দূরদৃষ্টি

একটু ভাবুন….

শ্রীপর্ণা রায়

  1. উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বাংলাদেশের পরিস্থিতির ভিডিও কে পশ্চিমবঙ্গের নির্দিষ্ট এলাকার ভিডিও বলে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে,বিশেষ করে হোয়াটস এপস এ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সবাইকে অনুরোধ যাচাই না করে এরকম ভিডিও ফরোয়ার্ড করলে আপনিও দোষী সাব্যস্ত হবেন। ইতিমধ্যে অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন এমন ভিডিও স্প্রেড করার দায়ে।
  2. কেন্দ্রীয় সরকারের লক ডাউন ঘোষনার আগের দিনের ভিডিও তুলে রোজ নতুন করে সেই ভিডিও হোয়াটস এপস এ ভাইরাল করা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের নির্দিষ্ট কিছু জায়গার নাম করে যেখানে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বাস করেন। এমন একটা ভাবনা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে যে ঐ সম্প্রদায়ের মানুষের অবিবেচকের মত আচরণ সবার ক্ষতি করছে। ভুলেও এমন ভিডিও ফরোয়ার্ড বা শেয়ার করবেন না যদি না এই কঠিন সময়ে জেলের ভাত খেতে ইচ্ছে করে।
  3. কোনো লিঙ্ক ছাড়াই হোয়াটস এপস এর বিভিন্ন গ্রুপে এই মহামারী নিয়ে বিভিন্ন নেতিবাচক গুজব ছড়ানো হচ্ছে এবং সাধারন মানুষ নেটের খবর কে ধ্রুব সত্য মেনে নিয়ে নিজেরা প্যানিক হচ্ছেন এবং সেই ভুয়ো খবর ফরোয়ার্ড করে অন্যদের বিভ্রান্ত করছেন। এমন করে নিজের বিপদ ডেকে আনবেন না। সারা রাজ্যে প্রশাসনের সাইবার ভিজিলেন্স যথেষ্ট তৎপর, আপনার ফোন নম্বর মূহুর্তের মধ্যে তাদের কাছে পৌছে যাচ্ছে।
  4. আজ কল্যানীতে দুজন করোনা রোগী ধরা পড়েছে, এই মাত্র মোহনপুরে একজন করোনা রোগী ধরা পড়েছে, গতকাল দূর্গাপুর এ চারজন ধরা পড়েছে….এরকম অসমর্থিত খবর ছাড়বেন না দয়া করে। এতে আপনি হিরো বা হিরোইন হবেন না, কিন্তু ঐ এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হচ্ছে। পোস্ট করোনা ট্রমা এফেক্ট কিন্তু আপনার পরিবারকেও ছেড়ে কথা বলবে না এই সমস্ত ভুয়ো খবর ছড়িয়ে প্যানিক সৃষ্টি করলে।

5.ধন্যবাদ, সবাই ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, সমর্থিত এবং বিশ্বস্ত মিডিয়া হাউসের খবরের লিঙ্ক ছাড়া ভুলভাল খবর ছড়িয়ে রাজ্য সরকারকে বাধ্য করবেন না ইন্টারনেট বন্ধ করার মতন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে ।তখন কিন্তু এই কয়েদী জীবন আরও দুঃসহ হয়ে উঠবে…..ভেবে দেখবেন।

6.মমতা দিদি দেশের আঠেরো টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন, তারপরেও কর্নাটক,তামিলনাড়ু,দিল্লি প্রভৃতি রাজ্যে এই রাজ্যের থেকে কাজ করতে যাওয়া মানুষদের সাথে অত্যন্ত অমানবিক ব্যবহার করছে সেখানকার স্হানীয় মানুষরা। তারা অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় আছেন, হাতে পয়সার অপ্রতুলতা, বাইরে বাজার করতে বেরোলেও
স্হানীয়রা তাড়া করছেন বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের কাছে অনুরোধ রাজ্যের দিল্লি অবস্থিত রেসিডেন্ট অফিসারের মাধ্যমে প্রবাসী বাঙালীদের পরিস্থিতিতে যাতে কিছুটা উন্নতি হয় তার ব্যবস্থা করা হোক।

শ্রীপর্ণা রায়

ইছাপুর, থানা: নোয়াপাড়া, জেলা:উত্তর চব্বিশ পরগনা।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button