যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝিল থেকে উদ্ধার প্রাক্তন ছাত্রের মৃতদেহ

নিজস্ব সংবাদদাতা: সোমবার থেকে দোলের আনন্দে মাতোয়ারা যাদবপুরের (Jadavpur University) পড়ুয়ারা। রঙের উৎসবে মেতে গোটা ক্যাম্পাস। তারমধ্যে আচমকা ঘটে গেল বড় দুর্ঘটনা। ক্যাম্পাসের ভিতরে থাকা ঝিল থেকে উদ্ধার হল এক প্রাক্তন ছাত্রের মৃতদেহ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এদিন বিকালে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় যাদবপুর ক্যাম্পাসে। সূত্রের খবর, এদিন বিকালে ঝিলপাড়ে পাঁচ বন্ধুদের সঙ্গে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন ওই প্রাক্তন ছাত্র। খেলছিলেন দোলও। তখনই মুখ ধুতে গিয়ে জলে পড়ে যায় বলে খবর। প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এরপর ছাত্রছাত্রীরাই কর্তৃপক্ষকে ঘটনার কথা জানান। খবর যায় পুলিশে। ডুবুরি নামিয়ে খোঁজ চলে যুবকের। বেশ কিছুক্ষণ পর তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তৎক্ষণাৎ তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত ছাত্রের নাম মহঃ আসিফ মণ্ডল। ইতিমধ্যে এ ঘটনায় ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে যাদবপুর থানার পুলিশ।
প্রসঙ্গত, ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ে বিগত কয়েক মাসে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়েছে যাদবপুর ক্যাম্পাস। জারিও হয়েছে নির্দেশিকা। তবে তা আপত্তিও জানিয়েছেন অনেকে। বিতর্কের মুখে গেটের সামনে বিজ্ঞপ্তি ঝোলানোর পরেও তা প্রত্যাহার করা হয়। এমনকী দোলের আগেও ক্যাম্পাসের সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষের তরফে জারি হয় নির্দেশিকা। কোনওভাবেই যাতে ক্যাম্পাসের পঠনপাঠন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়। এরইমধ্যে এবার এই দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ায় তা নিয়ে শুরু হয়েছে চাপানউতর। কিছুদিন আগেই ওই যুবক বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পার করেছেন বলে জানা যাচ্ছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্কিটেকচার ইঞ্জিনিয়রিং পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন সহ-উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “ঘটনাটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও অনভিপ্রেত। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা যথেষ্ট আঁটোসাঁটো ছিল। তবে সিকিউরিটি দিয়ে তো আর সবকিছু আটকানো যায় না। ক্যাম্পাসে প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রদের একসঙ্গে দোল খেলতে আগেও দেখা গিয়েছে। এবারও হয়েছে। তবে এবারে তুলনামূলকভাবে আগের থেকে অনেক কম উদযাপন দেখা গিয়েছে ক্যাম্পাসে। তারমধ্যেও এরকম একটা ঘটনা ঘটনা ঘটে গেল।”



