রাজ্য

জামিন পেলেন অনুব্রত মণ্ডল

নিজস্ব সংবাদদাতা: জামিন পেলেন বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। রাজ্য পুলিশের করা মামলায় জামিন পেলেন তিনি। মঙ্গলবার তাঁকে আবারও দুবরাজপুর আদালতে পেশ করা হয়। সেখানেই জামিন পান তিনি।

একটি বিষয় উল্লেখ্য, দুবরাজপুর আদালতে বিচারক অরিত্রিকা দাসের এজলাসে অনুব্রত মণ্ডলকে পেশ করা হয়েছিল। তবে প্রথম দিন অনুব্রতর তরফে কোনও আইনজীবী ছিলেন না। সেসময় আইনজীবী মলয় মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন, যেহেতু এত তাড়াতাড়ি মামলা হয়েছে, সেক্ষেত্রে আইনজীবী ঠিক করা সম্ভব হয়নি। তারপর অনুব্রতকে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। এদিন অবশ্য অনুব্রতর আইনজীবী ছিলেন, তিনি জামিনের পক্ষে সওয়ালও করেন। তবে এবার প্রশ্ন, জামিন পাওয়ার পর কি তবে দিল্লি যেতেই হবে অনুব্রতকে? সূত্রের খবর, অনুব্রত আপাতত আসানসোল জেলেই থাকবেন।

এই নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “আপন দেশে আইন কানুন সর্বনেশে। কেষ্ট খুঁজেপেতে শিবঠাকুর পেয়েছে। এই শিবঠাকুর এমন মামলা করেছেন, ১২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার, আর ৭ দিনের মধ্যে জামিন। “

আজ অনুব্রত মণ্ডলের আইনজীবী কোনও সওয়ালই করেননি। শুধু বলেন, “আমরা জামিনের আবেদন করেছি। মঞ্জুর করা হোক।” সরকারি আইনজীবী বলেন, “জজ সাহেব মনে করেছেন, তাই জামিন মঞ্জুর করেছেন।”সরকারি আইনজীবী আরও দাবি করেন , তদন্তের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত যিনি থাকেন, তিনিই সব থেকে বড় সাক্ষী। তদন্তকারী অফিসার কাবুল আলি এজলাসে দাঁড়িয়ে বলেন, যে দিন ঘটনা ঘটে, সেদিন তাঁর সঙ্গে কে নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন, সেটা জানা প্রয়োজন।আর সেটা অনুব্রত মণ্ডল ছাড়া আর কেউ বলতে পারবেন না।

সরকারি আইনজীবীর তরফে দাবি করা হয়, এতদিন অনুব্রত মণ্ডল পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন চুপ করেছিলেন, কোনও কথা বলেননি। সোমবার তাঁকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তিনি কিছু কথা বলেছেন। তাছাড়াও ,তদন্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। সে কারণে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন করা হয়।

এবার অনুব্রত মণ্ডলের ঠাঁই কোথায় হবে, সেটাই অবশ্য দেখার।স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর আদালতে পেশ করা হয় অনুব্রত মণ্ডল। দুবরাজপুর আদালতের বিচারক তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।দুবরাজপুর থানা থেকে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে দুবরাজপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।রুটিন চেকআপের জন্য তারপর সেখান থেকে আবার পুনরায় দুবরাজপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সাত দিন পুলিশ হেফাজত শেষ হয়ে আজকে অনুব্রত মণ্ডলকে দুবরাজপুর আদালতে তোলা হবে।শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, আদালতে প্রবেশ করেননি অনুব্রত মণ্ডল। অনুব্রত মণ্ডলকে দেখতে আদালত চত্বরে উৎসুক মানুষের ভিড়। রয়েছে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন।হেফাজতের মেয়াদ শেষে দুবরাজপুর আদালতে তোলা হচ্ছে কেষ্টকে। ইতিমধ্যেই ইডির আর্জিতে মামলার সব নথি দেওয়ার নির্দেশ দুবরাজপুর আদালতের।দুবরাজপুরের তৃণমূল নেতা শিবঠাকুর মণ্ডলকে গলা টিপে খুনের চেষ্টার অভিযোগে বীরভূমের বেতাজ বাদশা অনুব্রত মণ্ডলকে পুলিশ হেফাজতে নেয় পুলিশ।

Related Articles

Back to top button