জাতীয়রাজ্য

ভোটের আগে আতঙ্কে সম্পাদক পরিবার — নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে কাঠগড়ায় প্রশাসন

নিজস্ব সংবাদদাতা:২৯ এপ্রিল, দ্বিতীয় দফার বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে আবারও সামনে এল রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন। অভিযোগের কেন্দ্রে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক সাংবাদিক পরিবার—দৈনিক কাগজের সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় সরদার ও তাঁর পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে হুমকি, আক্রমণের আশঙ্কা, জমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকা সত্ত্বেও একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও মেলেনি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা—এমনই অভিযোগ তাঁদের।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সময়ে তাঁরা হুমকি, ভয়ভীতি এবং শারীরিক আক্রমণের আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে নির্বাচন এলেই এই আতঙ্ক বাড়ে বহুগুণ। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটের আগে এক নিকট আত্মীয়ের খুনের ঘটনাও এখনও তাঁদের মনে তাজা ক্ষত হয়ে রয়েছে। সেই ঘটনার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন পরিবার।
মৃত্যুঞ্জয় সরদার—একজন সাংবাদিক, সম্পাদক ও লেখক হিসেবে স্থানীয় স্তরে পরিচিত নাম। তিনটি দৈনিক পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত থেকে দীর্ঘদিন ধরে সমাজের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন তিনি। অভিযোগ, সেই কারণেই একাধিক প্রভাবশালী মহলের রোষানলে পড়তে হয়েছে তাঁকে। কলম থামানোর জন্য হুমকি, মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা—এমন অভিযোগও করেছেন তিনি।

ভোটের আগে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে বলে দাবি পরিবারের। তাঁদের বক্তব্য, “প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে বারবার। থানায় গিয়েছি, উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছেও আবেদন করেছি। কিন্তু বাস্তবে কোনও নিরাপত্তা পাইনি।”
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—যেখানে নির্বাচন কমিশন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের আশ্বাস দিচ্ছে, সেখানে কেন এক সাংবাদিক পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না? কেন বারবার অভিযোগ জানিয়েও কার্যকরী পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না?
প্রশাসনের তরফে যদিও এ বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া মেলেনি। স্থানীয় পুলিশের একাংশ জানিয়েছে, “অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” তবে পরিবারের দাবি, শুধু তদন্তের আশ্বাস নয়, প্রয়োজন অবিলম্বে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ সংবাদমাধ্যম। সেই সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাই যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তবে তা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য উদ্বেগজনক। ভোটের আগে এমন অভিযোগ প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।এই প্রেক্ষাপটে মৃত্যুঞ্জয় সরদার ও তাঁর পরিবারের একটাই দাবি—নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক, নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, এবং গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বরকে রক্ষা করা হোক।

Related Articles

Back to top button