রাজ্য

হবু স্ত্রীর নামে একাধিক লোন, শোধ যাতে না করতে হয় তার জন্য নৃশংস-ঘৃণ্য আচরণ হবু স্বামী ও দেওরের

নিজস্ব সংবাদদাতা: জঙ্গলের মধ্যে নগ্ন, কার্যত বেহুঁশ অবস্থায় পড়ে রয়েছে একটি মেয়ে। সকালে স্থানীয় বাসিন্দারাই তা প্রথমে দেখতে পারেন। এরপর চোখেমুখে জল দেওয়ায়, তাঁর জ্ঞান ফিরে আসে। প্রশ্ন করতে, তিনি যা বললেন, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। ধর্ষণ করে খুনের চেষ্টা করেছেন তাঁর হবু স্বামী ও দেওর, নিজের মুখে সে কথাই জানাচ্ছেন মহিলা। এমনকি সারা শরীরে দেওয়া হয়েছে সিগারেটের ছ্যাঁকাও। ওই মহিলাকে আপাতত উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। ধর্ষণ করে খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

ঠিক কী ঘটেছে? নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, তাঁর বাড়ি মুর্শিদাবাদে। পরিবারের সদস্যরা দেখেই তাঁর বিয়ে ঠিক করেছিলেন। নির্যাতিতার বক্তব্য, বিয়ের আগেই তাঁর নামে বিভিন্ন জায়গা থেকে লক্ষাধিক টাকার ঋণ নিয়েছিলেন হবু স্বামী। এর মাঝে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে আসার নাম করে ওই মহিলাকে বাড়ি থেকে নিয়ে আসেন হবু স্বামী। সঙ্গে ছিলেন দেওর, শ্বশুর ও শাশুড়িও। মহিলার অভিযোগ, পথে তাঁকে খাবার খেতে দেওয়া হয়েছিল। সেটা খাওয়ার পরই কার্যত বেহুঁশ হয়ে যান তিনি। যখন জ্ঞান ফেরে, তিনি তখন শিয়ালদায়। ফের তাঁকে খেতে দেওয়া হয়। এরপর তাঁর যখন জ্ঞান ফেরে তিনি তখন জঙ্গলের ধারে একটা রাস্তায়। সারা শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা অনুভব করছেন। হাতে সিগারেটের অজস্র ছ্যাঁকা। মহিলার অভিযোগ, বেহুঁশ অবস্থাতেই তিনি অনুভব করতে পেরেছিলেন, তাঁর হবু ও স্বামী ও দেওর ধর্ষণ করেছে। তাঁর শরীরে সার আছে কিনা, সেটা দেখার জন্যই সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে।

বেঁহুশ ও নগ্ন অবস্থায় নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার রাস্তার পাশে একটি এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করেন।  পুলিশকে খবর দেওয়ার পর তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রথমে সোনারপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আপাতত সেখানেই চিকিৎসাধীন তিনি। ঘটনার পর থেকে পলাতক দুই অভিযুক্ত। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।মহিলার বক্তব্য, “আমাকে ওরা কিছু একটা খাইয়ে লালগোলা থেকে আনে। যখন বুঝি, সেটা শিয়ালদা ছিল। আমার হবু স্বামী ও দেওর আমাকে ধর্ষণ করে রাস্তার ধারে ফেলে রেখে গিয়েছে।” নির্যাতিতার বক্তব্যও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Related Articles

Back to top button