নিজেই উদ্বেগ ওড়ালেন মেসি

নিজস্ব সংবাদদাতা : লালচে ধুলো জমা ক্যাম্পাস। নির্জীব শুষ্কতা চারদিকে। সবুজের ছোঁয়ায় প্রাণ ঢেলেছে তাতে। সজীবতা এনেছে আর্জেন্টিনা এবং অবশ্যই মেসি।
আল জামিয়া স্ট্রিট থেকে বেশ কিছুটা হাঁটতে হয়। কয়েকপ্রস্থ নিরাপত্তা বেষ্টনী টপকাতে হয়। রাস্তা থেকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলেই বোঝা যায় হাওয়া কেমন ভারী। আর্জেন্টিনার সাংবাদিকদের মুখে চোখে উদ্বেগ। বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হল না। সহজেই জানা গেল মেসির চোট। পনেরো মিনিট অনুশীলন দেখার অনুমতি। ওই সময়টুকুই যথেষ্ট মেসির চোট ধরার জন্য। ডান পায়ের গোড়ালি ফুলে রয়েছে। সেই অস্বাভাবিক ফুলে থাকাই জল্পনা উসকে দেয়।
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন না? খবর আসে মেসি সাংবাদিক বৈঠক করবেন। রহস্য আরও ঘনীভূত হয়। এরপর আর কীই বা ভাবার থাকতে পারে? জমে থাকা সব রহস্য, সব উদ্বেগ, সব চিন্তা উবে যায় লহমায়। হাসি মুখে বৈঠকে আসেন লিওনেল মেসি। নিখাদ, নির্মল এই হাসি সহজে দেখা যায় না। এত চিন্তাহীন, এত নিরুদ্বেগ মুখাবয়ব কোনও এক জাদুবলে ঝলমলে ভাব ফিরিয়ে আনে। এরপর চিন্তার খোলস ছাড়িয়ে যান আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।
মেসি : শারীরিকভাবে খুব ভাল অবস্থায় আছি। কোনও চোট নেই। সত্যি কথা বলতে একদম ঠিক সময় এসেছি, ব্যক্তিগতভাবে এবং শারীরিকভাবেও। আমার কোনও সমস্যাই নেই। শুনলাম যে আমি নাকি চোটের জন্য আলাদা অনুশীলন করেছি। সাবধানতা অবলম্বন করে। অবাক হইনি। মরশুমের সম্পূর্ণ ভিন্ন সময় এটি। সাধারণত বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য একমাস সময় পাওয়া যায়। এবার প্রস্তুতিরও তেমন সময় নেই। খুব তাড়াতাড়ি খেলতে হবে। তবে আমরা জানতাম যে এই বিশ্বকাপ এরকমই হবে। আমরাও তৈরি, এখন যে পরিবেশ রয়েছে তা অনন্য। আমি সবসময় টানা ম্যাচ খেলতে পছন্দ করি, তাহলে ছন্দ পাই, স্বস্তি পাই। যতক্ষণ না সেই পর্যায়ে পৌঁছাই ততক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে যাই। তবে, আমি কোনও আলাদা প্রস্তুতি সারিনি। আমি শুধু নিজের খেলার খেয়াল রেখেছি, ক্যারিয়ার জুড়ে যেমন রেখেছি। এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ, শেষ সুযোগ স্বপ্ন সত্যি করার। কিন্তু স্পেশ্যাল কিছু করিনি।
আমরা কঠিন ম্যাচ আশা করছি কারণ এটা বিশ্বকাপ। আমাদের দলের অনেকেরই প্রথম বিশ্বকাপ এটা। সবাই নিজেদের মতো করে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবে। কিন্তু প্রথম পাঁচ মিনিটের পর আমরা যেভাবে ফুটবল খেলি সেটাই খেলব। কোপা আমেরিকার মতোই বিশ্বকাপের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে চাই। আজ যেমন উপভোগ করেছি প্রতিটি মুহূর্ত। আপাতত খেলার স্বাদ নিচ্ছি। পরের ম্যাচ সম্পর্কে পরে ভাবা যাবে।অনেকে শুধু আমার জন্য আর্জেন্টিনার না হয়েও আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন দেখতে চায়। সারা জীবন ধরে যে ভালবাসা পেয়েছি তার জন্য কৃতজ্ঞ। আমি খুশি যে আমি যা চাই বাকিরাও সেটাই চায়।


