রাশিয়ার হামলায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হয়েছে শরণার্থী শিবির
ইউক্রেনের ‘বম্ব শেল্টারে’ একরত্তি মেয়ের গান, মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছে গোটা বিশ্ব, থামিয়ে দিচ্ছে অস্থির শিশুর কান্নাও ।সাধারণ মানুষকে রুশ বোমার হাত থেকে বাঁচাতে তৈরি হয়েছে অসংখ্য bomb shelters। এমন জায়গায় সারাক্ষণ উৎকণ্ঠা নিয়েই বসে থাকতে দেখা যায় সকলকে। চোখেমুখে ভয়-আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। প্রতি মুহূর্তে তাড়া করছে মৃত্যুভয়। কার্যত প্রাণ হাতে করে বসে রয়েছেন সকলে। bomb shelters- এর চেনা পরিচিত চেহারা এমনটা হলেও এবার দেখা গিয়েছে এক অন্য দৃশ্য। আলো-আঁধারিতে ঘেরা bomb shelters- এর মধ্যে বেশ হাসি হাসি মুখে দেখা গিয়েছে প্রায় সকলকেই। অনেকের হাতে রয়েছে মোবাইল। কী যেন একটা ভিডিয়ো করছেন তাঁরা। এদিক ওদিক খুঁজতেই নজরে এল এমন জটিল পরিস্থিতিতেও এক দমকা হাওয়ার মতো ভেসে আসা একরত্তি মেয়ে। আপন মনে সুরেলা গলায় গেয়ে চলেছে তার পছন্দের গান ‘লেট ইট গো’।
অ্যানিমেশন ছবি ‘ফ্রোজেন’- এর এই গান বেশ জনপ্রিয়। ইউক্রেনের এক ছোট্ট মেয়েকে এই গানই গাইতে শোনা গিয়েছে একটি bomb shelter- এ। জানা গিয়েছে, মেয়ের নাম অ্যামেলিয়া। তার সুরের জাদুতে মুগ্ধ হয়েছেন সকলেই। শুধু ওই bomb shelter- এ বসে থাকা লোকেরা নয়, নেট মাধ্যমে যাঁরাই অ্যামালিয়ার গান শুনেছেন, সকলেই একবাক্যে বলেছেন, এই বয়সেই এত সুরেলা কণ্ঠস্বর। এমন মধুর গায়কি মনে প্রশান্তি দেয়। ইউক্রেনের ভাষাতেই গান গেয়েছে ছোট্ট অ্যামেলিয়া। ভাষা বুঝতে পারেননি অনেকেই। কিন্তু সুরের জাদুতে বাজিমাত করেছে এই একরত্তি। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম— সোশ্যাল মিডিয়ার প্রায় সব মাধ্যমেই ছড়িয়ে পড়েছে এই ভিডিয়ো। ইতিমধ্যেই এই ভাইরাল ভিডিয়োর ভিউ হয়েছে ৩০ মিলিয়নের বেশি।
গত ৩ মার্চ প্রথমে এই ভিডিয়ো শেয়ার হয়েছিল ফেসবুকে। সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়েছে অন্যান্য মাধ্যমে। ছোট্ট অ্যামেলিয়ার গানে মন ভরেনি এমন কেউ নেই। নেটিজ়েনরা বলছেন, bomb shelter- এ বসে সমস্ত ভয়-আতঙ্ককে অগ্রাহ্য করে এই একরত্তি যে এত শান্ত ভাবে এমন সুন্দর করে গান করতে পেরেছে সেটাই সবচেয়ে বড় কথা। তার মধ্যে এই কন্যের গলার রয়েছে এমন মিষ্টি মধুর সুর যে bomb shelter- এ থাকা বাচ্চাদের কান্নাও নাকি থেমে গিয়েছিল নিমেষে। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, সবাই যেন মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছেন অ্যামেলিয়ার গান। কেউ বা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছেন। অনেকেই আবার একরত্তি মায়ের অনুমতি নিয়ে ভিডিয়ো তুলতে ব্যস্ত হয়েছেন। সত্যিই তো, ভিডিয়ো না তুললে কি আর এমন গোপন হিরের সন্ধান পাওয়া যেত? গান শেষে সকলেই হাততালি দিয়ে অভিবাদন জানিয়েছেন এই খুদেকে।


