কলকাতা

আমরণ অনশনে ডাক্তারি পড়ুয়ারা কলকাতা মেডিক্যালে, ভোট নিয়ে স্বাস্থ্যভবনের কোর্টেই বল ঠেলল কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব সংবাদদাতা: গত কয়েকদিন ধরে অশান্ত কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন ডাক্তারি পড়ুয়াদের একাংশ। ইতিমধ্যেই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে অনশনরত চিকিৎসক পড়ুয়াদের শারীরিক পরিস্থিতি পরীক্ষা করানোর জন্য চিকিৎসকদের একটি দল পাঠানো হয়েছিল। সেই চিকিৎসক দলকে ফিরিয়ে দিয়েছেন অনশনকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, কর্তৃপক্ষ সহানুভূতিশীল হলে তাঁদের দাবি মেনে নিতেন। এভাবে অনশনের দিকে ঠেলে দিতেন না। সহপাঠীদের বিপি-পালস মাপার মতো শিক্ষা তাঁরা পেয়েছেন। এর জন্য কর্তৃপক্ষের পাঠানো চিকিৎসক দলের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন হবু ডাক্তাররা।

 

ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যভবনের সঙ্গে বৈঠক করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে এখনই যে নির্বাচনের কোনও সম্ভাবনা নেই, অধ্যক্ষ ইন্দ্রনীল বিশ্বাস ইতিমধ্যেই তা স্পষ্ট করেছেন।অনশন পরিস্থিতি এড়ানো গেল না কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে। ছাত্র সংসদ নির্বাচন-সহ তিন দফা দাবিপূরণ না হলে অনশনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল আন্দোলনকারীরা। সেই তিন দাবির মূল দাবি ছাত্র সংসদের নির্বাচন যে মানা সম্ভব নয় তা বৃহস্পতিবার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। নিজেদের অনড় অবস্থানের পিছনে দু’পক্ষের‌ই যুক্তি রয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে অনশনের পথেই হেঁটেছেন আন্দোলনকারীরা।

 

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাদের অবস্থান প্রসঙ্গে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ইন্দ্রনীল বিশ্বাস বলেন, “আমরা তো সবসময়ই আলোচনা চাইছি। আমাদের ছাত্র ওরা। কিন্তু স্বাস্থ্যভবন থেকে নির্দেশ আসতে হবে যে ২২ ডিসেম্বরই ভোট। সেটা না আসা অবধি কিছু করা যাচ্ছে না। ভোট ঘিরে আইনশৃঙ্খলা, আর্থিক খরচের জোগানের বিষয়টি স্বাস্থ্যভবনের এক্তিয়ারভুক্ত, কলেজ কাউন্সিলের এক্তিয়ারে নয়। ঘেরাওমুক্ত হওয়ার পর বুধবারও আমরা সারাদিন কাজ করে স্বাস্থ্যভবনে গিয়েছি। তারা বলছে, ভোট হবে।

 

কিন্তু ২১-২২ তারিখে হবে না। কিন্তু ছাত্ররা ২১-২২’র ভোট নিয়ে অনড়। এন‌এমসি গাইডলাইনে লেখা আছে স্টুডেন্ট বডি তৈরি করতে হবে। কিন্তু সেটা তো ভোটসাপেক্ষ। যতক্ষণ না তা করা যাচ্ছে স্টুডেন্টস কাউন্সিল করা যায়। যেটা সিলেকশনের মাধ্যমে হয়। তারাই সিলেকশন করে দিল। এ প্রস্তাব আগেও দিয়েছি, ওরা মানেনি। এখনও মানছে না। কিন্তু উপর থেকে অনুমতি না এলে আমরাও তো কিছু করতে পারব না।”অন্যদিকে এম‌এসভিপি অঞ্জন অধিকারীর বক্তব্য, “আমরা প্রথম থেকেই বলছি, ওরা আমাদের সন্তানতুল্য। অনেক সময় ওরাও উদ্ধত হয়ে উঠছে, শিক্ষকদেরও খারাপ লাগছে।” কর্তৃপক্ষের পাঠানো মেডিক্যাল টিমের পরিষেবা নিতে অস্বীকার করার প্রসঙ্গে অধ্যক্ষের বক্তব্য, “অফিশিয়ালি মেডিক্যাল টিম যাবে। যদি না দেখতে দেয় তা তো রেকর্ড হবে।”

Related Articles

Back to top button