হাত ধরে সেটিং করতে চেয়েছিলেন বিধানসভায়, শুভেন্দু বললেন “আমি সেট করার পার্টি নই”

নিজস্ব সংবাদদাতা: ‘বিধানসভায় আমাকে ধরতে গিয়েছিলেন না? ভেবেছিলেন একাই চলে যাব?’ নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে নিশানা করে এমনটাই বললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । শনিবাসরীয় দুপুর যখন যুযুধান দুই পক্ষের সেনাপতির বক্তৃতায় সরগরম, তখন বিরোধী দলনেতার গলায় শোনা গেল গত সপ্তাহের বিধানসভার সেই দিনের কথা, যে দিন বিধানসভায় নিজের কক্ষে তাঁকে ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সেই সাক্ষাৎ নিছকই ‘সৌজন্য’ নাকি তার পিছনে রাজনৈতিক কোনও কারণ ছিল, তা নিয়ে বিতর্ক-জল্পনা হয়েছে বিস্তর। আর এবার সেই সাক্ষাৎ নিয়েই বিস্ফোরক দাবি করলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক।সব আইনি জটিলতা শেষে শুক্রবার তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের সভাস্থলে উপস্থিত হন শুভেন্দু।
বক্তৃতার ছত্রে ছত্রেই তিনি এদিন নিশানা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে। সভা যখন প্রায় শেষের দিকে, তখন মঞ্চে ওঠেন বিজেপির কয়েকজন কর্মী, যাঁরা এদিনের সভায় আসার পথে আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ। তাঁদের পাশে নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘এর নাম গণতন্ত্র?’
এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর নাম না করে শুভেন্দু বলেন, ‘বিধানসভায় আমাকে ধরতে গিয়েছিলেন না? ভেবেছিলেন একাই চলে যাব, সেট করে নেব? সেট করার পার্টি আমি নই। তিনজন এমএলএ-কে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছি। আপনাকে হারিয়েছি, এবার আপনাকে তাড়াব।’
পরে মঞ্চ থেকে নেমে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শুভেন্দু। অভিষেকের মন্তব্যের প্ররিপ্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলে, চেনা ভঙ্গিতে শুভেন্দু বলেন, ‘ওঁর কথার উত্তর দেব না। ওঁ আমার প্রতিপক্ষ নয়।’ ফের মমতার নাম না করে শুভেন্দু বলেন, ‘সেদিন আমাকে কার্যত হাত ধরে সব মেটাতে চেয়েছিলেন, আমি সে সুযোগ দিইনি। আমি মনোজ টিগ্গা, অগ্নিমিত্রা পল, অশোক লাহিড়ীকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে সেই সুযোগ দিইনি।’
গত ২৫ নভেম্বর শুক্রবার বিধানসভায় আচমকাই শুভেন্দুকে নিজের ঘরে ডেকেছিলেন মমতা। এরপর তিন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘরেও যান শুভেন্দু। সেই দৃশ্য় দেখে শুরু হয় জোর জল্পনা। তবে বেরিয়ে এসে শুভেন্দু দাবি করেন, এটা নিছকই সৌজন্য সাক্ষাৎ। তিনি একা যাননি, তিন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। একই কথা শোনা যায় মমতার মুখেও। শনিবারের সভায় ফের উঠে এল সেই সাক্ষাৎ প্রসঙ্গ।



