রাজ্য

মোদীর ‘ডবল ইঞ্জিন’ বনাম কেজরীর ‘কর্পোরেটর’, উত্তেজনায় ফুটছে রাজধানী পুরনিগমের ভোট নিয়ে

নিজস্ব সংবাদদাতা: সম্মুখ সমরে বিজেপি বনাম আম আদমি। রাজধানীর পুরনিগম দখলে থাকবে কার, তা নিশ্চিত করতেই আজকের এই নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে শাসক ও বিরোধী- দুই দলেরই প্রধান হাতিয়ার জঞ্জালের সমস্যা। এছাড়াও কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবগারি, পরিবহণ সহ একাধিক ইস্যু নিয়েও সরব হয়েছে দুই দলই। একদিকে বিজেপি যেমন গত ১৫ বছরের রেকর্ড ধরে রাখা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী, অন্যদিকে আম আদমি পার্টিও এবার পুরনিগম দখল করতে মরিয়া। নির্বাচনের লড়াইয়ে রয়েছে কংগ্রেসও, তারাও কয়েকটি আসনে জয়ের আশা রাখছে।

 

দিল্লির পুরনিগমের ভোটগ্রহণ করা হল। কিন্তু, এই নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষুব্ধ দিল্লির বাঙালিরা। বিজেপি, আপ কিংবা কংগ্রেস – কোনও দলই বাঙালিদের সম্মান করে না বলে দাবি দিল্লির বাঙালিদের। কেন পুর নির্বাচনে একজনও বাঙালি প্রার্থী দেওয়া হয়নি, এই নিয়ে এদিন ক্ষোভ উগরে দিলেন তাঁরা।রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৪ টে পর্যন্ত দিল্লি পুরনিগম নির্বাচনে ২৫০ টি ওয়ার্ডে ভোট পড়েছে ৪৫ শতাংশ।

 

দিল্লির পুরনিগমে মোট ২৫০টি ওয়ার্ডে নির্বাচন হবে। মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১৩৪৯। অন্যদিকে ভোটারের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া, চলবে বিকেল সাড়ে ৫টা অবধি। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করাতে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন ৪০ হাজার পুলিশ কর্মী। এছাড়াও ২০ হাজার হোমগার্ড ও ১৮ কোম্পানি আধা সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। ৬০টি ড্রোন ক্যামেরা নজরদারি করবে স্পর্শকাতর বুথগুলিতে। নির্বাচনের ফল প্রকাশ হবে আগামী  ৭ ডিসেম্বর।নির্বাচনের জন্য এদিন ভোর ৪টে থেকে মেট্রো পরিষেবা চালু করা হয়েছে, যা নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা আগে। চলবে অতিরিক্ত বাসও।

 

এবারের নির্বাচনে প্রধান লড়াই বিজেপি ও আম আদমি পার্টির মধ্যে। বিগত দুটি বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবালের দল আম আদমি পার্টি জিতলেও, দিল্লির পুরনিগম বিগত ১৫ বছর ধরে বিজেপির দখলেই রয়েছে। কেন্দ্র বনাম রাজ্যের বিরোধের প্রভাব পুরনিগমেও পড়ছে। ২০১৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টি ৭০টি আসনের মধ্যে যেখানে ৬৭টি আসনে জয়ী হয়েছিল, সেখানেই দুই বছর বাদে, ২০১৭ সালের নির্বাচনে বিজেপি দিল্লির পুরনিগম নির্বাচনে ২৭২টি আসনের মধ্যে ১৮১টি আসনে জয়ী হয়েছিল। আপ ৪৮টি আসনে ও কংগ্রেস ৩০টি আসনে জয়ী হয়েছিল।

 

এবারের নির্বাচনের ঠিক আগেই বিজেপির মাস্টারস্ট্রোক ছিল ঝুপড়িবাসী গরিব মানুষদের হাতে নতুন ফ্ল্য়াটের চাবি তুলে  দেওয়া। রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা আম আদমি পার্টির দুর্নীতিকেও হাতিয়ার করেছে বিজেপি। অন্যদিকে, আম আদমি পার্টি দিল্লির জঞ্জালের সমস্যাকেই প্রধান ইস্যু বানিয়েছে। মোদীর ‘ডবল ইঞ্জিন’কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আপও ‘কেজরীবালের কর্পোরেটর’ স্লোগান বানিয়েছে।হিমাচল প্রদেশ, গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনের প্রভাবও দিল্লির পুরনিগম নির্বাচনে পড়েছে। গুজরাটে প্রচার চালাতে গিয়ে যেমন আপ আদমি পার্টির নেতারা দিল্লির উন্নয়নের উদাহরণ তুলে ধরেছেন। তেমনই বিজেপিও দিল্লির শাসকদলকে ভিন রাজ্য থেকে দাঁড়িয়ে দুষতে পিছপা হয়নি।

 

সম্প্রতিই দিল্লির তিনটি পুরনিগমকেও সংযুক্ত করা হয়। এই পুরনিগম নিয়েও বিজেপি ও আপের মধ্যে তরজা শুরু হয়। একদিকে যেখানে বিজেপির যুক্তি, সুষ্ঠভাবে কাজ পরিচালনের জন্য তিনটি পুরনিগমকে এক করে দেওয়া হয়েছে, সেখানেই আপের দাবি, পুরনিগমে হারার ভয়েই বিজেপি তিনটি পুরনিগম সংযুক্ত করে দিয়েছে।

Related Articles

Back to top button