গলফ টুর্নামেন্টে প্রথম দেখা, হোটেল রুমে চলত যৌনতা! পর্নতারকার সঙ্গে কতটা গভীর ছিল ট্রাম্পের সম্পর্ক?

নিউ ইয়র্ক: আমেরিকার ইতিহাসে লজ্জার দিন। পর্নতারকাকে ঘুষ দেওয়ার মামলায় গ্রেফতার হলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। আমেরিকার ইতিহাসে এই প্রথম কোনও প্রেসিডেন্ট ফৌজদারি মামলায় (Criminal Case) গ্রেফতার হলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলস(Stormi Daniels)-র সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন ট্রাম্প। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শুরু হওয়ার আগে তাঁদের এই সম্পর্কের কথা যাতে ফাঁস না হয়ে যায়, তার জন্য ১ লক্ষ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার ঘুষ (Hush Money) দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই অভিযোগ সামনে আসতেই মামলা শুরু হয় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। কিন্তু কীভাবে পর্ন তারকার সঙ্গে পরিচয় হল প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্টের? তাদের গোপন সম্পর্কের কথা ফাঁসই বা হয়ে গেল কী করে?
যে পর্ন তারকার সঙ্গে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম জড়িয়েছে, তিনি হলেন স্টর্মি ড্যানিয়েলস। তাঁর আসল নাম স্টেফানি ক্লিফর্ড। স্টর্মির দাবি, ২০০৬ সালে ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় হয়। নেভাদায় তারকাদের একটি গলফ প্রতিযোগিতায় এসেছিলেন ট্রাম্প। সেখান থেকেই পরিচয়। সেই সময় ট্রাম্প স্টর্মিকে নামকরা টিভি তারকা বানিয়ে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
এরপরে ২০০৭ সালে লস অ্যাঞ্জেলসে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন স্টর্মি। সেই সময় বেভারলি হিলসের একটি হোটেলে ফের ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা হয়। যদিও এই সাক্ষাৎ পরিকল্পনা মাফিকই ছিল বলে সূত্রের খবর। এরপরই থেকেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলস।
২০১১ সালে একটি মার্কিন ম্যাগাজিনের সাক্ষাৎকারে স্টর্মি দাবি করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক সময় তাঁর সম্পর্ক ছিল। একাধিবার তাঁদের মধ্যে যৌন সম্পর্কও হয়। এই সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় ট্রাম্প এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
দুর্নীতির কালো টাকা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছে দিতেন আরেক ‘পার্থ’, নতুন তথ্য সামনে আনল CBI
২০১৬ সালের জুলাই মাসে রিপাবলিকান পার্টির হয়ে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারের সময় পর্নতারকার সঙ্গে গোপন সম্পর্কের কথা জানাজানি হলে তার কুপ্রভাব পড়তে পারে, এই কথা ভেবেই স্টর্মি ড্য়ানিয়েলসকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য় ১ লক্ষ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার ঘুষ দেওয়া হয়েছিল। খোদ ট্রাম্প নয়, তাঁর আইনজীবী এই ঘুষের টাকা দিয়েছিলেন।
২০১৮ সালে ঘুষ দেওয়ার বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। সেই সময় ট্রাম্পের আইনজীবী দাবি করেছিলেন, নির্বাচনী প্রচারের তহবিল থেকে নয়, নিজের পকেট থেকেই স্টর্মিকে ওই মোটা টাকা দিয়েছিলেন তিনি। এই বিষয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনও নির্দেশ দেননি।
২০২৩ সালে ফের একবার সামনে আসে মামলাটি। গত ৩০ মার্চ মামলা দায়ের করা হয়। ৪ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।


