পুর-জয় করে বারাণসীর পথে মমতা
108 টির মধ্যে 100 দুটি পেয়েছে ঘাসফুলএকটি পেয়েছে সিপিএম, একটি হামরো পার্টি। বাকি চারটিতে ত্রিশঙ্কু। তবে সেঞ্চুরি পার করায় দারুণ খুশি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার উত্তর প্রদেশে রওনা দেওয়ার আগে এই জয়ের কৃতিত্ব রাজ্যবাসীকেই দিলেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাংলার মানুষ আমাকে আরও বেশি করে আশীর্বাদ দিয়েছেন। আমি মানুষের আশীর্বাদ নিয়ে বেরোচ্ছি উত্তর প্রদেশের জন্য। মানুষের প্রতি আমাদের অনেক কৃতজ্ঞতা।” একইসঙ্গে পুরভোট নিয়ে বিরোধীদের তোলা অশান্তি-লুঠপাটের অভিযোগকেও এদিন কার্যত উড়িয়ে দেন তিনি।l
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, “অনেক কুৎসাই রটেছিল। ১১ হাজার ২৫টা বুথে ভোট হয়েছিল সম্ভবত। তার মধ্যে সাতটা আটটা বুথে আপনারা দেখিয়েছেন গন্ডগোল। এই বুথের মধ্যেও যতদূর আমি জানি ইভিএম নিয়ে সমস্যা হয়েছে। ইভিএম রিপ্লেস হয়েছে। দু’টো বুথে রিপোল হয়েছে। গতকালও দমদমে ও শ্রীরামপুরে রিপোল হয়েছে। আমাকে বলুন তো পুরুলিয়ায়, বাঁকুড়ায়, মেদিনীপুরে, বীরভূম, বর্ধমানে, হুগলির আরামবাগের একটা প্রান্ত ছাড়া কোথাও কোনও ঘটনা ঘটেছে? উত্তর ২৪ পরগনা এমনকী ব্যারাকপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কোনও সমস্যা শুনেছেন? জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, দার্জিলিং, মালদহ কোথাও কিছু ঘটেনি।” বরং মমতার দাবি, মানুষ উৎসবের মেজাজে নিজের ভোট নিজে দিয়েছেন।
তবে এই জয়ে দলের কারও মধ্যে যেন ঔদ্ধত্য বা অশান্ত হওয়ার প্রবণতা না লক্ষ্য করা যায় শহর ছাড়ার আগে সে বার্তাও দিয়ে যান তৃণমূল সুপ্রিমো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “পাহাড় থেকে জঙ্গল, সুন্দরবন থেকে বর্ধমান, বীরভূম, নবদ্বীপ, শান্তিপুর প্রতিটা জায়গায় জিতেছি। যে জয়নগরে আমরা জীবনে কোনওদিন জিতিনি পুরভোটে। সেখানেও এত বড় জয় মানুষের কাজ করতে আমাদের আরও এগিয়ে দেবে। যত জিতব তত যেন নম্র হই, শান্ত হই। মানুষের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।”
এবার প্রথম থেকেই তৃণমূলের কাঁটা হয়েছিল নির্দল প্রার্থীরা। ভোটের ফলেও একাধিক জায়গায় নির্দলদের জয় লক্ষ্য করা গিয়েছে। অনেকেই জয়ের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেছেন, তাঁরা আসলে তৃণমূলেরই সৈনিক। দলের হয়েই কাজ করতে চান। কিন্তু প্রথম থেকেই দলের তরফে জানানো হয়েছে কোনওভাবেই নির্দলদের ফেরানো হবে না। এদিন নির্দলদের ‘ঘর ওয়াপসি’ প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “নির্দল নিয়ে আমি আলোচনা করব না। এটা রাজ্য কমিটির বিষয়। দল সিদ্ধান্ত নেবে। এটা কিছু এলাকায় হয়েছে। কিছু মানুষ করেছে। খুব বেশি নয়। আপনারা ফল দেখেছেন। খুবই ছোট ব্যাপার, রাজ্য কমিটিই এটা দেখবে।”



