জীবিকা

ক্ষতির মুখে ঠাকুরনগরের জবাফুল চাষীসহ বিক্রেতারা

 

বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃকরোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংকটজনক পরিস্থিতি মোকাবিলা করার উদ্দেশ্যে কিছু বিধিনিষেধ সহ কার্যত লকডাউন ঘোষণা করতে বাধ্য হয় রাজ্য সরকার। গত ১৪ই জুন ওই কার্যত লকডাউনের সময়সীমা বাড়িয়ে ১লা জুলাই করা হলেও সরকারি বিধি নিষেধ অনুসারে সকাল ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বাজার খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছে জবাফুল চাষী সহ বিক্রেতারা। রাজ্যের বৃহত্তর ফুলবাজারগুলির মধ্যে ঠাকুরনগর ফুলবাজার অন্যতম। ঠাকুরনগর ফুল বাজারের জবা ফুল চাষী থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা প্রভূত সমস্যার সম্মুখীন হয়ে পড়েছেন বলেই জানান তারা।

বৃহত্তর ঠাকুরনগর ফুল বাজার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক পার্থপ্রতিম বিশ্বাস পিনাকী বিশ্বাস এবং সহ সভাপতি মৃদুল বিশ্বাস ও প্রশান্ত দাস ঠাকুরের আহ্বানে গাইঘাটা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি ইলা বাগচী, গাইঘাটার সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সঞ্জয় সেনাপতি, যুগ্ম সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক কার্তিক রায় গাইঘাটা থানার আধিকারিক বলাই কুমার ঘোষ এর তত্ত্বাবধানে ঠাকুরনগর ফুল বাজার পরিদর্শনে যান। প্রবেশের মুখে দেখা যায় স্যানিটাইজ করে বাজারে ঢোকানো হয় প্রত্যেককে। এদিন পরিদর্শন চলাকালীন সহ-সভাপতি এবং সরকারি আধিকারিকেরা ফুল চাষী, ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সুবিধা অসুবিধার কথা শোনেন। এদিন ফুল চাষী এবং বিক্রেতারা জানান সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৭ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত বাজার খোলা থাকায় অন্যান্য ফুল বিক্রি হলেও বিপাকে পড়ছেন জবা ফুলের কুঁড়ি নিয়ে।

জবা ফুলের কুঁড়ি সাধারণত বিকেল বেলায় প্রস্ফুটিত হয়, আর সেই সময়টাই কার্যত লকডাউন এর আওতায় থাকায় বিক্রি করা সম্ভব নয়। ফুল পচনশীল হওয়ায় প্রস্ফুটিত জবাফুল হিমঘরে রাখলে বিক্রির অযোগ্য হয়ে যায়। সকালবেলা মূলত বাধ্য হয়েই ন্যূনতম দামে ফুলগুলি বিক্রি করতে হয়, অনেক সময় ক্রেতারা কিনতেও চান না, তাই বাধ্য হয়েই জবাফুলগুলি ফেলে দিতে হয় বলেই জানান চাষী থেকে বিক্রেতারা। তাই সরকার যদি তাদের ফুল বিক্রির সময় সীমা নিয়ে একটু ভাবতেন তাহলে উপকৃত হতেন এমনটাই আধিকারিকদের জানান এদিন তারা।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ঠাকুরনগর ফুলবাজার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় আধিকারিকেরা ফুলক্রেতা এবং বিক্রেতাদের হাতে এদিন মাস্ক-স্যানিটাইজার বিতরণ করেন। পাশাপাশি সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারি বিধি নিষেধ সম্পর্কিত জনসচেতনতা মূলক মাইকিং করা হয়। ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে সরকারি বিধি নিষেধ পালন করতে দেখা যায় এদিন।

এদিন গাইঘাটা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি ইলা বাগচী জানান আমরা সহানুভূতির সঙ্গে জবাফুল ব্যবসার সাথে জড়িত সকলের অবস্থার কথা বিবেচনা করবো। একই সাথে সকল জনসাধারণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন সরকারি বিধিনিষেধ মেনে করোনা অতিমারির মোকাবিলায় সরকারের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করুন। আমরা চাই বৃহত্তর ঠাকুরনগর ফুলবাজার আবার স্বমহিমায় ফিরে আসুক।

Related Articles

Back to top button