‘তুমি প্রধানমন্ত্রী আমার ভোটে , আর মন্ত্রিত্ব পেয়ে তুমি বলছ, তোমায় নাগরিকত্ব দেব। এর মানে কী? এটা অসম্মান করা।’ বলেন মমতা

নিজস্ব সংবাদদাতা: ২০২৪ সালের আগে সিএএ বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকর হবে, এমন দাবি শোনা যাচ্ছে বিজেপি নেতাদের মুখে। পঞ্চায়েত নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই জোরাল হচ্ছে সিএএ নিয়ে তরজা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, ভারতে সিএএ কার্যকর করা প্রক্রিয়া শুরুও হয়ে গিয়েছে। এই আবহেই বিস্ফোরক দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় )। তাঁর দাবি, ভোটার কার্ডে নাম আছে কি না দেখে নিতে হবে, নাহলে এনআরসি-র আওতায় ফেলে ডিটেনশন ক্যাম্পেও পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে নাগরিকদের। বুধবার নেতাজি ইন্ডোরে ছিল কৃষকদের পাট্টা প্রদান অনুষ্ঠান। সেখানেই এমন মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কত মানুষ বাংলাদেশ থেকে সব কিছু হারিয়ে এখানে এসেছেন। ১৯৭১ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত যাঁরা এসেছেন, সরকারের সঙ্গে চুক্তি আছে যে তাঁরা ভারতের নাগরিক। তাঁর দাবি, যাঁরা নাগরিক হয়ে গিয়েছেন, তাঁদের বলা হচ্ছে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। ভোটার কার্ড থাকা সত্ত্বেও কীভাবে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।এদিন বিজেপিকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘আমার ভোটে তুমি প্রধানমন্ত্রী, আর মন্ত্রিত্ব পেয়ে তুমি বলছ, তোমায় নাগরিকত্ব দেব। এর মানে কী? এটা অসম্মান করা। যাঁরা রিক্সা চালান, যাঁরা দোকান চালান, আরও অনেকে আছেন যাঁদের রেশন, আধার সব কার্ড আছে। এনআরসির নাম করে যেন কেটে দিতে না পারে দেখে আসবেন।’ সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে মমতা বলেন, ‘ভোটার লিস্টে নিজেদের নাম তুলুন। নয়ত আপনাকে এনআরসি-র নাম করে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’ ভোটার লিস্টে যাঁর স্বামী-স্ত্রীর নাম ভুল আছে, সেগুলি ঠিক করার পরামর্শ দেন মমতা, বলেন, ‘নয়ত কবে বলে দেবে ইউ আর নো মোর। অধিকার কেউ কাউকে দেয় না। ছিনিয়ে নিতে হবে।’
সিএএ নিয়ে প্রথম থেকেই বিরোধিতা করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কোনওভাবেই এই আইন বলবৎ হতে দেবেন না তিনি। এই ইস্যুতে নানাভাবে প্রতিবাদও জানিয়েছেন মমতা। আর সম্প্রতি সিএএ তত্ত্ব উস্কে দিয়ে শুভেন্দু বলেছেন, “নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বলবৎ করার কাজ শুরু হয়েছে ভারতে। পশ্চিমবঙ্গও তো ভারতেরই অংশ, এখানেও চালু হবে।”এই প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “মানুষের ভোটাধিকার লুঠ করে তৃণমূল। নাম কাটে তৃণমূল। আগে সিএএ হবে, তারপর এনআরসি। মুখ্যমন্ত্রী যদি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে, ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবেন, তিনি যদি মনে করেন পশ্চিমবঙ্গ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, সেটি আলাদা বিষয়। কিন্তু আমাদের অবস্থান স্পষ্ট।” তিনি আরও বলেন, “যে নমশুদ্র, মতুয়ারা ওপার বাংলা থেকে চলে এসেছেন, ঘোষ-বোস-দত্ত-মিত্র যাঁরা এসেছেন, তাঁরা আমাদের রক্ত, আমাদের ভাই। তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে, কেউ আটকাতে পারবে না।”



