আফতাবের ফাঁদে পা দিয়ে এক মনোবিদও ফ্ল্যাটে এসেছিলেন , শ্রদ্ধার দেহ ফ্রিজে তখনও রাখা ,

নিজস্ব সংবাদদাতা : এক নয়, একাধিক মহিলাকে ফ্ল্যাটে নিয়ে এসেছিলেন আফতাব আমিন পুনাওয়ালা। তাদের সঙ্গে চলত উদ্দাম যৌনতা, সেই সময়ও নতুন ফ্রিজে রাখা ছিল শ্রদ্ধার কাটা মুন্ডু। এমনই একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য জানাল আফতাব। পুলিশি জেরায় আফতাব আরও জানিয়েছেন, শ্রদ্ধার দেহ ৩৫ টুকরো করার পর অনেক ভাবনাচিন্তা করেছিলেন। আগে দেহের টুকরোগুলি ফেলে এসেছিলেন দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে। তারপর ধীরে-সুস্থে শ্রদ্ধার মাথা ফেলে দেন আফতাব। শ্রদ্ধাকে যাতে কেউ চিনতে না পারে, তার জন্য মুখও পুড়িয়ে দিয়েছিলেন, পুলিশি জেরায় এমনই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দিলেন দিল্লির নৃশংস হত্য়াকাণ্ডে অভিযুক্ত আফতাব আমিন পুনাওয়ালা। ইতিমধ্যেই একটি সিসিটিভি ফুটেজ এসেছে পুলিশের হাতে, তাতে দেখা গিয়েছে, রাতের অন্ধকারে হেঁটে যাচ্ছে আফতাব, তাঁর কাঁধে বড় একটি ব্যাগ। পুলিশের অনুমান, ওই ব্যাগে ভরেই শ্রদ্ধার দেহের টুকরোগুলি জঙ্গলে ফেলতে গিয়েছিল অভিযুক্ত আফতাব।
লিভ-ইন সঙ্গী শ্রদ্ধা ওয়াকারকে খুনের অভিযোগেই গত সপ্তাহের শনিবার গ্রেফতার করা হয় আফতাব আমিন পুনাওয়ালাকে। জেরায় জানা যায়, ছয় মাস আগে, গত ১৮ মে ঝগড়া চলাকালীন শ্রদ্ধাকে গলা টিপে খুন করে আফতাব আমিন। পরেরদিন বাড়ির বাইরে বেরিয়ে কাটারি জাতীয় ধারাল অস্ত্র ও একটি ৩০০ লিটারের ফ্রিজ কিনে আনেন আফতাব। ১০ ঘণ্টা ধরে শ্রদ্ধার দেহ ৩৫ টুকরো করে, দেহাংশগুলি প্যাকেটে ভরে ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখে। এরপর ১৮ দিন ধরে রাত ২টো নাগাদ রোজ বাড়ি থেকে বের হত। মেহরৌলির পাশেই অবস্থিত ছত্তরপুরের জঙ্গলের বিভিন্ন অংশে ফেলে আসতেন শ্রদ্ধার দেহের টুকরো।
পুলিশের হাতে এখনও শ্রদ্ধার কাটা মুন্ডু না এলেও, আফতাব জানিয়েছেন, শ্রদ্ধার পরিচয় যাতে জানা না যায়, তার জন্য মুখ পুড়িয়ে দিয়েছিল। দেহের বাকি টুকরোগুলি ফেলার পর, সবশেষে শ্রদ্ধার কাটা মাথা ফেলে আসে। তবে কোথায় সেই কাটা মাথা রয়েছে, তা এখনও জানায়নি আফতাব।
পুলিশি জেরায় আফতাব জানিয়েছেন, শ্রদ্ধার দেহের ৩৫ টুকরো করার পর প্রথমে গুগল সার্চ করে জানে যে দেহের কোন অংশে সবার প্রথমে পচন ধরে। সেই অংশগুলিই আগে কালো প্যাকেটে ভরো জঙ্গলের বিভিন্ন প্রান্তে ফেলে আসেন। জঙ্গলে থাকা শিয়াল ও অন্যান্য বন্য প্রাণীরা দেহের টুকরোগুলি খেয়ে নেবে, এমনটাই অনুমান করেছিল আফতাব। এছাড়া ছত্তরপুরের জঙ্গল দিল্লি ও হরিয়ানা-দুই রাজ্যজুড়ে বিসতৃত হওয়ায় পুলিশি তদন্ত শুরু হলেও, দুই রাজ্য নিজেদের মধ্যে তদন্ত ঠেলাঠেলি করবে, যারফলে সুষ্ঠ তদন্ত হবে না এবং তিনি ধরা পড়বেন না, এমনটাও কল্পনা ছিল আফতাবের।
অন্যদিকে, শ্রদ্ধার দেহ ফ্রিজে রাখা ছিল যখন, সেই সময়ও আফতাব বাম্বল নামক একটি ডেটিং অ্যাপ থেকে বিভিন্ন মহিলার সঙ্গে কথা বলে এবং তাদের নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে আসেন। এদের মধ্য়ে একজন সাইকোলজিস্টও ছিলেন, যিনি আফতাবের সঙ্গে ওই ফ্ল্যাটে এসেছিলেন। শ্রদ্ধার দেহের টুকরো ফ্রিজে থাকাকালীনই একাধিক মহিলার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন আফতাব।



