রাজ্য

স্ত্রীর তৃণমূল যোগে কেঁদে ফেলেছিলেন, এবার মিউচুয়াল ডির্ভোস পেতে আদালতে সৌমিত্র-সুজাতা

নিজস্ব সংবাদদাতা: ২০২০ সালের ২১ ডিসেম্বর। সৌগত রায় ও কুণাল ঘোষের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁয়ের স্ত্রী সুজাতা মণ্ডল । ওই সময় তৃণমূলের পতাকা তুলে নিয়ে বিজেপিরউদ্দেশে একের পর এক অভিযোগ করেছিলেন তিনি। কেঁদে ফেলেছিলেন সাংবাদিক বৈঠকে সৌমিত্র। অশ্রু ভেজা নয়নে বলেছিলেন “তৃণমূল এত বড় চোর! বালি চুরি করত, কয়লা চুরি করত, গরু চুরি করত, শেষে আমার বউকেও চুরি করল”। জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, সুজাতার সঙ্গে তাঁর বৈবাহিক সম্পর্ক-ও শেষ।

এবার খাতায় কলমে সেই সম্পর্কে ইতি টানতে দুজনে হাঁটলেন আইনি পথে। মিউচুয়াল ডিভোর্সের পথে হাঁটলেন সৌমিত্র খাঁ ও সুজাতা মণ্ডল। তবে আগে থেকেই চলছিল কনটেস্টেড ডিভোর্সের মামলা। এ ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে একজন ডিভোর্সে রাজি না থাকলেও অন্যজন আদালতে করতে পারেন মামলা।

প্রসঙ্গত, গত লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে ঘাসফুল শিবির ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন তৎকালীন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে ফের তাঁকে একই কেন্দ্রে প্রার্থী করে পদ্ম শিবির। কিন্তু আদালতের নির্দেশে সে সময় নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে প্রচারে যেতে পারেননি সৌমিত্র। তাঁর হয়ে প্রচারে নজর টানেন তাঁর স্ত্রী সুজাতা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, স্ত্রী সুজাতার প্রচারে ভর করেই ওই লোকসভা নির্বাচনে ভোট বৈতরনী পার করেন সৌমিত্র। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বেরোনোর কিছুদিন পর থেকেই উভয়ের মধ্যে শুরু হয় সম্পর্কের টানাপোড়েন। স্বামীকে ছেড়ে পৃথক থাকতে শুরু করেন সুজাতা। গেরুয়া শিবির ছেড়ে যোগ দেন তৃনমূলে।

২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃনমূল সুজাতাকে প্রার্থীও করে। সে সময় থেকেই দুজনের সম্পর্কের টানাপোড়েন গড়ায় আদালতে। শুরু হয় কনটেস্টেড ডিভোর্সের মামলা। কিন্তু এবার দুজনের বৈবাহিক সম্পর্কে পাকাপাকি ইতি টানতে উভয়ই আদালতে আবেদন জানালেন মিউচুয়াল ডিভোর্সের। মঙ্গলবার সৌমিত্র খাঁ সশরীরে হাজির না হলেও সুজাতা বাঁকুড়া জেলা আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে ওই মিউচুয়াল ডিভোর্সের আবেদন জানান। সুজাতা বলেন, ডিভোর্স আগেই হয়ে গিয়েছে। শুধু তাতে সিলমোহর দেওয়া বাকি রয়েছে।

সৌমিত্র খাঁও আদালতে মিউচুয়াল ডিভোর্সের আবেদন জানিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। এদিন বিষয়টি নিয়ে তাঁর আইনজীবী মুখ খুললেও সৌমিত্র খাঁর কোনো বক্তব্য মেলেনি। সৌমিত্র খাঁর আইনজীবী বলেন, “সৌমিত্রদা আজ আসেননি। তবে উনি আগে আবেদন করে দিয়েছিলেন আগে। আজ সুজাতা খাঁও করে দিলেন। সহজ কথায় দুপক্ষের তরফে এই মিউচুয়াল ডিভোর্সের মামলা হয়ে গেল। এরপর আইন মেনে ডিভোর্সের মামলা চলবে।”

সুজাতা বলেন, “কেস চলছিলই। আজ মিউচুয়াল ডিভোর্সের আবেদন ফাইল করলাম। এ জন্যই আজ এসেছিলাম। আমি লড়াইয়ের মঞ্চে রয়েছি। আগামীদিনেও লড়াইয়ের মঞ্চে থাকব। নিজের ব্যক্তি পরিচয় ইতিমধ্যেই মানুষের কাছে প্রতিষ্ঠা করে নিয়েছি।” এরপরেই নাম না করে সৌমিত্রকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, “একটা জিনিস ভাল লাগে আমার পরিচয়ে, আমার দয়া-দাক্ষিণ্যে কেউ পরিচিতি পেয়ে রয়েছে।”

Related Articles

Back to top button