ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পাশে সরকার, চাকরী ও অর্থসাহায্য
ভোটের ফলপ্রকাশের পর দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছেন রাজ্যের মোট ১৬ জন।রাজ্যে ভোট পরবর্তী বিক্ষিপ্ত অশান্তি নিয়ে আগেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দ্বিতীয় দিনই কার্যত নিজেই নামলেন পরিস্থিতি সামলাতে। বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করবে সরকার। পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, নতুন সরকারে এসে এবার শীতলকুচিতে নিহত চারজনের পরিবারকে চাকরি দেওয়ার প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত করবেন, এই প্রতিশ্রুতিও শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রীর গলায়।
বুধবার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েই রাজভবন থেকে দাঁড়িয়ে শান্তির বার্তা দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছিলেন, ”সংযত থাকুন সকলে। কোনও অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। বাংলার মানুষ অশান্তি চায় না।” এখন থেকে তিনি নিজে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখভাল করবেন। প্রয়োজনে কড়া ব্যবস্থা নেবেন। এমনকী সেখানে দাঁড়িয়ে রাজ্যপালের সমালোচনারও জবাব দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তখনই বোঝা গিয়েছিল, ফের কড়া প্রশাসকের ভূমিকায় তাঁকে দেখা যাবে।
বৃহস্পতিবার নবান্নে (Nabanna) সাংবাদিক বৈঠকে সেই সুর আবারও শোনা গেল। বিজেপির উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘সংযত হোন’। বললেন, ”ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসায় বিভিন্ন দলের কর্মীদের মৃত্যু হয়েছে। তৃণমূল, বিজেপি, সংযুক্ত মোর্চা – সকলেরই। যে কোনও মৃত্যুই দুর্ভাগ্যজনক। এক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক ভেদাভেদ নেই। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেবে সরকার। প্রত্যেক পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে।” পাশাপাশি তাঁর ঘোষণা, শীতলকুচিতে ভোটের দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের পরিবারকে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রক্রিয়া এবার দ্রুত হবে। সেদিনের ঘটনার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে সেসময় নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু থাকায় তা ঘোষণা এবং তা নিয়ে প্রচারে বাধা ছিল। এবার নতুন সরকার তৈরির পর সেই কাজই দ্রুত শেষ করতে চান মুখ্যমন্ত্রী।
রবিবারই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে হ্যাটট্রিক করে ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে তৃতীয়বার বসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে রবিবারের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষিপ্ত রাজনৈতিক সংঘর্ষ (Post Poll violence) , অশান্তির ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা প্রাণ হারিয়েছেন।



