তাইয়াংয়ে চিনা আগ্রাসনে ‘আতঙ্কে’ উত্তরবঙ্গ! ৬২ যুদ্ধের স্মৃতিচারণায় উত্তরের প্রবীণেরা

নিজস্ব সংবাদদাতা: ফের চিনের আগ্রাসনের চেষ্টা শুরু হয়েছে তাওয়াংয়ে। ঝুঁকি এড়াতে সীমান্তবর্তী ডোকলাম, নাথুলাতেও বাড়তি সতর্ক ভারত। সতর্কতা চিন সীমান্তের হা (ভুটানের অন্তর্গত) সংলগ্ন বিন্দুতেও। যার কিছুটা প্রভাব এসে পড়েছে উত্তরবঙ্গেও। ইতিমধ্যে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সিকিমের রেলপথ নির্মাণ-সহ পরিকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প দ্রুত শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। আর এই সমস্ত ঘটনা ৬২-র ভারত-চিন যুদ্ধের স্মৃতি উসকে দিচ্ছে বলে মনে করছেন উত্তরবঙ্গের প্রবীণেরা।
উত্তরবঙ্গের প্রবীণ সাংবাদিক নিহার চাকির কথায়, “চিনা আগ্রাসনের জায়গা থেকে স্ট্র্যাটেজিক কারণেই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে উত্তরবঙ্গ অতিরিক্ত স্পর্শকাতর।” এই এলাকার মধ্যেই রয়েছে ডোকলাম এবং নাথুলা সীমান্ত। এছাড়া কালিম্পং জেলার বিন্দু সংলগ্ন হা এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গালওয়ান বা ডোকলাম অথবা অতি সম্প্রতি তাওয়াংয়ে চিনা আগ্রাসনের চেষ্টা ঘিরে ফের হইচই শুরু হয়েছে। দেশের সীমান্ত রক্ষায় মোবাইল সারফেস টু এয়ার ডিফেন্স অ্যালার্ট করেছে ভারত। পাশাপাশি হাসিমারায় প্রস্তুত রয়েছে র্যাফায়েল। অরুণাচলে চিনের আগ্রাসনের চেষ্টা পরিকল্পিত বলেই মনে করছে ভারত।
ফের একই ছকে আক্রমণ আসতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। তাই চিনা আগ্রাসন মোকাবিলায় উত্তরবঙ্গ সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সামরিক সাজসজ্জার আরও বিস্তৃতি দরকার বলে মনে করছেন উত্তরেরর বিশিষ্টজন-সহ প্রবীণেরা। অর্থাৎ উত্তরের স্ট্রাটেজি এবং ভারতীয় সেনার বাড়তি নজর নিয়েই এখন আলোচনায় উত্তরের প্রবীণেরা।
উত্তরে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি সম্পূর্ণ করার ব্যাপারে গতি বাড়াচ্ছে কেন্দ্র। শিলিগুড়ির কাছে সেবক থেকে সিকিমের রংপো পর্যন্ত তৈরি হচ্ছে পাহাড়ের গুহাপথে রেলপথ নির্মাণের কাজ। সেই কাজ দ্রুত শেষ করে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রকল্প চালুর জোর চেষ্টার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।
পরবর্তী পর্যায়ে ওই রেলপথ সম্প্রসারণ করে রেলকে নিয়ে যাওয়া হতে পারে ভারত-চিন সীমান্তের কাছাকাছি শেরথাং পর্যন্ত। তাহলে রেলের মাধ্যমে দ্রুত সামরিক জওয়ান ও নানা রসদ দ্রুত খুব সহজে নিয়ে যাওয়া যাবে নাথুলায়। এখন জোরকদমে এগোচ্ছে সেই কাজ। ইতিমধ্যে রাফায়েলও এসে গিয়েছে তাওয়াংয়ে।
৬২-র ভারত-চিন যুদ্ধ দেখেছিলেন শিলিগুড়ির বাসিন্দা, বিশিষ্ট অর্থনীতিবীদ সৌমেন নাগ। তিনি বলেন, “৬২-র যুদ্ধ দেখেছিলাম। দেখেছিলাম মৃত্যু-মিছিল। তবে এখন দেশ আত্মনির্ভর। গতকালই অগ্নি-৫-এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। স্ট্র্যাটেজিক কারণেই ভারত ও চিন এই যে সংঘাত হচ্ছে, তাতে উত্তরবঙ্গের অবস্থান এবং উত্তরবঙ্গকে সামনে রেখে দু’দেশের টানাপোড়েন আগেও অনেকবার হয়েছে।
পাশাপাশি অরুণাচলেও তাওয়াংয়ের ঘটনা ফের সামনে এসেছে। ফলে আশঙ্কার একটা দোলাচল আমাদের মধ্যেও আছে। তবে যুদ্ধ হলে দু দেশেই অর্থনীতি জোর ধাক্কা খাবে। তাই চিন নিশ্চয়ই তা মাথায় রাখবে। তাছাড়া ভারত এখন দুর্বল দেশ নয়। সেটাও চিনকে মাথায় রাখতেই হবে।” সবমিলিয়ে, চিনকে যোগ্য জবাব দিতেই হবে বলে যেমন কোমর বেধে নামছে কেন্দ্র, তেমনই গোটা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ-আশঙ্কার প্রহর গুনছেন উত্তরবঙ্গের প্রবীণেরা।



