ধৃত আইএসএফ কর্মীদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা, হতে পারে ১০ বছরের জেল

নিজস্ব সংবাদদাতা: শনিবার ভাঙড়ে তৃণমূল-আইএসএফ সংঘর্ষের আঁচ পড়েছিল শহর কলকাতাতেও। বিকালেই ধর্মতলায় পুলিশের সঙ্গে কার্যত খন্ড যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছিল আইএসএফ কর্মীদের। এরপর থেকেই ব্যাপক ধড়পাকড়। গ্রেফতার হয়েছেন আইএসএফ নেতা নওশাদ সদ্দিকী। শুধু ধর্মতলা থেকেই গ্রেফতার হয়েছেন ১৯ জন আইএসএফ কর্মী। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক কড়া ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। রয়েছে বেআইনি জমায়েত, অস্ত্র নিয়ে গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা, সরকারি কর্মীদের উপর হামলা, খুনের চেষ্টা সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে ধৃতদের বিরুদ্ধে। যে সমস্ত ধারায় মামলা রুজু হয়েছে তার মধ্যে বেশিরভাগই জামিন অযোগ্য বলে জানা যাচ্ছে।
ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেইনয়েন্স অফ পাবলিক অ্যাক্টের আট ও নয় নম্বর ধারাতেও মামলা হয়েছে বলে খবর। এতেই চিন্তা বাড়ছে ধৃত আইএসএফ কর্মীদের। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। অন্যদিকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারায় খুনের চেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে। তাতেও পড়তে হতে পারে কড়া শাস্তির মুখে। পুলিশ কমিশনার নিজে বলেছেন আহত পুলিশ কর্মীদের মাথায় আঘাত লেগেছে। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে পুলিশ।
অন্যদিকে ধর্মতলা থেকে ভাঙড়ে ফেরার পথে ৪০ জন আইএসএফ কর্মী-সমর্থককে গ্রেফতার করে লেদার কমপ্লেক্স থানার পুলিশ। আটক শতাধিক। সূত্রের খবর, বাসন্তী হাইওয়ে দিয়ে যাচ্ছিল আইএসএ কর্মী সমর্থকদের চারটি গাড়ি। গাড়ি আটকায় পুলিশ। সেখান থেকেই ৪০ জনকে গ্রেফতার করে কলকাতায় পাঠানো হয়। প্রসঙ্গত, ভাঙড়ে নওশাদের উপর তৃণমূলের হামলার অভিযোগ করেছে আইএসএফ। তারপরই রাজ্যের নানা প্রান্তে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয় দলের তরফে।
শনিবার অবস্থান বিক্ষোভ চলছিল ধর্মতলাতেও। সেখানেই পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক ধস্তাধস্তি শুরু হয় আইএসএফ কর্মীদের মধ্যে। বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী আহতও হয়েছেন বলে খবর। আহত হয়েছেন আইএসএফেরও বহু কর্মী সমর্থক। এদিকে নওশাদের গ্রেফতারিতে ক্ষোভের বাতাবরণ ফুরফুরা শরিফেও। ফুরফুর শরিফের পীরজাদা নজমুস সাহাদাত সিদ্দিকী বলেন, “আসলে আইএস যেভাবে এগোচ্ছে, যেভাবে গোটা বাংলা তোলপাড় করে ফেলছে তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কারণ বিধানসভায় ২৯৪ জন বিধায়কের মধ্যে ১ জন বিধায়ক আছেন যিনি এদের আসল চরিত্রটা তুলে ধরছেন। তিনি নওশাদ সদ্দিকী।”



