কলকাতা

ষষ্ঠ দফার নির্বাচনে অভিযুক্ত প্রার্থীরা সব ফুলের দলে

শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত : ষষ্ঠ দফার নির্বাচনে অভিযুক্ত প্রার্থীরা সব ফুলের দলে। এই দফায় ঘাসফুল ও পদ্মফুলে সমান সংখ্যক অভিযুক্ত প্রার্থী রয়েছেন। ওয়েস্টবেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ ও এএফডিআর। এই দুই সংস্থার সমীক্ষায় এই তথ্য জানা গেছে। ওই সমীক্ষা বলছে ষষ্ঠ দফার নির্বাচনে যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের মধ্যে তৃণমূল ও বিজেপি-র ২০ জন করে প্রার্থী ধর্ষণ সহ বিভিন্ন গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত। ষষ্ঠ দফায় উত্তর দিনাজপুর, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমানের ৪৩টি বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ৩০৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। এই প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনে পেশ করা ফলফনামা খতিয়ে দেখে এই দুই সংস্থা জানিয়েছে ৩০৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭১ জন অর্থাৎ ২৩% প্রার্থীর বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা রয়েছে।

ওয়েস্টবেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ ও এএফডিআর নামক যে সংস্থা দুটি এই সমীক্ষা করেছেন তাদের বক্তব্য, অপরাধী, গুরুতর অপরাধী যারা তারা যাতে প্রার্থী হতে না পারে সেই দাবি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহল থেকে করে আসা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই অভিযুক্ত ব্যক্তিদেরই নির্বাচনে লড়ার জন্য প্রার্থী করছেন। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম হল না। দেখা যাচ্ছে সবকটি দফার নির্বাচনেই অপরাধীরা প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন।

ষষ্ঠ দফার নির্বাচনে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে এই রকম প্রার্থীর সংখ্যাও কম নয়। ষষ্ঠ দফার নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে ৬৬ জনের কোটি টাকার ওপরে সম্পত্তি রয়েছে। শতাংশের হিসেবে সেটা হচ্ছে ২২% । ষষ্ঠ দফায় সবচেয়ে ধনী প্রার্থী হলেন অর্চনা মজুমদার। তিনি উত্তর দমদম বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী অর্চনাদেবীর সম্পদের পরিমাণ ২৮ কোটি টাকা। সমীক্ষা বলছে ষষ্ঠ দফায় বিজেপি-র ১৯ জন প্রার্থীর সম্পদের পরিমাণ এক কোটি টাকার ওপরে। এক কোটি টাকার ওপরে সম্পদ রয়েছে তৃণমূলের ২৮ জন প্রার্থীর।

উঠছে নির্বাচনে জয়ী হয়ে যারা সরকার গঠন করবেন তাঁরা যদি অপরাধী হন তাহলে তাঁরা সমাজের ভালোর জন্য কাজ করবেন কী ভাবে? তাঁদের কাছ থেকে সমাজ কী আশা করতে পারবে? রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী সভায় গালভরা বক্তব্য রাখেন। শুনলে মনে হয় এদের থেকে ভালো মানুষ আর হয় না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এদেরই কারও কারও মধ্যে যখন অপরাধের তথ্য খুঁজে পাওয়া যায় তখন মনে হয় যারা মন্ত্রী হয়ে সমাজ সংস্কারের কথা বলবেন তাঁরা নিজেরাই যদি অপরাধী হন তাহলে সেই সমাজের কী হাল হবে?

তথ্য সুত্র: কলকাতা 24×7

Related Articles

Back to top button