পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দেউলিয়া অবস্থা আরও প্রকট হল সোমবার
কলকাতা, 24 জানুয়ারি : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দেউলিয়া অবস্থা আরও প্রকট হল সোমবার । এবার আর একই মাসে দু‘বার বাজার থেকে ধার নিয়েও পুনরাবৃত্ত ব্যয় চালানো সম্ভব হচ্ছে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পক্ষে । তাই একই মাসে তৃতীয়বারের জন্য ধার নিতে হচ্ছে রাজ্য সরকারকে ৷ সেই কারণে সোমবার পশ্চিমবঙ্গ সরকার বাজার থেকে ধার নিল 3 হাজার কোটি টাকা । চলতি জানুয়ারিতে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের ঋণের পরিমাণ হল 6,500 কোটি টাকা । এর আগে গত ডিসেম্বরে রাজ্য সরকার দুই কিস্তিতে বাজার থেকে ধার নিয়েছিল । সেবারও মোট ধারের পরিমাণ ছিল 6,500 কোটি টাকা ।অর্থনীতিবিদদের মতে, গত দশ বছরে রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা বহির্ভূত খরচ হুহু করে বেড়েছে এবং এই খরচ মেটাতে বাড়ছে ধারের বহর ৷ তাছাড়া আবগারি শুল্ক ছাড়া রাজস্ব আদায়ের কোনও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকার ফলে এখন খরচ চালানোর জন্য ধার ছাড়া আর কোনও বিকল্প উপায় নেই রাজ্য সরকারের হাতে । অর্থনীতিবিদরা আরও মনে করেন, রাজ্যের দেনা এবং গ্রস স্টেট ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট অনুপাত ইতিমধ্যেই 30 শতাংশ । এটা বেড়ে 50 হলেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে ।রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার একটি বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, সোমবার মোট 14টি রাজ্য খোলা বাজার থেকে মোট 24,639 কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে । এর মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণগ্রহীতা রাজ্য হল উত্তরপ্রদেশ ৷ সেখানকার সরকার বাজার থেকে ঋণ নিয়েছে 5,000 কোটি টাকা । দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ৷এর আগে গত 18 জানুয়ারি সবমিলিয়ে 12টি রাজ্য সর্বমোট 20,659 কোটি টাকা বাজার থেকে ঋণ নেয় । এই 12টি রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ঋণের পরিমাণ ছিল 1,000 কোটি টাকা । সেই সময়ও সর্বোচ্চ ঋণগ্রহীতা রাজ্য ছিল উত্তরপ্রদেশ ৷ যাদের ঋণের পরিমাণ ছিল 3,000 কোটি টাকা । তার আগে নতুন বছরের শুরুতেই 6 জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গ সরকার বাজার থেকে 2,500 কোটি টাকা ঋণ নেয় । তখন 9টি রাজ্য বাজার থেকে মোট 19,340 কোটি ঋণ নিয়েছিল ৷ সেই সময় পশ্চিমবঙ্গ ছিল সর্বোচ্চ ঋণগ্রহীতা রাজ্য ।গত মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকার দু’বার খোলা বাজার থেকে ধার নিয়েছিল । গত ডিসেম্বরের 14 তারিখে সবমিলিয়ে সাতটি রাজ্য সর্বমোট 7,053 কোটি টাকা বাজার থেকে ঋণ নেয় । এই সাতটি রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি 2,500 কোটি টাকা । ওই মাসের 24 তারিখে সবমিলিয়ে 16টি রাজ্য সর্বমোট 22,984 কোটি টাকা বাজার থেকে ঋণ নেয় । এই দফাতেও পশ্চিমবঙ্গের ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি ছিল ৷ যার পরিমাণ ছিল 4,000 কোটি টাকা । এর অর্থ ডিসেম্বরের 14 থেকে জানুয়ারির 24 তারিখ, এই 41দিনে পশ্চিমবঙ্গ সরকার মোট 13 হাজার কোটি টাকা খোলা বাজার থেকে ঋণ নিল ।প্রসঙ্গত, 2011 সালে যখন 34 বছরের বামফ্রন্ট শাসনের অবসান হয় এবং মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়, সেই সময় রাজ্যের পুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণ ছিল 1.93 লক্ষ কোটি টাকা । রাজ্য সরকারের বাজেট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, 2020-21 অর্থবর্ষ শেষে সেই পুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ানোর কথা প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ কোটি টাকা ৷



