কলকাতা

অগ্নিদগ্ধ এজরা স্ট্রিট

নিছকই অগ্নিকাণ্ড নাকি নেপথ্যে গোপন রহস্য

 

ইলেক্ট্রিক কারখানার জিনিস, দাহ্য পদার্থ বোঝাই গুদামে আগুন লেগে মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে এজরা 

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: সপ্তাহের শেষ ব্যস্ততম দিনের সাত সকালেই শহর কলকাতা আবারও এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এর সাক্ষী হল। আজ, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ভোর ৫টা নাগাদ ১৭ নং, বড়বাজার এজরা স্ট্রিটে ইলেকট্রিক সামগ্রীর দোকানের দ্বিতীয় তলে হঠাতই বিধ্বংসী আগুন লাগে।
প্রথমে আশেপাশের বাসিন্দারাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন, এরপরে দমকলে খবর দিলে; প্রথমে ৬টি ইঞ্জিন পৌঁছেয়। আরও দমকলের ইঞ্জিন এখনো যাচ্ছে বলেই জানা গিয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই পাশের বিল্ডিংয়েও ও চারপাশে ক্রমশ আগুন ছড়িয়ে পড়তে থাকে। কালো ধোঁয়ায় আকাশ ধেকে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্র মারফত খবর, “হঠাৎ একটা বিকট আওয়াজ হয়। তারপর বাইরে বেরিয়ে দেখি আগুনের লেলিহান শিখায় চারিদিক ছেয়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা যাচ্ছিল না। কারণ কিছু দেখা যাচ্ছিল না। তবু আমরা চেষ্টা করেছি।”
তবে দোকানের ভিতরে প্রচুর ইলেকট্রিক সামগ্রী থাকায়, সেগুলি দুমদাম শব্দে ফাটছে। প্রাণপণে চেষ্টা করছেন। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় এবং দাহ্য পদার্থ অতিরিক্ত পরিমাণে গুদামগুলোতে মজুত থাকায় আগুন ক্রমাগত ছড়িয়ে পড়ছে ও ক্রমশ ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে। আগুনের ভয়াবহতা এতটাই বেশি যে হু হু করে আগুন ছড়িয়ে পড়তে থাকে। দোকানটি যে বিল্ডিংয়ে, সেটি সম্পূর্ণ আগুনের গ্রাসে চলে গিয়েছে।
দমকলের আশঙ্কা, উল্টোদিকের আরও একটি বিল্ডিংয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। একের পর এক তলে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ছে কারণ আশেপাশের সমস্ত দোকানই ইলেকট্রিক সামগ্রীর। বৈদ্যুতিন সামগ্রী থাকায় এবং এসি থাকায় হু হু করে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। বিল্ডিংয়ের মাঝের অংশে পৌছনো যাচ্ছে না। গলির দুই দিক থেকে দমকলের কর্মীরা জল দিচ্ছেন। বিল্ডিংগুলি ঠান্ডা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সময় যত গড়াচ্ছে, আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ছে, যে দোকানে আগুন লেগেছিল, সেই বিল্ডিংটি সম্পূর্ণ আগুনের গ্রাসে চলে গিয়েছে। উল্টোদিকের বিল্ডিংয়ে প্রথমে একটি তলে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল, এখন তা একের পর এক তল থেকে ছাদ পর্যন্ত আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। সিলিন্ডার ফাটার শব্দ আসছে পরপর। আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা।

দমকল কর্মীরা কোনওমতে পাশের বিল্ডিংয়ের ছাদে পৌঁছতে পেরেছেন। তবে আগুন নেভাতে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে। যে বিল্ডিংয়ে প্রথম আগুন লেগেছিল, যতক্ষণ না সেই বিল্ডিংয়ের মাঝখানের অংশের আগুন নেভানো যাচ্ছে, ততক্ষণ বাকি অংশের আগুনও নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় দমকলের পৌঁছতে সমস্যা হচ্ছে। বাড়ির ছাদগুলি টিনের হওয়ায়, আগুনে তেঁতে রয়েছে, দমকলকর্মীরা যেতে পারছেন না সেখানেও।
আশেপাশের সমস্ত বাড়িতে অগ্নিসংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। দমকলকর্মীরা প্রাণপণ চেষ্টা করছেন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার। স্থানীয় বাসিন্দারাও আশেপাশের বিল্ডিং থেকে জল দিচ্ছেন।
বিগত কয়েক দিন ধরে নিউটাউন, বড়বাজার, এজরা স্ট্রিট এ পরপর আগুন লাগার ঘটনা কি আমাদের চারপাশের পরিকাঠামো এবং অ-সচেতনতাকে ও উদাসীনতাকে বারবার কাঠগড়ায় তুলছে না?

এই বিষয়ে, দমকলের প্রতিমন্ত্রী সুজিত বসুর সঙ্গে ফোনে যোগযোগ করা হলে উনি জানান,” খুবই দুঃখ জনক ঘটনা ঘটেছে কিছুদিন ধরে। বহু মানুষ, ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। আমরা খুব তাড়াতাড়ি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করব। কোথায় খামতি রয়েছে, কোন জায়গায় পরিকাঠামো দরকার। এর থেকেও বড় বিষয়, আমরা এখনিই খোঁজ নিতে শুরু করে দিয়েছি কোথায় ব্যবসায়ীরা গুদামে দাহ্য পদার্থ রাখছে। সেগুলো চিহ্নিত করছি এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমনকী ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল করাও হতে পারে। এটুকুই বলব, ধৈর্য্য রাখুন। আস্থা ও ভরসা রাখুন।।আমরা মানুষের পাশে থেকে সমস্যার সমাধান এর জন্য চেষ্টা করে চলেছি।”

Related Articles

Back to top button