‘আনন্দ করো’, বললেন ‘চনমনে’ অনুব্রত

নিজস্ব সংবাদদাতা: দিল্লিযাত্রা এখনও হয়নি। নতুন এক মামলায় আপাতত পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল । প্রতিদিনের মতো এদিনও দুপুরে কেষ্ট মণ্ডলকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য দুবরাজপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল দুবরাজপুর থানার পুলিশ। রুটিন চেকআপ শেষে হাসপাতাল থেকে বেরনোর সময় বেশ চনমনেই দেখাল অনুব্রতবাবুকে। শরীরী ভাষাও বেশ ইতিবাচক। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠতে উঠতে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলে গেলেন, “নতুন বছর, আনন্দ করো।”
বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতার শারীরিক অবস্থা এখন কেমন রয়েছে? প্রশ্ন করায় নিজেই জানালেন, সবই ঠিক আছে। প্রেশারও ঠিকঠাকই রয়েছে। গায়ে শাল জড়িয়ে, দুইহাত পিছনে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হাসিমুখেই এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে গেলেন অনুব্রত। সব মিলিয়ে কেষ্ট মণ্ডলকে এদিন যে রূপে ধরা দিলেন, তাতে তাঁর শরীরী ভাষা যে বেশ ইতিবাচক, সেকথা বলাই যায়।
উল্লেখ্য, অনুব্রত মণ্ডলকে অনেকদিন আগেই গরুপাচার মামলায় তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। পরে জেলবন্দি অনুব্রতকে ‘শোন অ্যারেস্ট’ করে ইডি। শুরু হয় দিল্লি নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড়। যখন অনুব্রত মণ্ডলের দিল্লিযাত্রা প্রায় নিশ্চিত, সেই সময় হঠাৎই এক নতুন মামলায় দুবরাজপুর থানার পুলিশ ‘শোন অ্যারেস্ট’ করে অনুব্রতকে। শিবঠাকুর মণ্ডল নামে এক তৃণমূল কর্মীর অভিযোগ, অনুব্রত মণ্ডল নাকি অতীতে একবার তাঁর গলা টিপে ধরেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ ‘শোন অ্যারেস্ট’ করে কেষ্ট মণ্ডলকে। পরে আদালতের নির্দেশে পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয় অনুব্রতকে। ফলে দিল্লিযাত্রা ঝুলেই থাকল।
প্রসঙ্গত, এর আগেও যখন অনুব্রত মণ্ডলকে আসানসোল আদালতে নিয়ে যাওয়া হত, তখনও একাধিকবার দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। পঞ্চায়েতের আগে সংগঠন নিয়ে বার্তা দিয়েছেন। এমনকী বিচারক এজলাসের ছেড়ে চলে যাওয়ার পর, সেই এজলাসে বসেই দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে ফিসফিসিয়ে কথা বলতে দেখা গিয়েছে অনুব্রতকে। এবার বড়দিনের দুপুরে সকলের উদ্দেশে বলে গেলেন, নতুন বছরে আনন্দ করার জন্য।



