সার্কাস শিল্প নিয়ে মূল্যবান কিছু কথা

স্বপন দত্ত বাউল, পূর্ব বর্ধমান — সার্কাস ম্যানেজার মোল্লা সাদেক রহমানের বক্তব্যে তিনি বলেন যে সার্কাস হলো একটা মেলা শুধু মেলা নয় আনন্দ মেলা। সার্কাস এমন একটি শো যেটা পরিবারের সকলে মিলে একসঙ্গে দেখা যায় । সার্কাসের মধ্যে কোনো জাতি ধর্মের ভেদাভেদ নেই এখানে সকল ধর্মের মানুষ কাজ করেন হিন্দু ,মুসলিম , শিখ , খ্রিস্টান সকলেই একসঙ্গে মিলে মিশে তাদের অনুষ্ঠান করেন ও সকলেই একসঙ্গে যোগ দেন আনন্দ করেন । ম্যানেজার মোল্লা সাদেক রহমান আরো বলেন যে সার্কাস হলো এমন একটি শিল্প যেখানে কোনো রাজনীতি নেই কোনো ইউনিয়ন বাজি পাটি বাজি নেই ।
তবে সার্কাসে বন্য পশুর খেলা জীবজন্তুর খেলা নিষিদ্ধ করার জন্য সার্কাসের জনপ্রিয়তা ও কদর অনেক কমে যাওয়াতে সার্কাসের দর্শক সংখ্যা অনেক কমে গেছে আগে তো মানুষ গরুরগাড়ি করেও সার্কাস দেখতে আসত টিকিট পেত না এমন কি দেখা গেছে দু তিন দিন সার্কাস গ্রাউন্ডের কাছা কাছি কোথাও আত্মীয়র বাড়িতে থেকে তারপর টিকিট পেয়ে সার্কাস দেখে বাড়ি ফিরত। সবসময় টিকিট পাওয়াই যেত না তবে মানুষ একটা শো টিকিট না পেলেও তারপরের শো দেখার জন্য দাঁড়িয়ে থেকে অপেক্ষা করে লাইনদিয়ে টিকিট কেটে সার্কাস দেখতো। কিন্তূ বতমানে টিভি সিরিয়াল ,ও হাতে মোবাইল ফোন নিয়েই সকলে ব্যাস্ত থাকার জন্য সার্কাসে দর্শক সংখ্যা অনেক কমে গেছে।
তার উপর covid 19 করোনা মহামারি তে ও লকডাউনে প্রায় ডের বছর ধরে সার্কাস শো তো একেবারেই বন্ধ । সার্কাসের কর্মচারী রা যেমন কাজ হারিয়েছেন তেমনি সার্কাস মালিকদের ও সার্কাস বন্ধ থাকার জন্য অনেক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। সার্কাসে কত শিল্পী কলাকুশলীরা খেলা দেখিয়ে ও বহু মানুষ কর্মী রূপে নানান কাজ করে রুজি রোজগার করেন । সার্কাসে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কর্মী কাজ করেন । করোনা ও লকডাউন এ তাদের কাজ সবার বন্ধ সার্কাস শো বন্ধ বলেই।
তারা কোনো আয় উপায় করতে না পেরে খুবই কষ্টে আছেন। মোল্লা সাদেক রহমান রাজ্য সরকারের কাছে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অনুরোধ করলেন তার বক্তব্যে যে মুখ্যমন্ত্রী যেন সার্কাস কে বাঁচিয়ে রাখতে সকল রকম সহযোগিতা ও আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন ।
সার্কাস মেলা চালু করেন অসংখ্য সার্কাসের কর্মচারীরা কলা কুশলীরা যেন আবার তাদের কাজ ফিরে পেয়ে রুজি রোজগার করতে পেরে জীবনে যেন খেয়ে পড়ে বাঁচতে পারেন । আর সার্কাস ময়দান বেশির ভাগ সময়ই নোকরা মাঠে সার্কাস তাবু ফেলার জন্য দেওয়া হয় এতে নোকরা পরিবেশ হওয়ায় সার্কাস কর্মীদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয় । তাই সার্কাস মেলা যেন ভালো পরিষ্কার জায়গাতে পাওয়া যায় তার দিকে সরকার যদি নজর দেন তাহলে সার্কাস কর্মীরা খুবই উপকৃত হবেন।


