মতামত

মে মাসেই ভারতে করোনার তাণ্ডব নৃত্য! তেমনই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

.……..ঝুম্পা দেবনাথ||—বিপজ্জনক কী মে মাস?শুধু লকডাউনেই কী স্বস্তি?

বিশ্ববাসী তথা ভারতবাসীর কারোনা ভাইরাসের ভয়ে আতঙ্কিত।করোনা ভাইরাসের মতো মারণ ভাইরাস সবাইকে যাতে গ্ৰাস করতে না পারে, তার জন্যই লকডাউনের পদক্ষেপ নিয়েছে সারাবিশ্ব। কিন্তূ শুধু কী লকডাউন করলেই এই মারণ ভাইরাস থেকে মুক্তি?
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব লগ.আগর ওয়াল রীতিমতো হিসাবে নিরিখে দেখিয়েছেন লকডাউন না হলে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ভারতে আক্রান্তের সংখ‍্যা বেড়ে দাঁড়াত ৮ লক্ষ ২০ হাজার‌। ২২ মার্চ জনতা কার্ফু ও ২৪ মার্চ লকডাউনের জেরে ১৬ এপ্রিলেও ভারতে ১৩ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়নি,লগ আগর ওয়ালের সমীক্ষায় তাই ধরা পড়েছে।কিন্তূ তা সম্পূর্ণ লগ.আগর ওয়ালের ধরে নেওয়া সমীক্ষার ভিত্তিতে ।
ভারতে করোনা সংক্রমণের তালিকার দিকে লক্ষ রাখলে দেখা যাবে, ১৮ মার্চ ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ‍্যা ছিল ১৫২ জন, ক্রমশঃ বেড়ে ২৩ মার্চ হয় ৪৫৩ জন এবং ৩০ মার্চ তা হয় ১১১৭ জন। লকডাউনের সময়সীমা আরও বাড়নোর পর ৫ এপ্রিল আক্রান্তের সংখ্যা হয় ৩৮৪৩ জন, ৮ এপ্রিল আরও বেড়ে হয় ৫২৩২ জন, ১০ এপ্রিল ক্রমশঃ বেড়ে ৬৫৭৭,১২ এপ্রিল বেড়ে ৭৭৯৪, ১৩ এপ্রিল বেড়ে ৮৯১৪। এই করোনা সংক্রমণ তালিকা অনুযায়ী সংক্রমণের সংখ্যা ক্রমশ উর্ধ্বমুখী।
আবার যদি আমরা ভারতে করোনা মৃত্যু তালিকায় লক্ষ রাখি , তাহলে দেখতে পাব;২৪ মার্চ মৃত্যু ছিল ১০ জন, ৩০ মার্চ তা বেড়ে হয় ৩২ জন, ১ এপ্রিল বেড়ে হয় ৫৮ জন, ৭ এপ্রিল ১৬০ জন হয় বেড়ে , ১১ এপ্রিল বেড়ে হয় ২৮৮ জন, ১২ এপ্রিল হয় ৩৩১ জন , ১৪ এপ্রিল বেড়ে গিয়ে হয় ৩৯৩ জন। এই তালিকা থেকেও স্পষ্ট লকডাউন বাড়লেও মৃত্যু হার কিন্তূ ক্রমশ উর্ধায়মান।
লকডাউনের সাথে সাথেও বহাল রাখতে হবে মাথাপিছু করোনার পরীক্ষা। ভারতে ১৩০ কোটি জনগণনার মধ্যে ২ লক্ষ টেস্ট হয়েছে, আমেরিকা যেখানে প্রতিদিন ১ লক্ষ টেস্ট করছে।
দিল্লি স্কুল অফ ইকেনমিক্স, আমেরিকা মেশিনান বিশ্ববিদ্যালয়, জন হফকিংস বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা শাখার গবেষকদের মিলিয়ে তৈরি হয়েছে covid-19 study group। তাঁদের মতে, ভারতের সমস্যা হল নমুনা পরীক্ষার সীমাবদ্ধতা। ভারতের জনসংখ্যাপিছু চিকিৎসা ব‍্যাবস্থাতেও রয়েছে সীমাবদ্ধতা।
বিশ্ব ব‍্যাঙ্কের তথ্যের সমীক্ষা অনুযায়ী ১০০০ জনসংখ্যাপিছু ভারতের শয্যা সংখ্যা ০.৭, আমেরিকায় ২.৮, ইতালিতে ৩.৮, ফ্রান্সে ৬.৫, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১১.৫।ভারতে আই‌.সি.ইউ বোর্ডের সংখ্যা ৭০,০০০টি।
লকডাউন থাকা সত্বেও করোনা সংক্রমণ উর্ধ্বমুখী এবং নমুনা পরীক্ষা ও চিকিৎসা ব‍্যবস্থার সীমাবদ্ধতার ফলেই কি ভারত বাসীর কাছে মে মাস বিপজ্জনক হয়ে উঠবে তা সময়ের নিরিখে প্রমাণিত হবে।….ঝুম্পা দেবনাথ||——–

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button