মেসির কাছে আর্জি এনজোর ‘আমাদের ক্ষমা করে দাও’

নিজস্ব সংবাদদাতা: এক গোলেই নায়ক তিনি। মেসির পরেই আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোল স্কোরার এখন এনজো ফার্নান্ডেজ । শনিবার রাতে মেক্সিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন তিনিই। তাঁর ভেলকিতে পরাস্ত হন খোদ মেক্সিকান মহাতারকা গোলকিপার গিয়ের্মো ওচোয়া। কিংবদন্তি মেসির গোল তো আছেই তবে সেই রাতে আরও বেশি করে সবার মনে জায়গা করে নিয়েছে এনজোর গোলটি।
মেসির খেলা দেখে বড় হয়ে ওঠা তাঁর। আর তাঁর সঙ্গে বিশ্বকাপের ময়দানে পায়ে পা মিলিয়ে দলকে জেতানোর আনন্দে আবেগে ভাসছেন এনজো। মেসি তাঁর স্বপ্নের নায়ক। এর আগে মেসির অবসরের খবরে শোকাহত হয়ে মেসিকে একটি বড় চিঠি লেখেন তিনি। যা ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। কী লেখা ছিল তাতে? তুলে ধরল ।
ক্লাব ফুটবলে খেলেন বেনফিকায়। দলের জার্সিতে প্রথম বার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছেন ২১ বছরের এনজো। প্রথম সুযোগেই বাজিমাত। মেক্সিকোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে, মেসির পাস থেকে কর্নার শটে দুর্দান্ত গোল করে সবার মন জিতে নিয়েছেন তিনি। তাঁর ভেল্কিতে পরাস্ত হন খোদ মেক্সিকান মহাতারকা গোলকিপার গিয়ের্মো ওচোয়া।
মেক্সিকোকে ২-০ তে পরাজিত করে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে আর্জেন্টিনা। তাঁর অনবদ্য পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনার নয়নের মণি হয়ে উঠেছেন এনজো। তবে এনজোর নয়নের মণি একজনই, তিনি এলএম টেন। ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনার সাফল্য না আসায় যখন অধিনায়ক অবসরের কথা জানান, কিশোর এনজো তা মেনে নিতে পারেননি। আবেগতাড়িত হয়ে একটি চিঠি লিখে বসেন তাঁর প্রিয় নায়ক মেসিকে।
কী লিখেছিলেন এনজো? সেই চিঠিতে ২৪ বছরের তরুণ লেখেন, “আমরা যদি কোনও ভুল করে থাকি তবে আমাদের ক্ষমা করে দাও। কিন্তু আমাদের ছেড়ে যেও না প্লিজ। তুমি তো জানো আমাদের কাছে তুমি কী! তোমার দিকে দেশের ৪০ মিলিয়ন মানুষ তাকিয়ে রয়েছেন। তাঁরা তোমায় বড্ড ভালোবাসেন। তোমার ওই নীল-সাদা জার্সির ম্যাজিক আমাদের কাছে কতটা সম্মানের তা তুমি জানো না। তোমায় খুশি দেখে আমরা যে কতটা খুশি হই, তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। পারলে আমাদের ক্ষমা করে দাও। কিন্তু থেকে যাও।”
তাঁর আবেদনে স্পষ্ট মেসিকে কতটা ভালোবাসেন তিনি। সেই সঙ্গেই মেসির প্রতি রয়েছে তাঁর আকাশছোঁয়া সম্মান।যে মেসিকে নিয়ে আবেগে ভাসেন এনজো, তাঁরই সঙ্গে বিশ্বকাপের ময়দানে নেমে দলকে জেতানোর আনন্দ যে তাঁর জন্য কতটা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শুধু তাই নয়,আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোল স্কোরার হিসেবে মেসির পরেই এখন তাঁর নাম। এর থেকে পরম প্রাপ্তি আর কী হতে পারে এনজোর জীবনে! বিশ্বকাপে এনজোর এই অনবদ্য পারফরম্যান্সে খোদ অধিনায়ক মেসিও প্রশংসা করেছেন।
তাঁর প্রশংসা করে মেসি বলেছেন, “আমি এনজোর খেলায় অবাক হইনি। কারন, আমি ওর খেলা আগেই দেখেছি। ও একজন দারুন ফুটবলার। আমি জানতাম ও কিছু না কিছু করে দেখাবেই।” আগামী ১ ডিসেম্বর পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। মেসি তো আছেই তবে আলাদা করে সবার নজর থাকবে এনজোর দিকে।


