দলের কেউ ভুল করে থাকলে ক্ষমা করে দিন : উদয়ন

নিজস্ব সংবাদদাতা: বুথ সম্মেলনে কর্মীদের সামনে ক্ষমা চাইলেন দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ। তিনি বলেন, “তৃণমূলের যদি কেউ ভুল করে থাকে তাহলে ক্ষমা করে দিন।” তাঁর এ মন্তব্য নিয়ে দিনভর বিস্তর চাপানউতর চলল জেলার রাজনৈতিক মহলে। পঞ্চায়েতের আগে বুধবার দিনহাটার নাজিরহাটের দলীয় সভায় প্রকাশ্যেই ক্ষমা চেয়ে নেন উদয়ন গুহ। সম্প্রতি তাঁর একাধিক বক্তব্য নিয়ে ঝড় উঠেছে রাজ্য-রাজনীতিতে। একদা তিনিই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা নিশীথ প্রামাণিকের দাড়ি-গোঁফ উপড়ে ফেলার নিদান দিয়েছিলেন প্রকাশ্য সভা থেকে। এবার তাঁর মুখে ক্ষমা চাওয়ার কথায় শোরগোল জেলার রাজনৈতিক মহলে।
এদিনের সভা থেকে উদয়ন বলেন, “যদি কোনও ভুলক্রটি হয়ে থাকে ক্ষমা করে দেবেন। আপনার বাড়িতে আপনার ছেলে যদি কোনও অন্যায় করে আপনি কী তাহলে ঘাড় ধরে বাড়ি থেকে বের করে দেন? ক্ষমা করেন না? আপনার মেয়ে যদি কোনও অন্যায় করে ক্ষমা করেন না? আপনার স্বামী যদি কোনও ভুল করে ক্ষমা করেন না? সেই রকম তৃণমূলের কেউ যদি কোনও অন্যায় করে থাকে, ভুল করে থাকে শেষবারের জন্য তাঁদের ক্ষমা করে দিন।”
এরপরই আম-আদমির পাশে থাকার বার্তা দেন তিনি। এমনকী সর্বদা সাধারণের পাশে থাকতে রাতেও ফোন কখনও বন্ধ করেন না তিনি। বলেন, “আমার মেরুদণ্ডে যতদিন জোর থাকবে, হাঁটুতে যতদিন জোর থাকবে আমি আপনাদের পাশে আছি। আপনাদের বিপদে-আপদে আমি আপনাদের পাশে থাকব। আমার ফোনের সুইচ কখনও বন্ধ হয় না। রাত দুটোর সময় আপনার বাড়িতে অ্যাম্বুলেন্সের দরকার হয়, থানার দরকার হয়, তার জন্য আমি ফোন সর্বদা খোলা রাখি।” প্রসঙ্গত, সামনেই পঞ্চায়েত ভোট, দিকে দিকে জোরকদমে ভোট প্রচার শুরু করে দিয়েছে শাসক-বিরোধী সবদলই। এই প্রেক্ষাপটে উদয়নের এ মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
পুরীর জগন্নাথ মন্দির চত্বরে গিজগিজে ভিড়, হুড়োহুড়িতে সংজ্ঞা হারালেন মহিলা
কয়েকদিন আগেই আবার তাঁকে বলতে শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের নিচে সততার প্রতীক লেখা যাচ্ছে না। যার জন্য দায়ী দলেরই কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মী। উদয়নের এ হেন উঠতে শুরু করে নানা প্রশ্ন। কোচবিহারের দিনহাটার চৌধুরীহাটে সংখ্যালঘু কনভেনশন মঞ্চে দুর্নীতির কথা কার্যত স্বীকার করে উদয়নবাবু বলেন, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবির নিচে সততার প্রতীক লেখাটি এখন দলের কিছু নেতা কর্মীদের আচরণের জন্য লিখতে পারছি না। এটা আমাদের কাছে দুঃখজনক। এর জন্য দায়ী দলের কিছু নেতা। যারা বিভিন্ন দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। এর জন্য দায়ী মুখ্যমন্ত্রী নন। যাঁরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন তাঁদেরই এই দায়ভার নিতে হবে।”



