জাতীয়

জার্মান মিশনস ইন ইন্ডিয়া স্মল গ্রান্টস স্কিম ২০২৬: কর্নাটক ও কেরালায় লিঙ্গসমতা প্রকল্পে আবেদন আহ্বান

প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে হবে শুধুমাত্র কর্নাটক বা কেরালা রাজ্যে। এই দুই রাজ্যের বাইরে কোনও প্রকল্প গ্রহণযোগ্য নয়।

পিটিআই: ভারতের প্রান্তিক ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সামাজিক অবস্থার উন্নতিতে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু উচ্চ প্রভাবসম্পন্ন প্রকল্পে অর্থসাহায্য দিতে আবেদন আহ্বান করল জার্মান মিশনস ইন ইন্ডিয়া স্মল গ্রান্টস স্কিম। ২০২৬ সালের জন্য বেঙ্গালুরুস্থিত জার্মান কনস্যুলেট কর্নাটক ও কেরালায় লিঙ্গসমতা (Gender Equality) সংক্রান্ত প্রকল্পে সর্বাধিক প্রায় ২৫,০০০ ইউরো পর্যন্ত অনুদান দেবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা সর্বোচ্চ ছয় মাস। আবেদনের শেষ তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

কী এই স্মল গ্রান্টস স্কিম

এই স্কিমের মাধ্যমে জার্মান মিশন সরাসরি ও লক্ষ্যভিত্তিক অর্থসাহায্য দেয় এমন স্বেচ্ছাসেবী ও নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলিকে, যারা সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে কাজ করে। দ্রুত সহায়তা, পরিমাপযোগ্য ফলাফল এবং রাষ্ট্রসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs)-র সঙ্গে সামঞ্জস্য—এই তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। বড় বা দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প নয়, বরং স্বল্প সময়ে সম্পূর্ণ করা যায় এমন স্বতন্ত্র প্রকল্পই এই স্কিমের মূল লক্ষ্য।

২০২৬ সালের অগ্রাধিকার ক্ষেত্র

২০২৬ অর্থবর্ষে বেঙ্গালুরু জার্মান কনস্যুলেট শুধুমাত্র লিঙ্গসমতা বিষয়ক প্রকল্প গ্রহণ করবে। এর মধ্যে রয়েছে—

১) নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন, ২) লিঙ্গভিত্তিক হিংসা প্রতিরোধ, ৩) ঝুঁকিপূর্ণ নারী ও কন্যাশিশুদের সুরক্ষা, ৪) নারীদের জন্য আইনি পরামর্শ ও আইনি সহায়তা পরিষেবা—- এই বিষয়গুলির বাইরে অন্য কোনও প্রকল্প এক্ষেত্রে বিবেচিত হবে না।

কোন প্রকল্পে অর্থ মিলবে না

এই স্কিমের আওতায় অর্থসাহায্য দেওয়া হবে না— ১) জনপরিকাঠামো বা কমিউনিটি অবকাঠামো (জল, স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ, স্কুল ভবন ইত্যাদি), ২) জীবিকা বা আয়সৃষ্টিমূলক প্রকল্প, ৩) পুষ্টি সংক্রান্ত কর্মসূচি, ৪) প্রশাসনিক খরচ বা ওভারহেড, ৫) জমি বা ভবন ক্রয়, ৬) অফিস সরঞ্জাম বা আসবাবপত্র, ৭) স্কলারশিপ বা ব্যক্তিগত অনুদান, ৮) অদক্ষ শ্রমের খরচ, ৯) এককালীন বা খুঁটিনাটি ছাড়া বাজেট।

অনুদানের পরিমাণ ও সময়সীমা

সর্বোচ্চ অনুদান: প্রায় ২৫,০০০ ইউরো

প্রকল্পের মেয়াদ: সর্বাধিক ৬ মাস

প্রকল্প অবশ্যই নতুন ও স্বতন্ত্র হতে হবে। কোনও চলমান বা বৃহত্তর প্রকল্পের অংশ হলে চলবে না অনুমোদিত ছয় মাসের মধ্যেই সব কাজ শেষ করতে হবে।

ভৌগোলিক সীমা

প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে হবে শুধুমাত্র কর্নাটক বা কেরালা রাজ্যে। এই দুই রাজ্যের বাইরে কোনও প্রকল্প গ্রহণযোগ্য নয়।

কারা আবেদন করতে পারবেন

আবেদনকারী সংস্থাকে অবশ্যই—

১) ভারতে আইনত নিবন্ধিত হতে হবে, ২)আবেদনকালে বৈধ FCRA লাইসেন্স থাকতে হবে, ৩)আগের দুই বছরে জার্মান কনস্যুলেটের থেকে কোনও অনুদান না পেয়ে থাকতে হবে, ৪) জার্মান ফেডারেল বাজেট-সমর্থিত অন্য কোনও সংস্থার সঙ্গে সহ-অর্থায়নে যুক্ত না থাকতে হবে, ৫) নিজস্ব অর্থ বা ইন-কাইন্ড সহায়তা দিতে সক্ষম হতে হবে,৬) প্রকল্পে সক্রিয় কমিউনিটি অংশগ্রহণ দেখাতে হবে, ৭)  কমিউনিটির অবদান বাধ্যতামূলক।

সংস্থাগুলিকে প্রকল্পের মালিকানা ও স্থায়িত্ব প্রমাণ করতে হবে—১) নিজস্ব আর্থিক অবদান, ২) কর্মী বা স্বেচ্ছাসেবী শ্রম, ৩) প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সহায়তা, ৪) পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ, ৫) কেন গুরুত্বপূর্ণ এই স্কিম।

এই স্মল গ্রান্টস স্কিম মূলত দ্রুত ও লক্ষ্যভিত্তিক হস্তক্ষেপের জন্য তৈরি। বড় অবকাঠামো বা দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্প বাদ দিয়ে, লিঙ্গসমতার মতো জরুরি ইস্যুতে সরাসরি সহায়তার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ নারী ও কন্যাদের সুরক্ষা, ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচারের সুযোগ বাড়ানোই এর লক্ষ্য।

আবেদন প্রক্রিয়া

ধাপ ১: এক পাতার প্রাথমিক প্রস্তাব

একটি পূর্ণাঙ্গ এক-পৃষ্ঠার প্রকল্প সারাংশ জমা দিতে হবে

আবেদনের শেষ তারিখ: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শুধুমাত্র সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত সংস্থাকেই পরবর্তী ধাপে ডাকা হবে

ধাপ ২: পূর্ণাঙ্গ আবেদন (আমন্ত্রণসাপেক্ষে)

নির্বাচিত সংস্থাকে জমা দিতে হবে—১) স্বাক্ষরিত অফিসিয়াল আবেদনপত্র, ২) অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীর নথি,৩) বিস্তারিত বাজেট ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা,৪) প্রস্তাবিত ক্রয়ের জন্য তিনটি কোটেশন, ৫) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন, ৬) নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব, ৭) বৈধ FCRA লাইসেন্সের কপি, ৮) সংস্থার নিবন্ধন ও গঠনতন্ত্র, ৯) কর্মী কাঠামোর চার্ট, ১০) নিজস্ব তহবিলের প্রমাণ,১১)  প্রকল্প এলাকার বর্তমান পরিস্থিতির ছবি, ১২) আগের দাতা সংস্থার রেফারেন্স বা শংসাপত্র।

যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

১) লিঙ্গসমতা ছাড়া অন্য বিষয়ের প্রকল্প জমা, ২) অবকাঠামো, জীবিকা বা পুষ্টি প্রকল্প প্রস্তাব, ৩) বৈধ FCRA ছাড়া আবেদন, ৪) চলমান প্রকল্পের অংশ হিসেবে আবেদন, ৫) বাজেটে ওভারহেড বা এককালীন খরচ দেখানো, ৬) নির্ধারিত সময়ে এক-পৃষ্ঠার প্রস্তাব জমা না দেওয়া।

জার্মান মিশনস ইন ইন্ডিয়া স্মল গ্রান্টস স্কিম ২০২৬ কর্নাটক ও কেরালায় লিঙ্গসমতা ও নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। স্পষ্ট শর্ত, স্বল্প সময়সীমা ও কঠোর যোগ্যতা থাকায়, এই অনুদান সেই সব সংস্থার জন্যই উপযোগী, যারা ছয় মাসের মধ্যে বাস্তব ফল দেখাতে সক্ষম, কমিউনিটি-নির্ভর ও সুস্পষ্ট সামাজিক প্রভাবযুক্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায়।

Related Articles

Back to top button