‘প্রত্যাখ্যান করায় বাংলার মানুষকে বঞ্চিত করছে বিজেপি’, সংসদে সরব অভিষেক

নিজস্ব সংবাদদাতা: বিভিন্ন খাতে কেন্দ্রের কাছ থেকে টাকা পাচ্ছে না রাজ্য। এই অভিযোগে সরব তৃণমূল কংগ্রেস। এমনকী স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ দেগেছেন। এমনকী, গত অগস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করেও বকেয়া টাকার কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার লোকসভায় রাজ্যকে বঞ্চনা করার অভিযোগ তুলে সরব হলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
একশো দিনের কাজের কত টাকা কেন্দ্রের কাছ থেকে রাজ্যগুলির পাওনা রয়েছে, তা জানতে চান তিনি। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের প্রশ্নের জবাব দেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতি। আর এই উত্তর পাওয়ার পরই বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন অভিষেক। পাল্টা জবাব দিয়েছে গেরুয়া শিবিরও। বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকার বলেন, কাজের হিসেব দিচ্ছে না সরকার। এই জন্যই আটকে রয়েছে টাকা।
সংসদে সরব হওয়ার পর কেন্দ্রের দেওয়া জবাব তুলে ধরে একটি টুইট করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপির পরাজয় নিয়ে খোঁচা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, প্রত্যাখ্যান করায় বাংলার মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে বঞ্চিত করছে বিজেপি। এরপর তিনি লেখেন, একশো দিনের কাজে সব রাজ্য মিলে কেন্দ্রের কাছে এখনও ১০ হাজার ১৬২ কোটি টাকা পাবে। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বাকি রয়েছে ৫ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা।
এর অর্থ, মোট বাকির ৫০ শতাংশের বেশি টাকা বাংলার। তারপরই কেন্দ্রকে খোঁচা দিয়ে লেখেন, ‘এটা আপনাদের সংখ্যা, আমার নয়।’ লোকসভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দেওয়া হিসেবও দেওয়া রয়েছে তাঁর টুইটে।অভিষেকের অভিযোগ নিয়ে পাল্টা রাজ্য়কে আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষ সরকার। তিনি বলেন, কাজের ক্ষতিয়ান কেন্দ্রকে দিচ্ছে না রাজ্য। সেজন্যই টাকা আটকে পড়ে রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে এটা সম্পূর্ণ ভুল।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্র যে শেষ চিঠি দিয়েছিল, তার উত্তর রাজ্য সরকার যা দিয়েছে, তাতে মন্ত্রক সন্তুষ্ট নয়। গাইডলাইন ঠিকমত অনুসরণ করেনি রাজ্য। উল্টে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দাবি করেন, গত কয়েক দশকে পশ্চিমবঙ্গে তেমন উন্নয়ন হয়নি। তাও রাজ্যকে টাকা দেওয়া হয়েছে।



