রাজ্য

গণধর্ষণের শিকার হওয়া এক দলিত তরুণী পরিবারের পাশে তৃণমূল কংগ্রেস

পূর্ব মেদিনীপুর ঃ এগরাঃ উত্তরপ্রদেশের হাতরাসে মৃত্যু হয়েছে গণধর্ষণের শিকার হওয়া এক দলিত তরুণী। তাঁর উপর হয়েছিল অকথ্য অত্যাচার। ওই ঘটনার প্রতিবাদে পথে নামল রাজ্যের শাসকদল। রবিবার বিকেলে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা শহর তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষোভ মিছিলে মানা হল না স্বাস্থ্যবিধি। সেই মিছিলে পাশাপাশি হেঁটেছেন অনেকে। মানা হয়নি সামাজিক দূরত্ব। অনেকের মুখে মাস্কও ছিল না। বিক্ষোভ মিছিলটি এগরা পুরসভার ডাকবাংলো ময়দান থেকে শুরু হয়ে পুরো এগরা শহর পরিক্রমা করে শেষ হয় ত্রিকোণ পার্কের সামনে। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সভাধিপতি দেবব্রত দাস। তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের আমলে নারী নির্যাতন বেড়েই চলেছে। উত্তরপ্রদেশ সরকার কঠোর পদক্ষেপ না করলে বৃহত্তর আন্দোলন নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, জেলা রাজনীতিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। তৃণমূল বিধায়ক সমরেশ দাসের পরে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন গত লোকসভা ভোটে কাঁথি কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দেবাশিষ সামন্ত। বুধবার কলকাতায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান বলে দলীয় সূত্রের খবর। পেশায় অস্থিরোগের চিকিৎসক দেবাশীষ মাসখানেক ধরে অসুস্থ ছিলেন। তাঁর কলকাতায় চিকিৎসা চলছিল প্রথম থেকে। গত লোকসভা ভোটে বিজেপি’র হয়ে লড়ে তিনি হরে যান। তবে ভোটের আগে থেকেই দেবাশীষ নিজের পেশা থেকে সরে এসেছিলেন। নিয়েছিলেন স্বেচ্ছাবসর। তবে জেলা রাজনীতিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সেই তালিকায় রয়েছেন রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র, যুব তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি সুপ্রকাশ গিরি’র মতো তাবড় নেতারা। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন এগরার বিধায়ক সমরেশ দাস। কিন্তু জেলাতে যেভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে ভিড় হচ্ছে, তাতে থেকে বোঝা যাচ্ছে, নেতা-কর্মীদের কোনও হুঁশই ফেরেনি। কেন্দ্রের কৃষি বিলের প্রতিবাদে সম্প্রতি সমস্ত বিরোধী দলগুলি দফায় দফায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। সেই সব কর্মসূচি না পালন করা স্বাস্থ্যবিধি, না মানা হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব বিধি। বর্তমানে জেলায় যা পরিস্থিতি, তাতে পুজোর মরসুমে করোনা সংক্রমণ রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। সাংসদ তথা জেলা তৃণমূল সভাপতি শিশির অধিকারী অবশ্য বলছেন, “করোনা পরিস্থিতির সুযোগ বুঝে কেন্দ্রীয় সরকার জনবিরোধী একাধিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করছে। তাছাড়া রাজ্য সরকারকেও নানা বিষয়ে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করা ছাড়া তো আর কোন উপায় নেই।” পাশাপাশি শিশিরের দাবি, সংক্রমণ যাতে না ছড়াতে পারে, সে জন্য রাজ্য নেতৃত্ব একটি নির্দিষ্ট গাইডলাইন বেঁধে দিয়েছেন। সেই মতো শহর, ব্লক এবং অঞ্চল নেতৃত্বকে কর্মসূচি রূপায়ণ করতে নির্দেশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে শাসকদলের কর্মসূচি ঘিরে স্বাস্থ্যবিধি না মানার অভিযোগ তুলছে বিরোধীরা। তবে তাদের কর্মসূচির যে ছবি সামনে আসছে, তাতেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। কিন্তু এ দিন এগরায় তৃণমূলের কর্মসূচি এবং পদযাত্রাতে শিকেয় উঠেছিলো করোনা স্বাস্থ্য বিধি। এ প্রসঙ্গে বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অনুপ চক্রবর্তী বলেন, “শাসকদল করোনা বিধি মানছে না। অথচ তাদের ক্ষেত্রে প্রশাসন নীরব। এ এক নির্ল্যজ্জ প্রশাসন। বাংলার মানুষ দেখছে। আগামী একুশের নির্বাচনে তৃণমূল বাংলা থেকে উৎখাত হবে। শুধুই সময়ের অপেক্ষা।” প্রসঙ্গত, গত সেপ্টেম্বরে শহর যুব তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে এগরায় বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা হয়। আবার এ দিন শহর তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে এগরায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। কিন্তু সেদিনের যুব তৃণমূলের পাল্টা কর্মসূচি পালন শহর তৃণমূলের বলে শাসকদলের একাংশের দাবি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button