প্রশাসনকে বলেও কাজ হয়নি, শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে স্কুলে গেটে তালা দিয়ে বিক্ষোভ পড়ুয়াদের

নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিনশো। কিন্তু, শিক্ষক মাত্র হাতেগোনা। পড়ুয়াদের অভিযোগ, শিক্ষক সংখ্যা কম থাকায় তাঁদের পঠনপাঠন ব্যাহত হচ্ছে। আর সে কারণেই শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে স্কুলের গেটে তালা লাগিয়ে চলল বিক্ষোভ। ঝাড়গ্রাম জেলার বিনপুরএক ব্লকের লালগড় থানার নেতাই হাইস্কুলে ৩৫০ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। কিন্তু, স্কুলের শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র চার জন। তাই ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের গেটে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভে সামিল হল ছাত্রছাত্রীরা। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। বারবার প্রশাসনের কাছে শিক্ষক নিয়োগের জন্য জানিয়ে আসছেন এলাকার বাসিন্দারা। কিন্তু, তাঁদের দাবিকে কেউ কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ।
রোহিঙ্গাদের অভিধানে নেই কন্ডোম বা গর্ভনিরোধক বড়ি, শিবিরে প্রতিদিন জন্মাচ্ছে ৯৫ শিশু
শিক্ষক নিয়োগের কোনও ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ। ব্যাহত হচ্ছে পঠনপাঠন। গ্রামবাসীরাই নিজেদের উদ্যোগে সাতজন ভলান্টিয়ার শিক্ষক নিয়োগ করে স্কুলটি কোনক্রমে টিকিয়ে রেখেছেন। কিন্তু কতদিন আর এভাবে চলতে পারে পঠনপাঠন? বর্তমানে সেই প্রশ্নই তুলছেন পড়ুয়া থেকে অভিভাবকরা। সেই জন্য নিরুপায় এদিন আন্দোলনের রাস্তায় হাঁটতে হয়েছে বলে দাবি বিক্ষুব্ধ পড়ুয়াদের। ছাত্র-ছাত্রীদের ওই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন নেতাই গ্রামের গ্রামবাসীরা। আন্দোলনের জেরে এদিন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় স্কুলের পড়াশোনা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাপানউতর শুরু হয়েছে গোটা এলাকায়।
স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী দেবস্মিতা জানা বলেন, “আমাদের স্কুলে মোট ৩৩০ জন পড়ুয়া আছে। কিন্তু, শিক্ষক মাত্র ৪ জন। সিংহভাগ বিষয়েরই শিক্ষক নেই। সে কারণেই আজকে আমরা বাধ্য হয়ে আন্দোলনের রাস্তায় নেমেছি। শিক্ষক নিয়োগে বার্তা না পেলে আমারা আরও বড় আন্দলোন করব।” ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দা অশোক কুমার রায়। তিনি বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার কথা শিক্ষামন্ত্রী, ডিআই, বিডিও-কে জানিয়েছি। এত অল্প সংখ্যক শিক্ষককে দিয়ে যে পঠনপাঠন চালানো সম্ভব নয় সে কথা বলেছি। ডেপুটেশন দিয়েছি। জেলা শাসকদের সঙ্গে দেখা করেছি। সবাই আশ্বাস দিয়েছি। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত কোনও শিক্ষক নিয়োগ হয়নি।” শিক্ষকের অভাব যে রয়েছে তা স্বীকার করে নিয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেবাশিস গিরি। তিনি বলেন, “এই অবরোধের ছবি দেখে আমার খুবই কষ্ট হচ্ছে। ২০০৯ সাল থেকে স্কুল শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যাও অনেক বেড়েছে। কিন্তু, ইতিহাসের শিক্ষক নেই, শারীরশিক্ষার শিক্ষক নেই, অঙ্কের শিক্ষক একজন, ভূগোলের শিক্ষক শারীরিক অসুস্থতার জন্য দীর্ঘদিন স্কুলে আসতে পারছেন না।”



