কলকাতা

‘তুমি পুরোটা পড়নি’, মঞ্চে বাবুলের ‘বিশ্বপিতা’ গানে মমতার বিরক্তি প্রকাশ

নিজস্ব সংবাদদাতা: হাতে আর মাত্র কটা দিন! তারপরেই বড়দিনের উৎসব । শীতের চাদর গায়ে জড়িয়ে তিলোত্তমা যে বড়দিনের  প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে তা রাজপথে নামলেই টের পাওয়া যাচ্ছে। দিকে দিকে কেকের বিজ্ঞাপন থেকে বিলবোর্ডে উঁকি দেওয়া সান্টা, দোকানে দোকানে ক্রিস্টমাস ট্রি থেকে আলোর ঝলকানি, বড়দিনের মুডে গোটা কলকাতা! এরইমধ্যে খাতায় কলমে এদিন অ্যালেন পার্কে বড়দিনের উৎসবের উদ্বোধন করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । এই অনুষ্ঠানেই যোগ দিয়েছিলেন বিধায়ক বাবুল সুপ্রিয়। গান গাইতে গিয়ে খেলেন ‘দিদির বকুনি’। এদিনের অনুষ্ঠান মঞ্চে উঠে বাবুলকে ধরতে দেখা গেল ‘বিশ্বপিতা’ গানের কলি। দু লাইন গেয়ে গেলেন থেমে। আর সঙ্গে সঙ্গে ভ্রু কুঁচকে সদ্য মন্ত্রী বাবুলের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা গেল মমতাকে।

দর্শকাসনে তখন চাঁদের হাট। মঞ্চে উঠে বাবুল গাইছেন, ‘বিশ্বপিতা তুমি হে প্রভু, আমাদের প্রার্থনা এই শুধু/ তোমারই প্রার্থনা এই শুধু, তোমারই করুণা হতে বঞ্চিত যেন না হই কভু’। বাবুলের গানের তালে তাল মেলাচ্ছেন মমতা। খানিক পড়ে দেখা গেল দু-লাইন গেয়ে থেমে গেলেন বাবুল। তাঁকে উৎসাহিত করতে আরও এগিয়ে যেতে বললেন মমতা। বললেন, “আরে ওটা করো, এ পাহাড়। নদী, বাতাস ওগুলো কোথায় গেল? এ আকাশ এ বাতাস ওটা কোথায় গেল?” তখনই খানিক অস্বস্তিতে পড়ে বাবুল বললেন, “আচ্ছা পুরোটা করব! আমি আগুনের পরশমণিটা গাইব ভেবেছিলাম”। খানিক বিরক্তি প্রকাশ করে মমতার উত্তর, “তার মানে তুমি পুরোটা পড়নি”। উত্তরে থতমত খেয়ে বাবুল বললেন, “আসলে… আমি ভাবছিলাম আগুনের পরশমণিটা গাইব। আপনি আজকে দীপ জ্বালিয়েছেন। ওটার জন্য এক লাইন গাইছি।” বলেই বাবুল ফের ধরলেন, “আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে..”

তবে এরপরই ফের মঞ্চে উঠে মমতা নিজেই আওড়ালেন বিশ্বপিতা। বেশ কয়েকটা লাইন গেয়ে বাবুল-ইন্দ্রনীলকে পরামর্শ দিল এই গানগুলি মনে রাখতে। তিনি বলেন, “আমাদের সকলকে শান্তি দাও, শক্তি দাও, ভক্তি দাও, অন্ধকার থেকে আলোয় আসবার সুযোগ করে দাও। অন্ধকারে দুচোখ আলোয় ভরো প্রভু, তবু যাঁরা বিশ্বাস করে না তুমি আছো তাদের মার্জনা করো প্রভু। এই গানগুলি যাঁরা আর্টিস্ট আছে তাদের বলব ভাল করে মনে রাখতে। কারণ আমি তো আর গান গাই না। বাবুল-ইন্দ্রনীলরা গান গায়। তাঁরা যেন গান গুলো ভাল করে মানুষের কাছে প্রজেক্ট করে। কারণ এগুলো খুব জনপ্রিয় গান। সকলেই এই গানের প্রতিটা শব্দ জানে।”

এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠে শুরুতেই সকলকে বড়দিনের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে দেখা যায় মমতাকে। বড়দিনের আবহে মমতার মুখে ফের শোনা যায় সম্প্রীতির বার্তা। যিশুকে স্মরণ করে মমতা বলেন, “আমি মনে করি যিশু খ্রিষ্টের মঙ্গলময় বাণীগুলিকে স্মরণে রেখে আমরা এই দিনগুলিকে মনে রাখি। বাংলা আমাদের গর্ব। ১২ মাসে ১৩ পার্বন তো লেগেই আছে। তারমধ্যে আমরা বলি ধর্ম যার যার উৎসব সবার। এই উৎসব আমাদের সকলের।” বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য-সংস্কৃতির কথা মনে করিয়ে মমতা আরও বলেন, “আমরা মন্দিরে যাই, আমরা মসজিদে যাই, আমরা গুরুদুয়ারা যাই, গির্জাতেও যাই। এটাই আমাদের পরম্পরা।”বড়দিনের উৎসবে সেজে উঠছে গোটা বাংলা। সেজে উঠছে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ। সেজে উঠছে কালিম্পং থেকে চন্দননগর। অ্যালেন পার্কের মঞ্চ থেকে সেই প্রস্তুতি নিয়েও বার্তা দিতে দেখা যায় মমতাকে। তিনি বলেন, “দার্জিলিং, কালিম্পং, জলাইগুড়ি, চন্দননগর, ব্যান্ডেল, কৃষ্ণনগর, বারুইপুর চার্চ, ঝাড়গ্রাম, আলিপুরদুয়ার, হাওড়ার বিভিন্ন জায়গা আমরা আলোর সাজে সাজিয়ে তুলছি। যাতে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করবে।”

Related Articles

Back to top button