রাজ্য

নজর কাড়লেন মমতা রেশনের চালের ভাত-ওলকচু খেয়ে

নিজস্ব সংবাদদাতা: স্টিলের থালায় রেশনের চালের ভাত, ওলকচুর তরকারি আর ট্যাংরার ঝোল। ভাঙা চেয়ারে বসে পরম যত্নে সে খাবার খেলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । বুধবার মমতার অভূতপূর্ব এক জনসংযোগের সাক্ষী রইল টাকির খাঁপুকুর গ্রামপঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত এক গ্রাম। ভরদুপুরে গ্রামে অতিথি হয়ে হাজির হলেন মুখ্যমন্ত্রী। গ্রামবাসীদের মাঝে বসেই পাত পেরে খেলেন দুপুরের খাবার। একুশের বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপির তাবড় নেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মধ্যাহ্নভোজ সারতে দেখা গিয়েছিল।

সম্প্রতিও দেখা গিয়েছে তাঁদের। তবে সেই আহারের আয়োজন ছিল যথেষ্ট গোছানো, পরিপাটি। কিন্তু এদিন মুখ্যমন্ত্রী কার্যত চমকে দিয়েছেন সকলকে। তাঁর জনসংযোগ যে কোনও সময়ই অন্য মাত্রা টানে, কিন্তু এদিন যা হল তাতে দলের অনেকেই অবাক।

মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক ছিল হিঙ্গলগঞ্জে। পরদিন বুধবার সকাল থেকেই নানা জনসংযোগ কর্মসূচিতে দেখা যায় তাঁকে। প্রথমে লঞ্চে ইছামতীবক্ষে ঘোরেন মমতা। নিজের হাতে স্টিয়ারিংও ঘোরান। বেলা ১টা নাগাদ হাসনাবাদের খাঁপুকুর এলাকায় একটি প্রাথমিক স্কুলে যান। সেখানে বাচ্চাদের নতুন পোশাক তুলে দেন তিনি। সেখান থেকে খাঁপুকুর গ্রামপঞ্চায়েতে মহিলাদের পোশাক দেন।

সূত্রের খবর, সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী মধ্যাহ্নভোজের বিষয়টি তোলেন। কথায় কথায় বলেন, কিছু খাওয়া হয়নি তাঁর। এরপরই খাঁপুকুর প্রগতি সংঘের মাঠের পিছনের দিকে একটি বাড়িতে তিনি চলে যান। সে সময় সেখানকার মহিলারা চাটাই বুনছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও সে কাজে হাত লাগান।

এরই মাঝে নমিতা মণ্ডল নামে এক মহিলা ‘দিদি’র জন্য থালায় করে অল্প ভাত, ওলের তরকারি আর ট্যাংরা মাছের ঝোল নিয়ে আসেন। নমিতা নিজেই সেসব রান্না করেছিলেন তাঁদের ঘরের জন্য। নমিতার চোখে এখনও সে মুহূর্তের ঘোর লেগে। নমিতা নিজেই বললেন, “দিদি এলেন আমাদের বাড়িতে। একটা ভাঙা চেয়ার, তাতেই উনি বসলেন। দু’টো ভাত চাইলেন উনি। ভাত দিলাম, খেলেন। আমরা চেটি বুনছিলাম। একটু দেখিয়ে দিলাম, উনিও চেটি বুনলেন। উনি যে আসবেন কিছুই জানতাম না। হঠাৎ শুনলাম আসবেন। কর্মতীর্থে আসবেন জানি। কিন্তু গ্রামে যে আসবেন তা তো জানতাম না। আমার বাড়িতে আসবেন ১০ মিনিট আগে শুনলাম। ঘরে রেশনের চাল ছিল। তারই ভাত হয়েছে। খালবিল থেকে আনা ট্যাংরা মাছ, ওল রান্না করেছিলাম। বাড়ির ওল। সেটাই দিলাম ওনাকে। তৃপ্তি করে খেলেন।”

Related Articles

Back to top button