের শুটিং শেষের দিকে লকডাউন শুরু হয়ে যায়।এবং আমরা ওই শর্টফিল্মের ডাবিং করা হয়নি।আমরা ঠিক করেছি যে,
আমাদের দৃশ্য গুলো ডাবিং করলেও উনার দৃশ্যগুলোতে অন্য,কাউকে দিয়ে ডাবিং করাবো না।আজ একটা খারাপ খবর পাওয়ার পর থেকে মনে হচ্ছে যে,পুরো বাংলা চলচিত্র জগতের একজন ভগবানকে আমরা আজ হারিয়ে ফেললাম।উনি যেখানেই থাকুন না কেন,উনি ভালো থাকুন,শান্তিতে থাকুন।



