কেষ্টকে গ্রেফতার করানো শিবঠাকুরের বিরুদ্ধেও মারধরের অভিযোগ!

নিজস্ব সংবাদদাতা: আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে চারদিন আগে অনুব্রতের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ এনেছিলেন বীরভূমের বালিগুড়ি পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান শিবঠাকুর মণ্ডল। শিবঠাকুরের অভিযোগে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয় অনুব্রত মণ্ডলকে। এরমধ্যেই বিস্ফোরক তথ্য এল সাংবাদিকদের হাতে। এই শিবঠাকুরের বিরুদ্ধেই নাকি রয়েছে একাধিক খুনের চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগ। অথচ তাঁর বিরুদ্ধেই কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুব্রত ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণেই কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি শিবঠাকুরের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ২০১৩ সালের ৩ অক্টোবর বেলসরা পঞ্চায়েতের বাসিন্দা দীনবন্ধু মণ্ডলকে মারধর করেছিল বালিগুড়ি পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান শিবঠাকুর মণ্ডল ও তাঁর দলবল। সেই সময় দীনবন্ধু মণ্ডলের জামাইবাবু দীপক মণ্ডল দুবরাজপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করতে যান। সেই সময় তাঁর উপরও হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে শিবঠাকুরের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারী দীপক মণ্ডল বলেন, “শিবঠাকুরের বিরুদ্ধে কোনও কথা বললেই হুমকি দেয়। গ্রামের অনেক লোককেই ও মেরেছে। এমনকী আমায়ও মেরেছে। আর এর সাক্ষী রয়েছে নুরুদ্দিন উকিল। আমায় মারধর করার জন্য যখন অভিযোগপত্র দিতে যাই সেই সময় রাত্রিবেলা একা পেয়ে মারধর করে। সেই সময় ইসলামপুরের প্রচুর মানুষ বেরিয়ে আমায় বাঁচায়।” তিনি আরও জানান, “দুবরাজপুর থানায় অভিযোগ করেছিলাম। যেহেতু ওরা তৃণমূল করে থানা থেকেও তেমন পদক্ষেপ করেনি। উল্টে আমাকে থানায় সারাদিন আটকে রাখে। পরে যখন আমায় ছেড়ে দিয়েছিল তখন থানার মেজবাবু বলেন আমারা সবটাই বুঝতে পারছি। তবে জানোই তো এটা পার্টির একটা প্ল্যান…” তবে শুধু দীপকবাবু একা নয়, একই অভিযোগ করেছেন দীনবন্ধু মণ্ডলও। মারধর প্রসঙ্গ দীপক আরও বলেন, “শিবঠাকুর মারধর করে টেনে হিঁচড়ে ফেলে দেয়। থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে পুলিশ উল্টে আমায় ধরে নিয়ে যায়। এরপর সারাদিন রাখার পর আমায় একটা স্টেটমেন্ট দিতে বলে যে, আমারই দোষ হয়েছে। পরে আমাদের গ্রাম থেকে কিছু লোক গিয়ে মীমাংসা করে। আমি কোনও বিচার পাইনি। এখন আমায় প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। যেহেতু দেখছে মিডিয়ার সামনে আমি কথা বলছি সেই কারণে মেরে ফেলবে বলেছে। গতকালও হুমকি দিয়েছে আমায়।”
যদিও এই বিষয়ে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়ে শিবঠাকুর বলেন, “ওই পাগলটার ব্যাপারে কোনও কথা বলতে চাই না।” এবং সাংবাদিকরা যতবার তাঁকে এই প্রশ্ন করেছেন যে তিনি আদৌ মারধর করেছেন কি না ততবার শিবঠাকুর একই উত্তর দিয়ে দীপক মণ্ডলকে পাগল বলে ফোন কেটে দিয়েছেন।এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া নেওয়ার জন্য জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল । তবে পুলিশ সুপার জানান, তিনি মিটিং-এ ব্যস্ত আছেন। অপরদিকে, জেলা শাসক বিধান রায় বলেন, “এগুলো পুলিশি বিষয়। সেখানে কথা বলুন।”
চারদিন আগে অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেফতার করে দুবরাজপুর থানার পুলিশ। একবছর আগে তৃণমূল কর্মী শিবঠাকুর মণ্ডলকে মারধরের ঘটনায় কেষ্টকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর দুবরাজপুর আদালতে তোলা হলে তাঁকে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে কেষ্ট-মণ্ডলের দিল্লি না যাওয়ার বিষয়টি ভালভাবে দেখেনি বিরোধীরা। বারবার প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, কীভাবে পুলিশ অতি সক্রিয়তার সঙ্গে তৎপর হয়ে কোনও প্রমাণ ছাড়াই শুধুমাত্র পাঁচ লাইনের একটি অভিযোগপত্রের উপর ভিত্তি করে কেষ্ট মণ্ডলের মতো একজন দাপুটে নেতাকে অন্য হেফাজতে থাকাকালীন নিয়ে চলে এলেন। অথচ এই থানার বিরুদ্ধেই ভূরি-ভূরি অভিযোগ উঠেছে আক্রান্তরা বিচার পাননি।



