আপনিও সাংবাদিক

কাটা বাঁধে রাস্তা বন্ধ, চাঁদা তুলে ভাসমান ফুটব্রিজ গড়লেন ভূতনীর যুবকেরা

পার্থ ঝা,সারাদিন,মালদা:প্রশাসনের উপর আস্থা প্রায় হারিয়ে ফেলে অবশেষে নিজস্ব উদ্যোগেই ভাসমান অস্থায়ী ফুটব্রিজ গড়ে তুলছেন মালদার মানিকচক ব্লকের ভূতনীর একদল তরুণ। প্রায় চার মাস ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন থাকার পর এই যুবকদের উদ্যোগে স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে গ্রামবাসীদের মধ্যে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বও ভূতনীর এই উদ্যোগী যুবকদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। যদিও ফুটব্রিজ তৈরিকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক তরজাও চরমে উঠেছে।

উল্লেখ্য, মানিকচক ব্লকের ভূতনীর দক্ষিণ চন্ডীপুরের কাটা বাঁধ এলাকায় প্রায় এক বছর আগে সেচ দপ্তরের উদ্যোগে প্রায় ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাঁধসহ চলাচলের রাস্তা নির্মাণ হয়। কিন্তু বছর ঘোরার আগেই চলতি বছরের আগস্ট মাসে ফুলহর নদীর জোর স্রোতে সেই বাঁধ ও রাস্তা ভেঙে যায়। হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়া বাঁধের ফলে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে সমগ্র ভূতনী এলাকা। দুই মাস পর বন্যার জল নামলেও কাটা বাঁধের অংশে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।বন্যার পরপরই প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরা এলাকা পরিদর্শনে এসে দ্রুত বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আশ্বাস দেন। কিন্তু সেই আশ্বাস বাস্তবের মাটিতে নেমে আসেনি।

চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত দক্ষিণ চন্ডীপুরে নতুন রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জরুরি যাতায়াতের জন্য প্রশাসনের দেওয়া মাত্র দুটি নৌকায় ভরসা করেই দুর্ভোগ সহ্য করে দিন কাটছিল ভূতনীবাসীদের।এই পটভূমিতেই প্রশাসনের উপর আস্থা হারিয়ে এলাকার একদল উদ্যমী যুবক নিজ উদ্যোগে কাটা বাঁধের জলের উপর অস্থায়ী ভাসমান ফুটব্রিজ তৈরির কাজ শুরু করেন। গ্রামবাসীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা জোগাড় করে প্লাস্টিকের খালি ড্রাম, লোহার রড ও বাঁশ কিনে দ্রুতগতিতে ফুটব্রিজ নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তারা। প্রায় শেষ পর্যায়ে এই কাজ, স্থানীয় সূত্রে খবর, দু–চার দিনের মধ্যেই পথচারী, সাইকেল আরোহী ও মোটর সাইকেল আরোহীরা এই ব্রিজ ব্যবহার করতে পারবেন।ভূতনীর যুবকদের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক গৌড়চন্দ্র মন্ডল। একই সঙ্গে তিনি এই ঘটনাকে প্রশাসনিক ব্যর্থতার জ্বলন্ত উদাহরণ বলে কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে।

তবে জেলা তৃণমূল সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সীর পাল্টা বক্তব্য, ভূতনীর দক্ষিণ চন্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপি পরিচালিত হওয়া সত্ত্বেও পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি। তার দাবি, “এর জবাব ভূতনীর মানুষ আগামী দিনে ভোটের মাধ্যমেই দেবেন।” রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেও ভূতনীবাসীর আশা, অন্তত এই ভাসমান ফুটব্রিজ কিছুটা হলেও স্বস্তির পথ খুলে দেবে।

Related Articles

Back to top button