কলকাতা

নারীপাচার রোধ; পুজোর শহরে অসুর নিধন ‘দুর্গা’বাহিনীর

কলকাতা, 21 অক্টোবর: উৎসবের আবহে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ভিড় সামলানোই যখন দায়, সেই সময় শহর জুড়ে চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে একের পর এক অপরাধের পর্দাফাঁস করেছে কলকাতা পুলিশের মহিলা বাহিনী । নিজের বাড়িতে লালসার শিকার কিশোরীকে উদ্ধার হোক বা জমজমাট পার্কস্ট্রিটের বুকে অন্ধকার জগতের হদিশ, যেখান থেকে ছোট ছোট মেয়েদের বিদেশে পাচার করা হচ্ছিল, পঞ্চমী থেকে দশমী, শহর জুড়ে দফায় দফায় কার্যত অসুর নিধন করলেন কলকাতা পুলিশের ‘দুর্গা’বাহিনী ৷কলকাতা পুলিশের শীর্ষস্থানীয় এক অফিসারের কথায়, ‘‘কলকাতা পুলিশ শহরের মহিলা এবং শিশুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর ৷ সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় আমাদের মহিলা অফিসাররা কার্যত মা দুর্গার রূপ ধারণ করেন ৷ পীড়িতদের উদ্ধার করেন তাঁরা ৷ আধুনিক যুগের অসুরদের হাত থেকে পরস্পরকে রক্ষা করতে পারলেই আজকের দিনে একে অপরের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারেন মহিলারা ৷ ’’অন্য দিকে, নিজের বাড়িতে দাদুর লালসার শিকার হওয়া থেকে এক কিশোরীকে বাঁচিয়েছেন মেঘনা এবং মানসী ৷ কলেজ পড়ুয়া এক বিবাহিত তরুণীকে স্বামীর অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা করেছেন ৷ একটি তিন বছরের শিশুকে যৌন নিগ্রহের হাত থেকে রক্ষা করেছেন কুমারিকা ৷ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেন তিনি ৷ পরে আদালত ওই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবনের সাজা শোনায় ৷ এ ছাড়াও, 2011 থেকে 2020 সালে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু অপরাধমূলক ঘটনা, যা এত দিন ধরে ঝুলছিল, তা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ৷

উৎসবের আবহে আনন্দ-ফূর্তির সঙ্গে সমান্তরাল ভাবেই অপরাধমূলক ঘটনার বৃদ্ধি নতুন কিছু নয় ৷ তাই গোটা শহর উৎসবে শামিল হলেও, স্বাভাবিক ভাবেই কাজ অনেক গুণ বেড়ে যায় পুলিশের ৷ এ বারেও তার অন্যথা হয়নি ৷ নতুন জামাকাপড় পরে মানুষ যখন প্যান্ডেলে ভিড় করছেন, তাঁদের ঠিক পাশেই কখনও সাদা উর্দি পরিহিত অবস্থায়, কখনও আবার সাধারণ পোশাকে ভিড়ে মিশে গিয়ে অপরাধ নিবারণে ব্যস্ত ছিলেন কলকাতা পুলিশের মহিলা অফিসাররা ৷ তাতেই একাধিক অপরাধমূলক ঘটনা এড়ানো গিয়েছে ৷পুলিশ সূত্রে খবর, পুজোর শহরে এ বারে অপরাধ দমনে অগ্রণী ভূমিকায় থিলেন তন্দ্রিমা গুপ্ত মুখোপাধ্যায়, বর্ণা ঘোষাল, সরোজিনী সোরেন, মেঘনা কর, মানসী কর্মকার, মিনু সোনার, কুমারিকা মজুমদার এবং রত্না সরকারের মতো অফিসাররা ৷ একটি তিন বছরের শিশুকে যৌন নিগ্রহ থেকে রক্ষা করেছেন তাঁরা ৷ আবার ভিন্ রাজ্যে মেয়ে পাচারও রুখে দিয়েছেন ৷পুজো চলাকালীনই পার্কস্ট্রিট থেকে এক দল মেয়েকে পাচারের প্রক্রিয়া চলছিল ৷ একটি ঘরে বেশ কয়েক জনকে আটকে রাখা হয়েছিল তার জন্য ৷ এই গোটা চক্রের মাথায় আবার দুই মহিলাই ছিল ৷ নিজের টিমকে সঙ্গে নিয়ে ওই মেয়েগুলিকে উদ্ধার করেন তন্দ্রিমা ৷ অভিযুক্ত দুই মহিলাকে জেলে পুরেছেন তিনি ৷ বিষয়টির গভীরে পৌঁছতে তদন্ত শুরু হয়েছে ৷নেটমাধ্যমে ভুয়ো প্রোফাইল বানিয়ে বেশ কিছু দিন ধরে এক তরুণীকে এক যুবক উত্ত্যক্ত করছিল বলে অভিযোগ ৷ পুজোর মধ্যেই ওই যুবকের নাগাল পান সরোজিনী ৷ ওই যুবকের বিরুদ্ধে শুধু পদক্ষেপই করেননি তিনি, নেটমাধ্যমে কী ভাবে নিরাপদ থাকা যায়, তা নিয়ে সতর্কীকরণের কাজেও নেমে পড়েছেন তিনি ৷

Related Articles

Back to top button