ভবানীভবনে সিআইডি ডেকে পাঠালেন আইপিএস দেবাশীষকে

নিজস্ব প্রতিনিধি: শুক্রবার দেবাশিসবাবুর সিআইডি তলব করেছে ও শীতলকুচির ঘটনায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে সেটা আগেই জানা গিয়েছিল।
মনে করা হয়েছিল হয় তিনি গা ঢাকা দেবেন নাহলে এড়িয়ে যাবেন। তবে তার কোনওটাই হয়নি। শুক্রবার সকাল ১১টা নাগাদ যথারীতি তিনি হাজিরা দিলেন ভবানীভবনে সিআইডির সদর কার্যালয়ে। দুপুর ২টো পর্যন্ত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন সিআইডির আধিকারিকেরা, এমনটাই জানা যাচ্ছে। তিনি মানে কোচবিহার জেলার প্রাক্তন পুলিশ সুপার দেবাশিস ধর। শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে গত ১০ এপ্রিল ৪জন ভোটার মারা যান। সেই ঘটনা নিয়েই এদিন দেবাশিসবাবুকে সিআইডির আধিকারিকেরা জিজ্ঞাসাবাদ করছেন বলে জানা গিয়েছে।মনে করা হয়েছিল দেবাশিস ধর তদন্তে সহযোগিতা না করলে তাঁকে গ্রেফতার করতে পারেন সিআইডির আধিকারিকেরা। কিন্তু দুপুর ২টো পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী গ্রেফতারির কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই জানা গিয়েছে। তবে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দেবাশিসবাবুর কাছ থেকে মেলেনি বা তিনি দিতে পারেননি বলেই সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, প্রাক্তন পুলিশ সুপারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই সেদিন কার নির্দেশে গুলি চালানো হয়? গুলি চালানোর সময় তিনি কোথায় ছিলেন? গুলি চালানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানতেন কিনা? আর ঠিক কী ঘটেছিল যে গুলি চালানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছিল? এই সমস্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে দেবাশিস ধরের কাছ থেকে।নির্বাচন কমিশনার দেবাশিস ধরকে কোচবিহারের পুলিশ সুপার পদে বসিয়েছিল। শীতলকুচির গুলি চালনার ঘটনায় সেই সুপার কমিশনকে রিপোর্ট দিয়েছিল যে কেন্দ্রীয় বাহিনী আত্মরক্ষার স্বার্থে গুলি চালিয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছে, সেদিন বুথে কী এমন ঘটেছিল যে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আত্মরক্ষার স্বার্থে গুলি চালাতে হয়েছিল? খোদ পুলিশ তো বটেই এলাকাবাসীও সেদিন এই ধরনের কোনও ঘটনার কথা দাবি করতে পারেনি। সেদিন বুথের বাইরে সামান্য এক ঝামেলা হয়েছিল, কিন্তু এমন কোনও ঝামেলা হয়নি যার ভিত্তিতে এটা বলা যায় যে কেন্দ্রীয় বাহিনী আত্মরক্ষার স্বার্থে গুলি চালিয়েছিল।
সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠবেই যে কিসের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার ওই রিপোর্ট দিয়েছেন? সেটাই এদিন দেবাশিস ধরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিআইডির আধিকারিকেরা। সব থেকে বড় কথা সিআইডির ব্যালেস্টিক ও ফরেন্সিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রমাণ ও নমুনা পেয়েছেন যে, সেদিন কেন্দ্রীয় বাহিনী ভিন্ন অন্য কেউ গুলি চালায়নি। আর গুলি বুথের বাইরে থেকে বুথের ভিতর লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। তাই প্রশ্ন উঠেছে বুথের ভিতরে সেদিন কী এমন ঘটেছিল যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের বুথ লক্ষ্য করে গুলি চালাতে হয়েছিল। ঝামেলা তো হয়েছিল বুথের বাইরে। গুলি কে ভিতর লক্ষ্য করে চলেছিল? সেই সঙ্গে কার নির্দেশে গুলি চালানো হয়েছিল সেটাও এখনও সামনে আসেনি। দেবাশিস ধরকে সে বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করছেন সিআইডির আধিকারিকেরা।



