রাজ্য

আলমবাজার শ্মশানঘাটে নির্মমভাবে বস্তিবাসীকে লাঠিচার্জের ঘটনায় বিরোধীমহল নিন্দা করেছেন।

.ঝুম্পা দেবনাথ:-. আলমবাজার; কোভিড-১৯ র প্রভাবে বাংলার আকাশ কালো মেঘে মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আছে। রাজ‍্যের প্রতিটি মানুষ করোনার ভয়ে হয়ে আছেন ভীত- সন্ত্রস্ত। বাংলার মানুষের এই ভয়কে কেন্দ্র করেই গত বুধবার উওর ২৪ পরগনার জেলার বরানগর পৌরসভার অর্ন্তগত আলমবাজার শ্মশানঘাটে অন‍্যান‍্য অঞ্চল থেকে আগত শবদেহকে ঘিরে গন্ডগোলের সুর সপ্তমে ওঠে। পঞ্চাননতলা/ চিনিকুঠি বস্তিবাসীদের এক পক্ষের অভিযোগ, করোনা আক্রান্ত শবদেহকে আলমবাজার শ্মশানঘাটে দাহ করাকে ঘিরে, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আতঙ্কের ভাঁজ পড়ে বস্তিবাসীদের কপালে। এই আতঙ্ককে কেন্দ্র করে শ্মশান ঘাট চত্বরে দলে দলে বস্তির মানুষেরা ভীড় করেন। এই পরিস্তিতিতে বিরাট পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে আসেন এবং বস্তিবাসীদের সাথে তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়েন প্রশাসনের আধিকারিকগণ এবং বস্তিবাসীদের ছত্রভঙ্গ করার উদ্দেশ্যে নির্মমভাবে দরিদ্র, অসহায় বস্তিবাসীদের ওপর লাঠিচার্জ করেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই অঞ্চলের বস্তিবাসীরা। এছাড়াও বস্তিবাসীরা জানান, বিরাট পুলিশবাহিনীর নির্মম লাঠিচার্জ থেকে বাদ যায়নি মহিলা এবং শিশুরাও।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পরদিন সকালেই বরানগর ১ ও ২ কমিটির সি.আই.টি.ইউ এবং সি.পি.এম-র সদস্যমন্ডলীরা পোস্টার হাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মৌন প্রতিবাদ জানান। সকাল থেকেই বস্তিবাসীরা দেখতে পায়,”আলমবাজার অঞ্চলে সাধারণ অধিবাসীদের ওপর অকারন পুলিশি তান্ডবের প্রতিবাদে অবস্থান-বিক্ষোভ”,” পুলিশ তুমি জবাব দাও, গরিব মানুষকে লাঠি পেটা করার অধিকার তোমাকে কে দিল?” এইরকম নানা প্রশ্নমূলক পোস্টারে ভরে গেছে বস্তি অঞ্চল। বস্তিবাসীরা এখনও ভয় পেয়ে আছেন, ভাবছেন তাদের ওপর আর কোনোরকম লাঠিচার্জ হবে না তো?উওর ২৪ পরগনার জেলা সি.পি.এম কমিটির সদস্য সানু রায় জানান, শ্মশানঘাটে তো মৃতদেহ পোড়ানো হবেই।কিন্তু শবদেহকে দাহ করার ব‍্যাপারে কোন নির্দিষ্ঠ নীতি আছে বলে মনে হয় না।তিনি আরও জানান,এই দুঃসময়ে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে আতঙ্কিত বস্তিবাসীদের না বুঝিয়ে কেন নির্মমভাবে লাঠিচার্জ করা হল তাদের ওপর? এই প্রশ্ন তাঁর শাসকগোষ্ঠীর কাছে । এই ঘটনার প্রতিবাদে বামফ্রন্টের সদস্যমন্ডলীরা পোস্টার হাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, এই দুর্দিনে যেকোনো রকম সহযোগিতা চাইলে ,তাঁরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন।এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দমদম লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অধ্যাপক সৌগত রায় জানান, বস্তিবাসীদের ওপর নির্মমভাবে লাঠিচার্জ বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি।পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী তথা বরানগর বিধানসভার বিধায়ক তাপস রায় জানান, কোভিড আক্রান্ত শবদেহকে ঘিরে এক আপত্তিকর ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু নির্মমভাবে বস্তিবাসীর ওপর লাঠিচার্জ ব‍্যাপারে তিনি জানেন না কিছুই।বরানগরের পৌরসভার ভাইস-চেয়ারম্যান জয়ন্ত রায় এই ব‍্যাপারে মুখে কুলুপ ত্রেঁটেছেন।বরানগর পৌরসভার চেয়ারম্যান অর্পনা মৌলিক জানিয়েছেন, এইরকম কোন ঘটনা হয়েছে বলে তিনি জানেনই না! উওর কলকাতা শহরতলির বিজেপির সভাপতি কিশোর কর জানিয়েছেন, রাজ‍্যসরকার এমন একটি নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করুক যেখান শুধুমাত্র কোভিড আক্রান্ত শবদেহগুলিকে ধর্ম অনুযায়ী সৎকার করা হবে এবং সাধারণ মানুষকে এই ব‍্যাপারেও অবগত করা হোক। তিনি আরও জানান, এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে শাসকগোষ্ঠী জনবহুল অঞ্চলে করোনা আক্রান্ত শবদেহকে দাহ করার মাধ্যমে বস্তিবাসী স্বাস্থ‍্যব‍্যবস্থার বিষয়ে উদাসীনতা দেখিয়েছেন। তাঁর দাবি করোনা আক্রান্ত শবদেহগুলিকে জনবহুল অঞ্চল থেকে দূরে নিয়ে গিয়ে সৎকার করানো হোক।এই দুর্দিনে শাসকগোষ্ঠী কি এখনও মানুষের কথা ভাবচ্ছেন না? বরানগর পৌরমাতা ও পৌরপিতারা কি পারতেন না অসহায় বস্তিবাসীদের ভালো ভাবে বুঝাতে ? এরকম নানা প্রশ্নে সমালোচিত হয়েছে বিরোধী মহল সহ বস্তিবাসীরা।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button