কলকাতা

‘এনজেপি স্টেশনে দুর্বৃত্তদের আড্ডা’, ট্রেনের ভিতর গুলিকাণ্ডে বললেন দিলীপ ঘোষ

শিলিগুড়ি: দিল্লিগামী নর্থ ইস্ট এক্সপ্রেসে সোমবার গুলি (Gunshot) চলে। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে ঢোকার মুখে ট্রেনেই যাত্রীর রহস্যমৃত্যু হয়। ট্রেনের অসংরক্ষিত কামরায় এই গুলি চলার ঘটনা ঘিরে ট্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষ তখন এর দায় ঠেলেছেন এ রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের দিকে। মঙ্গলবার সকালে ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “গুলি তো সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে চলছে। হাইওয়ের উপরে চলছে। রাজু ঝা মারা গেলেন, কয়লা ব্যবসায়ী। এনজেপি স্টেশনে তো দুর্বৃত্তের আড্ডার জায়গা। মাফিয়াদের আড্ডা চলে। শ’ শ’ কোটি টাকার এদিক ওদিক হয়।  বহু লোক এই করে খায়। তৃণমূলের রক্ষণাবেক্ষণেই এই ধরনের দুর্বৃত্তরা এনজেপি স্টেশনে কাজ করে। তার ফল মাঝে মাঝে সাধারণ মানুষকে ভুগতে হয়।” যদিও দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যের পাল্টা শাসকদলের কোনও মন্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।

সোমবারের ঘটনা। এদিন কামাক্ষ্যা-আনন্দবিহার এক্সপ্রেসের অসংরক্ষিত কামরায় দুই যাত্রীর মধ্যে বচসা বাধে। সেই সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক যাত্রীর মৃত্যু হয়। জানা গিয়েছে, মৃতের নাম সঞ্জয় সিং পারমার। তিনি প্রাক্তন সেনাকর্মী। পর পর তিন রাউন্ড গুলি চলে বলে দাবি যাত্রীদের। মৃতের কাছ থেকেই উদ্ধার বন্দুকটি উদ্ধার হয় বলে দাবি যাত্রীদের।

ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছে রেল পুলিশ। ৫ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদও করে জিআরপি। তবে রেলের সুরক্ষা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। যাত্রী নিরাপত্তা কোথায়, প্রশ্ন তুলছেন যাত্রীরাই। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “পর পর তিনটে গুলির শব্দ শুনি। সকলে এদিক ওদিক পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ বলতে থাকেন, বোমা রাখা আছে। এরপর জানা গেল গুলি চলেছে।”

এই খবরটিও পড়ুন

মাত্র সাড়ে দশ বছরেই আঞ্চলিক দল থেকে জাতীয় দল আপ, ‘বিস্ময়কর’ বললেন কেজরীবাল

 

এরপর ট্রেনের মেঝেয় লুটিয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি। চারদিক রক্তে ভাসছে। আসনগুলিতেও রক্ত ভর্তি। সঙ্গে সঙ্গে রেল পুলিশ এসে এলাকায় ফাঁকা করে। দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায় তারা। সবদিক খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। তবে এরইমধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনীতির রংও লাগতে শুরু করেছে। অন্তত দিলীপ ঘোষ সে বিতর্কই উস্কে দিলেন।

Related Articles

Back to top button