রাজ্যে পুলিশী নির্যাতনের কোন তথ্যই নাকি রাজ্য মানবাধিকার কমিশন জানে না।
নিজস্ব প্রতিনিধি– বর্তমান রাজ্য সরকারের আমলে মানুষের নূন্যতম মানবাধিকার নেই এমনই অভিযোগ করে টুইট করেছিলেন রাজ্যপাল জগদীশ ধানকড়।যারই সারবত্ত্বা সম্পর্কে রাজ্যবাসীকে সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য আমরা খোদ রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের দারস্হ হয়েছিলাম।
গত ৩ নভেম্বর তথ্যের অধিকার আইনের আওতায় দায়ের করা আবদনটিতে আমরা প্রশ্ন রেখেছিলাম যাথাক্রমে,১) ১লা এপ্রিল ২০১৬ থেকে ৩১ শে মার্চ ২০২০ পর্যন্ত রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের হেফাজতে মোট কতজন অভিযুক্ত মারা গেছেন?২)এই সময়ে পুলিশী সন্ত্রাসের কারণে মৃত ব্যাক্তির নাম ও ঠিকানা ৩)এই পাঁচ বছরে মোট কতজন ব্যাক্তি অবৈধভাবে গ্রেপ্তার, ডিটেনশন ও অত্যাচারের শিকার হয়েছেন?৪)এরকম অভিযোগে কমিশন কতগুলি ঘটনায় সদর্থক পদক্ষেপ করেছেন?
সেক্ষেত্রে কি ধরনের সুপারিশ করা হয়?৫)এই সময়কালে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উপর এরাজ্যের পুলিশ কতবার গুলি চালিয়েছে?তাতে কত মানুষের মৃত্যু হয়েছে? যেখানে আমাদের ১১নং প্রশ্ন ছিল এপর্যন্ত পুলিশী ফেক এনকাউন্টারের সংখ্যা কত ? দুঃখের বিষয় এই সবই প্রশ্নের উত্তর রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের জানা নেই বলে তারা এড়িয়ে গেছেন। এব্যাপারে এই সকল প্রশ্নের জবাবদিহি একমাত্র রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিতে পারেন বলে গত ২৪ নভেম্বর এক চিঠিতে দপ্তরের কর্তাব্যক্তিরা জানিয়ে দিয়েছেন।
যা দেখে প্রশ্ন হল, রাজ্যের পুলিশী সন্ত্রাসের কোন রেকর্ড না রেখে কিভাবে রাজ্য মানবাধিকার কমিশন চলছে? তাহলে আদপে কমিশনের কাজটা কি? যেখানে মানুষের মানবাধিকার উলঙ্ঘনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি পুলিশের হাতেই হয়। যদিও এই বিষয়গুলো সম্পর্কে রাজ্য মানবাধিকার কমিশন কিছু জানাতে না পারলেও তাদের কাছে যে এই কয়বছরে মোট ২৮০০০ অভিযোগ জমা পড়েছে এবং তার মধ্যে যে ৮০০০ টি ক্ষেত্রে কমিশন বিচার্য হিসাবে মেনে নিয়েছেন সেটাও জানিয়েছেন।যা দেখে শুনে বলতে বাধা নেই রাজ্য মানবাধিকার কমিশন তার দায়িত্ব এড়িয়ে চলেছেন।
যার প্রতিক্রিয়ায় ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য এই ২৮০০০ অভিযোগের মধ্যে কি একটিও পুলিশের বিরুদ্ধে ছিল না?নাকি পশ্চিম বাংলার পুলিশের সব অফিসার কর্মচারী মঠের সাধু সন্তদের মত হয়ে গেছেন।অথচ কমিশনের কাছে রোজ যে পরিমাণ অভিযোগ জমা পড়ে তার অধিকাংশই পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা, অত্যাচার, বেআইনী গ্রেফতার জনিত ঘটনার জন্যই হয়। যেখানে কমিশনের দেওয়া তথ্যই হল রোজ ৪০থেকে৫০টি অভিযোগ তাদের অফিসে জমা পড়ে।
আরো আশ্চর্যের বিষয় হল যেকোনো বিচার্য বিষয়ে তদন্ত করে রিপোর্ট পেশের জন্য কমিশনের কাছে কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।অথচ কমিশনের দেওয়া তথ্যই বলছে বর্তমানে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের কাজকর্ম দেখাশোনার জন্য মোট ৬৮ জন এমপ্লয়ী আছেন যাদের আপাতত কোন কাজে লাগনো হয়েছে তার অবশ্য কোন জবাব নেই। এই ব্যাপারে কলকাতার আলিপুর কোর্টের আইনজীবী ও বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী প্রাবন্ধিক আনন্দ মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য হল,এই ধরণের প্রশ্নের উত্তর রাজ্য মানবাধিকার কমিশন চাইলে নিজেই দিতে পারে সেক্ষেত্রে তারাই এই বিষয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কাছেই জবাব দেওয়ার জন্য বলতে পারতেন।
একই সঙ্গে তার বক্তব্য গণতান্ত্রিক দেশে পুলিশী অত্যাচার নির্যাতনের ঘটনা জিরো এটা কখনোই বিশ্বাসযোগ্য নয় যেখানে এব্যাপারে মানবাধিকার কমিশন হয় তার দায় এড়িয়ে চলছেন নয়তো কমিশন শাসকের দলদাসে পরিণত হয়েছে। যেহেতু কমিশনের উচ্চ পদে এখন পুলিশেরই কর্মকর্তা থাকেন তাই কমিশন ইচ্ছাকৃত ভাবে তথ্য গোপন করে তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করেন। যেখানে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের বর্তমান অফিস বেয়ারাদের পুষতে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হয় এর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
যারই প্রতিক্রিয়ায় আরো এক মানবাধিকার কর্মী তথা পশ্চিম বঙ্গ সরকারের বিধি বিভাগের প্রাক্তন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা মোল্লা রজব আলি বলেন, বর্তমানে রাজ্য মানবাধিকার কমিশন হল সরকার পোষিত একটি সংস্থা যার কোন কাজ আছে বলে আদৌ মনে হয় না। যাকেই পরক্ষে তিনি ঠুঁটো জগন্নাথ বলে কটাক্ষ করলেন।



