খড়গপুরে ছাত্রের মৃত্যুতে রহস্য জট কাটছে না, ‘বিরক্ত’ আদালত কর্তৃপক্ষের রিপোর্টে

নিজস্ব সংবাদদাতা: আইআইটি খড়গপুরে ছাত্রের রহস্য মৃত্যু নিয়ে চাপানউতোর চলছেই। কলেজে ব়্যাগিং নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের তোপের মুখে পড়েছে খড়গপুর আইআইটি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় আইআইটি ডাইরেক্টরের রিপোর্টে ‘বিরক্ত’ আদালত। তাঁকে ২০ ডিসেম্বর আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি রিপোর্টে আদপে কী বলতে চেয়েছেন তা ওই দিনই তাঁকে ব্যাখ্যা করতে হবে বলে আদাতের তরফে জানানো হয়েছে।
এদিনও ব়্যাগিং নিয়ে খড়গপুর আইআইটি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা নিয়ে কড়া সমালোচনা করতে দেখা গেল রাজ্যের শীর্ষ আদালতকে। আগেও দুটি ক্ষেত্রে ব়্যাগিংয়ে অভিযোগ উঠলে কেন কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে। ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে অধিকর্তার কাছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৪ অক্টোবর খড়্গপুর আইআইটি-র হস্টেলের ঘর থেকে এক ছাত্রের পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়। ফয়জান আহমেদ নামে ওই পড়ুয়া বি.টেক মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তৃতীয় বর্ষের পড়তেন বলে জানা গিয়েছে। ছেলের দেহ শনাক্ত করতে এসে বিস্ফোরক মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছিল ফয়জানের বাবাকে। তিনি বলেন, “আপনারা বিচার করুন। এ আমার ছেলে নয়। তাকে জ্বালিয়ে কুকুর-বিড়ালের মতো ফেলে দিয়েছে। ছ’-সাত দিনের লাশকে গতকালের বলে চালানো হচ্ছে।” সিআইডি তদন্তের দাবি জানান তিনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও বিস্তর শোরগোল হয়।
র্যাগিং যে হয়েছিল তা একপ্রকার স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। এই মামলায় আগেই নিজের পর্যবেক্ষণে এ কথা জানিয়েছিলেন বিচারপতি রাজশেখর মান্থা। মান্থার একক বেঞ্চ জানায়, এই ঘটনা পরিষ্কার র্যাগিং হয়েছে। আর ছাত্রদের নিজেদের মধ্যে শত্রুতার ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করে। র্যাগিং রোধে সুপ্রিম কোর্টের যে কড়া নির্দেশ রয়েছে তাও মনে করাতে দেখা গিয়েছিল বিচারপতিকে। এমতাবস্থায় এবার আইআইটি ডাইরেক্টরের রিপোর্ট নিয়ে হাইকোর্টের বিরক্তি প্রকাশে তা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে চাপানউতোর।



