‘এবার ২০০ মিটার, পরের বার ২০ মিটারের মধ্যে সভা করব’; গর্জন অভিষেকের শান্তিকুঞ্জের সামনে

নিজস্ব সংবাদদাতা: শনিবার কাঁথিতে প্রভাত কুমার কলেজের মাঠে মেগা সভা ছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রায় দেড় ঘণ্টার ঝাঁঝালো বক্তৃতা। আর আগাগোড়া নিশানায় অধিকারী পরিবার। যেখানে সভা হচ্ছিল, সেখান থেকে শান্তিকুঞ্জের দূরত্ব প্রায় ২০০ মিটার। সভার মাঠ থেকে মাইকের সেই হুঙ্কার, শান্তিকুঞ্জ পর্যন্তও পৌঁছে যাওয়ার কথা।
আর এবার অভিষেক হুঁশিয়ারি দিয়ে গেলেন, এর পরের সভা হবে ২০ মিটারের মধ্যে। বললেন, “তৃণমূলের প্রতীকে জিতে দু’জন বাড়িতে আছেন। তৃণমূলের প্রতীকে জিতে বিজেপির সঙ্গে কানামাছি ভোঁ ভোঁ। ২০০ মিটার না , এরপর ২০ মিটারের মধ্যে সভা করব।” সরাসরি কারও নাম না করেও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের নিশানায় যে ছিল শান্তিকুঞ্জ, সে কথা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
প্রসঙ্গত, শুভেন্দু অধিকারী অতীতে একাধিকবার অভিযোগ তুলেছেন, তাঁর বাবা শিশির অধিকারীকেও ছেড়ে কথা বলা হচ্ছে না। অতীতে বিধানসভা নির্বাচনের আগে একবার পূর্ব মেদিনীপুরে সভা করতে এসে অভিষেক মন্তব্য করেছিলেন, “তোর বাপ কে গিয়ে বল শান্তিকুঞ্জের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি, হিম্মত থাকলে যা করার করে নে।”
অভিষেকের সেই মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্য়েই একাধিকবার চর্চা হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। যদিও এবার অভিষেক জানালেন, তিনি শিশির অধিকারীকে অসম্মান করেননি। সেই মন্তব্য তিনি শিশিরবাবুকে উদ্দেশ্য করেও বলেননি বলে দাবি অভিষেকের।
অভিষেকের ব্যাখ্যা, তিনি পূর্ব মেদিনীপুরে আসার আগে স্থানীয় এক বিজেপি কর্মী বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই মন্তব্যের জেরেই অভিষেক সেদিন ওই মন্তব্য। শিশিরবাবু বয়সে বড়, সেই কারণে তিনি শিশিরবাবুকে সম্মান করেন, তাঁর কাজের জন্য নয় – এমন কথাও এদিন শোনা যায় অভিষেকের গলায়।
অতীতের সেই ‘পাঁচ কিলোমিটার’ মন্তব্যের পর এবার শান্তিকুঞ্জের থেকে ২০০ মিটার দূরে অভিষেকের সভা। আর সেই সভামঞ্চ থেকেই তৃণমূল সেনাপতির হুঁশিয়ারি, পরের বার সভা হবে ২০ মিটারের মধ্যে। এখন দেখার অভিষেকের এই চ্যালেঞ্জের পর শান্তিকুঞ্জের বিধায়ক-সাংসদরা কীভাবে রণকৌশল সাজান। একই সঙ্গে দেখার পঞ্চায়েতের আগে এই ঝাঁঝালো বক্তৃতায় পূর্ব মেদিনীপুরের নীচু তলার ঘাসফুল কর্মীদের কতটা চাঙ্গা করতে পারলেন অভিষেক।



