‘বন্দে ভারতে’র তাল কাটল ‘জয় শ্রীরামে’, মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করতেই কি এমন ধ্বনি? কী বলছে বিজেপি?

নিজস্ব সংবাদদাতা: হাওড়ায় দেশের সপ্তম ‘বন্দে ভারত’ ট্রেনের উদ্বোধন হল শুক্রবার। হাওড়া – নিউ জলপাইগুড়ি রুটে হাইস্পিড এই ট্রেনের উদ্বোধনের কর্মসূচিতে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কিন্তু সেখানেও খানিক তাল কাটল জয় শ্রীরাম স্লোগান ঘিরে। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের অনুষ্ঠানের পুনরাবৃত্তি দেখা গেল বন্দে ভারতের উদ্বোধনেও।
যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে জয় শ্রীরাম স্লোগান উঠতেই পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নেমেছিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকাররা। মমতার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে এসেছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মূল মঞ্চে আর উঠলেন না মুখ্যমন্ত্রী। মঞ্চের ধারেই একটি চেয়ারে বসে থাকলেন। সেখান থেকেই বন্দে ভারতের ফ্ল্যাগ অফ করলেন। প্রধানমন্ত্রীর মায়ের মৃত্যুতে আন্তরিক শোকপ্রকাশও করলেন সেখান থেকে। কিন্তু তারপরও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর সামনে যখন জয় শ্রীরাম ধ্বনি উঠতে শুরু করে, তখন পিছিয়ে থাকেননি তৃণমূলের নেতারাও। অনুষ্ঠানে অরূপ রায় সহ অন্যান্য তৃণমূল নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। সেই সময়েই তৃণমূলের কিছু নেতা পাল্টা জয় বাংলা স্লোগান দিতে শুরু করেন। যদিও অরূপ রায়কে এমন কোনও পাল্টা ধ্বনি দিতে দেখা যায়নি।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা যখন পরিস্থিতি সামাল দিয়ে উঠতে তৎপর, তখন বঙ্গ বিজেপির তরফে কী বলছেন? হুগলির বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় এই স্লোগানের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জবাব, এই স্লোগান বিজেপি কর্মীদের রক্তের সঙ্গে মিশে রয়েছে। নরেন্দ্র মোদীকে পর্দায় দেখে আবেগে থেকে এই স্লোগান বেরিয়ে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করার জন্য এই স্লোগান নয়।
তিনি বলেন, “যখনই বন্দে ভারত এক্সপ্রেস দেখা গিয়েছে, তখন থেকেই স্লোগান শুরু হয়েছে। আজ নরেন্দ্র মোদী আসেননি। ওনার ছবি যখন পর্দায় দেখা গিয়েছে, তখন থেকেই এই স্লোগান শুরু হয়েছে। এটা আমাদের রক্তে রয়েছে। আমাদের ভিতর থেকে বেরোয় এই স্লোগান। এই স্লোগান আমাদের ইমোশন। এর সঙ্গে কোনও রাজনীতি জোড়া উচিত নয়। মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করার জন্য এই স্লোগান নয়। নরেন্দ্র মোদীকে দেখে আমাদের কার্যকর্তাদের আবেগ থেকে এই স্লোগান বেরিয়ে এসেছে।”
প্রসঙ্গত, বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের মুখে অতীতেও বিভিন্ন সময়ে জয় শ্রীরাম স্লোগান শোনা গিয়েছে। অনেক বিজেপি নেতাকেও এই স্লোগান দিতে দেখা গিয়েছে অতীতে। গতকাল বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যও বিজেপির জয় শ্রীরাম স্লোগানের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, “জয় শ্রীরাম তো ভারতের প্রাণের ভাষা। ভারতের হৃদস্পন্দন।”
তৃণমূল মুখপাত্র তথা রাজ্যের শাসক দলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ আবার বলছেন, “বন্দে ভারত এক্সপ্রেস উদ্বোধনের সময় বিজেপি বিধায়করা যেভাবে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিয়েছেন, তাতে খুব পরিষ্কারভাবে বলা যায়, রাজনীতি বা সমাজকে এরা একটি ছেলেখেলায় পরিণত করতে চাইছে। কোনও গঠনমূলক কাজে নয়। রাম তো ভগবান। তাঁকে মনে রাখুন। রামকে রাজনীতিকে ব্যবহার করা হচ্ছে কেন?
যাঁরা রামের পূজারি, তাঁরা জয় শ্রীরাম স্লোগান একশো বার দেবেন। কিন্তু তার সঙ্গে বন্দে ভারতের সম্পর্ক কী? কোথাও কেউ যাওয়ার সময় বলা যায়, দুগ্গা দুগ্গা। অর্থাৎ মা দুর্গার কথা বলা হয়। রাম নাম তো সবাই করে, কিন্তু তাঁর নামের অপব্যবহার করা হচ্ছে কেন? এটিকে অসভ্যতা বলে।”



