নদিয়ার তৃণমূল নেতা খুনে গ্রেপ্তার এক

নিজস্ব সংবাদদাতা: নদিয়ার তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মতিরুল ইসলাম বিশ্বাস খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার গভীর রাতে নদিয়ার করিমপুর–২ ব্লকের টোপলা গ্রামের একটি ইটভাটা থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল নওদা থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ব্যক্তির নাম ইসরাফিল মণ্ডল। এলাকার তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত ইসরাফিলের ইটভাটার ব্যবসা আছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। শুক্রবার রাতে সে নিজের একটি ইটভাটায় লুকিয়েছিল। অন্যদিকে, এই খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ সাদিপুরের বাসিন্দা সাইদ বিশ্বাস (বিশ্বজিৎ) নামে এক ব্যক্তির সন্ধানে জোর তল্লাশি চালাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধেয় মুর্শিদাবাদের নওদা থেকে নদিয়াতে ফেরার সময় টিয়াকাটাঘাট এলাকায় খুন হন নদিয়ার নারায়ণপুর–২ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান রিনা বিশ্বাসের স্বামী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের করিমপুর–২ ব্লকের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি মতিরুল।
এই খুনের ঘটনার সঙ্গে নাম জড়িয়ে যায় মুর্শিদাবাদের নওদা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি সফিউজ্জামান শেখ (হাবিব), নদিয়ার তৃণমূল জেলা পরিষদের সদস্যা টিনা ভৌমিক সাহা সহ একাধিক তৃণমূল নেতার।
মৃত তৃণমূল নেতা মতিরুল ইসলামের দেহরক্ষীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই নওদা থানা দশ জনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ইসরাফিলের নারায়ণপুরে একটি ইটভাটা ছাড়াও সে মাটি কেনাবেচার কারবারের সঙ্গে জড়িত।
জেলা পুলিশের এক তদন্তকারী অফিসার জানান মৃত তৃণমূল নেতারও ইটভাটা এবং মাটি বিক্রির ব্যবসা ছিল। অভিযোগ মতিরুলের একটি ইটভাটা জোর করে দখল করেছিলেন সফিউজ্জামান সহ আরও কয়েকজন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান ব্যবসা সংক্রান্ত বিবাদের জেরে খুন হয়েছেন নদিয়ার পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী।
তবে পুলিশের অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, মতিরুল খুনের ঘটনায় ইসরাফিল মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল অভিযোগপত্রে তার নাম নেই। শনিবার ইসরাফিলকে বহরমপুর কোর্টে পেশ করা হলে সে দাবি করে, এই খুনের ঘটনার সে জড়িত নয়। পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ তুলেছে ধৃত ইসরাফিল। আদালত ধৃতকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।



